সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে কার্গো বিমানে পাঠানো প্রবাসীদের প্রায় ১৫০০ টন পণ্য চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দরে আটকা পড়ে যাওয়ায় চট্টগ্রামে পণ্য পাঠানো বন্ধ রেখেছে আমিরাতের প্রায় সব বাংলাদেশি ডোর টু ডোর কার্গো প্রতিষ্ঠান। এতে করে অচল হয়ে পড়েছে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীক অনেক কার্গো প্রতিষ্ঠান। টানা দুই মাসেও চট্টগ্রাম বিমানবন্দর থেকে মাল খালাস না হওয়ায় ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত! আটকা পড়া পণ্যের সন্ধানে প্রতিদিন ভিড় করা গ্রহকেদের গাল-মন্দ ও তোপের মুখে যেমন পড়তে হচ্ছে তাদের, তেমনি বেশ কিছু মালামাল নষ্ট ও হারিয়ে যাওয়ার জোরালো অভিযোগ তুলেছেন কার্গো ব্যবসায়ীরা।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, ‘ব্যবসার পলিসি মাথায় রেখে নষ্ট ও হারিয়ে যাওয়া পণ্যের ক্ষতিপূরণ গুণতে হবে কার্গো প্রতিষ্ঠানগুলোকে। এই ক্ষতির পরিমাণ কত হবে তা নিশ্চিতও নই।’ তবে কেউ কেউ বিকল্প পথ হিসেবে জাহাজে পণ্য পাঠালেও মালামাল দেশে পৌঁছতে তিনগুণেরও বেশি সময় লাগছে। বিমানে মালামাল কেজিতে দশ দিরহাম ( দুইশ দশ টাকা) চার্জে দেশে পৌঁছতে সময় লাগতো পনের দিন। কিন্তু জাহাজে প্রতি কেজিতে ছয় দিরহাম ( এক'শ পঁচিশ টাকা) চার্জ এলেও পণ্য পৌঁছতে সময় লাগছে দেড় মাস। রেট কম হলেও জাহাজে সময় বেশি লাগায় পণ্য নষ্ট হবার ঝুঁকি বেশি বললেন ব্যবসায়ীরা।
আফিয়া কার্গো সার্ভিসের পার্টনার মোহাম্মদ মুছা বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, চট্টগ্রামে সিস্টেম চালু থাকলেও বিমান বন্দর থেকে অনেক মালামাল খালাস না হওয়ায় দুবাই থেকে কেউই মালামাল ছাড়ছে না। এমনকি চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে নতুন কোনো পণ্য গ্রহণও করা হচ্ছে না। বলতে পারেন, আপাতত চট্টগ্রামের সাথে কোনো ব্যবসা নেই।
মদিনা কার্গো এলএলসির ম্যানেজার অাশুতোষ পাল জানান, চট্টগ্রাম কেন্দ্রের সঙ্গে ব্যবসা পুরোপুরি বন্ধ। আমরা প্রতি সপ্তাহে দুবাই থেকে ৫-৬ টন করে পণ্য পাঠাতাম। রমজানের পূর্বেই প্রায় ২০ টন মালামাল চট্টগ্রাম বিমান বন্দরে আটকে পড়ায় নতুন করে পণ্য পাঠানো বন্ধ করে দিই। গত দুই দিনে ১০টন খালাস হলেও বাকি ১০ টন এখানো আটকে আছে বিমান বন্দরে। অনেক মালামাল খুঁজেও পাওয়া যাচ্ছে না। আবার অনেক পণ্য বাইরে পড়ে থাকতে থাকতে নষ্ট হয়ে গেছে। এসব পণ্যের ক্ষতিপূরণ আমাদেরকে গুণতে হবে।
এদিকে, দুবাই থেকে দেশে পণ্য পাঠিয়ে এখনো স্বজনের কাছে পণ্য সামগ্রী না পৌঁছায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে প্রবাসীরা। মোহাম্মদ ইসমাইল নামের একজন ফেনী প্রবাসী বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানান, রমজানের জন্য জুন মাসে পণ্য সামগ্রী দেশে পাঠালেও কোরবানের ঈদে পাবে কিনা সন্দেহ! দুবাইতে পণ্য সামগ্রী রিসিভ করেছিলো বিডিএস কার্গো। তারা সর্বশেষ রমজানের ঈদের পরে পণ্য সামগ্রী বুঝিয়ে দেয়ার কথা থাকলেও এখনো দেশে পণ্য পায়নি স্বজনরা। এমনিতে দুবাইয়ে অনেক কার্গো প্রতিষ্ঠান চোখে পড়ে। এদের অনেকে বিমানে পণ্য পাঠানো নাম করে গ্রহকের পণ্যে অধিক লাভের আশায় জাহাজে পাঠাচ্ছে। যার কারণে ১৫ দিনের কথা বলে ২/৩ মাস হয়ে গেলোও দেশে মালামাল পাওয়া যায় না।
কাজী তৌহিদুল আলম বলেন, কার্গো সার্ভিসের মালামাল নিয়ে সৃষ্ট নাটকীয় জটিলতার জন্য চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমান বন্দরের সংশ্লিষ্ট কাস্টমস কর্মকর্তা ও বিমান বন্দর কর্তৃপক্ষ দায়ী। এসব অপরাধের সঙ্গে জড়িত অসাধু কর্মকর্তা কর্মচারীদের অপসারণ করে যোগ্য, সৎ অফিসার নিয়োগ দেওয়ার জোর দাবি জাানাচ্ছি। যে সকল মালামাল মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে নষ্ট হয়েছে কিংবা হারানো গেছে কর্তৃপক্ষকে তার খেসারত দিতে হবে। অন্যথায় প্রবাসীদের ঘামে ভেজা অথের্র ঋণ শোধ হবেনা।
বিডি-প্রতিদিন/ ০৮ আগস্ট, ২০১৫/ রশিদা