শিরোনাম
প্রকাশ : ২২ জানুয়ারি, ২০২১ ১০:৫৪
প্রিন্ট করুন printer

কাগজপত্রহীনদের বহিষ্কারাদেশ স্থগিত ১০০ দিন

লাবলু আনসার, যুক্তরাষ্ট্র

কাগজপত্রহীনদের বহিষ্কারাদেশ স্থগিত ১০০ দিন

১০০ দিনের মধ্যে কোন কাগজপত্রহীন অভিবাসীকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা হবে না। ২১ জানুয়ারি থেকে এ নির্দেশ কার্যকর হয়েছে। প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের নির্দেশে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্টের পক্ষ থেকে ২০ জানুয়ারি এই ঘোষণা দেয়া হয়েছে। 

এরফলে বাইডেন কর্তৃক কংগ্রেসে প্রেরিত ১১ মিলিয়ন কাগজপত্রহীন অভিবাসীকে ওয়ার্ক পারমিটের পথ ধরে ৫ বছর পর গ্রীণকার্ড প্রদান এবং তারও তিন বছর পর সিটিজেনশিপ প্রদানের যে বিল (U.S. Citizenship Act of 2021) পাশের সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে, তার আগ পর্যন্ত আর কাউকে বহিষ্কারের আতংকে দিনাতিপাত করতে হবে না। 

তবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অপেক্ষায় যারা দক্ষিণের সীমান্তে অপেক্ষা করছে, তাদের ব্যাপারে কিছু বলা হয়নি। এমনকি, যাদের এসাইলামসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে গ্রীণকার্ডের আবেদন পেন্ডিং রয়েছে তাদের কথাও নেই। শুধুমাত্র যাদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই বহিষ্কারের আদেশ জারি হয়েছে অথবা সীমান্ত অতিক্রম করার পর কোন প্রোগ্রামে আবেদনই করেনি, তেমন কাগজপত্রহীনরা এ সুবিধা পাবে বলে মনে করা হচ্ছে। 

অভিবাসন ইস্যুতে জো বাইডেনের এসব পদক্ষেপকে অভিনন্দিত করে খ্যাতনামা এটর্নি ও ডেমক্র্যাটিক পার্টির ডিস্ট্রিক্ট লিডার মঈন চৌধুরী বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, সর্বশেষ সার্কুলারের সুবিধা সবচেয়ে বেশী পাবে মেক্সিকোসহ সেন্ট্রাল আমেরিকার বিভিন্ন দেশের লোকজন। বাংলাদেশির সংখ্যাও হাজার পঞ্চাশেক হতে পারে। তাই এই নির্দেশের পর কমিউনিটিতে স্বস্তি এসেছে। বিশেষ করে দায়িত্ব গ্রহণের পরই ২০ জানুয়ারি অপরাহ্নের কংগ্রেসের প্রতি অভিবাসন-ব্যবস্থার সংস্কারের জন্যে যে আহ্বান জানানো হয়েছে, সেটি অবশ্যই যুগান্তকারি একটি ঘটনা। সেখানেও বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশসমূহের কাগজপত্রহীনরা খুব বেশি ফায়দা পাবে বলে মনে করছি না। 

এটর্নি মঈন বলেন, এজন্যে ২১ জানুয়ারি ইউএস সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা নিউইয়র্কের ডেমক্র্যাট সিনেটর চাক শ্যুমারের অফিসে টেলিফোন করে অনুরোধ জানিয়েছে, শুধু কাগজপত্রহীনদের গ্রীণকার্ডের ব্যবস্থা হলে একইভাবে মেক্সিকোসহ সেন্ট্রাল আমেরিকানরাই পুরো সুবিধা পাবে। বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ানদের খুব অল্পসংখ্যক মানুষ মেক্সিকো সীমান্ত অতিক্রম করেছে যুক্তরাষ্ট্রে আসার সময়। কাগজপত্র যাদের এখনও হয়নি তার সিংহভাগ এসেছেন বৈধ ভিসায় এয়ারপোর্ট হয়ে। তাই তারা কোন না কোন প্রোগ্রামে স্থায়ীভাবে বসবাসের আবেদন করেছেন। অনেকের আবেদন এখনও পেন্ডিং রয়েছে। যাদের আবেদন নাকচ হয়েছে তার বড় একটি অংশ ইতিমধ্যেই স্বেচ্ছায় যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করেছে অথবা গা-ঢাকা দিয়ে রয়েছেন। যারা গা ঢাকা দিয়ে রয়েছেন তারা বহিষ্কার স্থগিতের সুবিধাসহ বৈধতা প্রদানের সুযোগ পাবেন। আর যাদের আবেদন পেন্ডিং রয়েছে তারা কোন সুবিধাই পাবেন না যে বিল কংগ্রেসে (U.S. Citizenship Act of 2021) উত্থাপনের কথা হচ্ছে। 

