মাউন্ট এভারেস্ট জয়ের ইতিহাসে এক নতুন রেকর্ড তৈরি হয়েছে। চলতি ২০২৬ সালে এযাবৎকালের রেকর্ডসংখ্যক পর্বতারোহী বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গটি সফলভাবে আরোহন করেছেন। নেপাল সরকারের পর্যটন বিভাগের বরাত দিয়ে দেশটির জাতীয় দৈনিক কাঠমান্ডু পোস্ট এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, এ বছর রেকর্ড ১ হাজার ৮ জন পর্বতারোহী এভারেস্টের চূড়ায় পা রাখতে সক্ষম হয়েছেন। ইতিহাসে এর আগে কোনো একটি একক বছরে এত বিপুল সংখ্যক মানুষ এভারেস্ট জয় করতে পারেননি।
হিমালয় পর্বতমালার অন্তর্গত ২৯ হাজার ৩২ ফুট উঁচু এভারেস্ট বিশ্বজুড়ে নেপাল এবং চীনের তিব্বত অংশ জুড়ে বিস্তৃত। দুই দিক থেকেই পর্বতারোহণের সুযোগ থাকলেও বিশ্বের অধিকাংশ পর্বতারোহী নেপাল অংশটি ব্যবহার করেই আরোহন করতে বেশি পছন্দ করেন। ১৯৫৩ সালে নিউজিল্যান্ডের অ্যাডমন্ড হিলারি ও তেনজিং নোরগের প্রথম ঐতিহাসিক এভারেস্ট বিজয়ের পর থেকেই মূলত বিশ্বজুড়ে পর্বতারোহীদের কাছে অন্যতম আকর্ষণে পরিণত হয় এই শৃঙ্গ। আবহাওয়াগত কারণে বছরের কেবল এপ্রিল এবং মে; এই দুই মাস এভারেস্টে আরোহনের জন্য উপযোগী থাকে, বাকি ১০ মাস এখানকার পরিবেশ পর্বতারোহণের অনুকূলে থাকে না।
নেপাল সরকারের নিয়ম অনুযায়ী, এভারেস্টে আরোহন করতে যাওয়া বিদেশি পর্বতারোহীদের সাথে একজন স্থানীয় গাইড থাকা বাধ্যতামূলক। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপিকে স্থানীয় গাইডরা জানিয়েছেন, এভারেস্ট অভিযানের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো আবহাওয়া। তবে এপ্রিল এবং মে মাসে আবহাওয়া তুলনামূলক উষ্ণ থাকায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেক কমে আসে। তাছাড়া বর্তমান আধুনিক যুগে ইন্টারনেটের কল্যাণে এভারেস্টে আরোহন আগের চেয়ে অনেক সহজ ও নিরাপদ হয়েছে। এখন দ্বিতীয় বেসক্যাম্পে বসেই চূড়ার আবহাওয়া কেমন তা নিখুঁতভাবে জানা সম্ভব হয়, যার ফলে দুর্ঘটনার হার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।
নেপালের পর্যটন বিভাগের মহাপরিচালক রামকৃষ্ণ লামিচানে জানিয়েছেন, এর আগে এক বছরে সর্বোচ্চ সফল আরোহনের রেকর্ডটি ছিল ২০১৯ সালের। ওই বছর ৮৭২ জন অভিযাত্রী সফলভাবে এভারেস্টের চূড়ায় উঠেছিলেন। এবার সেই রেকর্ড ভেঙে এক হাজার পার হলো।
বিডি প্রতিদিন/এনএইচ