এটর্নি মঈন বলেন, আমি সিনেটরের অভিবাসন বিষয়ক কর্মকর্তাকে অনুরোধ জানিয়েছি বিলটি উত্থাপনের আগেই যেন ‘পেন্ডিং থাকা আবেদনকারিরা নতুন সুবিধার অন্তর্ভূক্ত হতে পারে-তেমন সুযোগ তৈরী করতে। এ নিয়ে কমিউনিটির সর্বস্তরের নেতৃবৃন্দকেও নিজ নিজ এলাকার সিনেটর-কংগ্রেসম্যানের সাথে দেন-দরবারের বিকল্প নেই।’ এছাড়া, ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্ট ভিসায় যারা রয়েছেন তারাও কোন সুবিধা পাবেন না। 
অভিবাসন বিষয়ক প্রখ্যাত এটর্নী অশোক কর্মকার বলেন, সিএসএস-লুলাক কর্মসূচিতে যারা গ্রীণকার্ড পাননি, তারাও কাগজপত্রহীন হিসেবে ঘোষিত সুবিধা পাবেন। এছাড়া, যারা এসাইলামের পর শুধু ওয়ার্কপারমিট পেয়েছেন তারা বহিষ্কারের বাইরে থাকলেও (U.S. Citizenship Act of 2021)এই বিলের সুবিধা পুরোপুরি ভোগ করতে সক্ষম হবেন কিনা তা জানা যাবে বিলটি পাশের পর। উভয় এটর্নী সংশ্লিষ্ট সকলকে পরামর্শ দিয়েছেন নিজ নিজ  আইনজীবীর পরামর্শক্রমে সবকিছু করতে। বহিষ্কারাদেশ স্থগিত করা হলো বলে গুরুতর অপরাধী কিংবা সমাজের জন্যে মারাত্মক হুমকি হিসেবে চিহ্নিতরা আইনের দৃষ্টির মধ্যেই থাকবেন। এমনকি কংগ্রেসে ‘ইউএস সিটিজেনশিপ এ্যাক্ট অব ২০২১’ পাশ হলেও গুরুতর অপরাধী হিসেবে চিহ্নিতরা সে সুযোগ কখনোই পাবে না। 
কাগজপত্রহীন কত মানুষ আছে তার সঠিক কোন তথ্য কারো কাছেই নেই। তবে ২০১৭ সালে পিউ রিসার্চ সেন্টারের এক জরিপ অনুযায়ী ১১ মিলিয়ন কাগজপত্রহীন অভিবাসীর অর্ধেকই কমপক্ষে ১৫ বছর যাবত স্থায়ীভাবে বসবাসের অপেক্ষায় বহিষ্কারের ঝুঁকি নিয়েই যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন। এমন একজন বাংলাদেশী সম্প্রতি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। তিনি নিউইয়র্কে এসেছিলেন ৩০ বছর আগে। মারা যাবার পর লাশ গেছে নিজ পরিবারের কাছে। এমন আরো হাজার হাজার বাংলাদেশীর সাক্ষাৎ মেলে নিউইয়র্ক, নিউজার্সি, পেনসিলভেনিয়া, কানেকটিকাট, ওয়াশিংটন মেট্র এলাকা, ফ্লোরিডা, জর্জিয়া, মিশিগান, টেক্সাস আর ক্যালিফোর্নিয়ায়। বারাক ওবামার আমলে অর্থাৎ ২০১৩ সালে সিনেটে একটি বিল পাশ হয়েছিল ডেমক্র্যাটদের নিরঙ্কুশ সমর্থনে। কিন্তু প্রতিনিধি পরিষদের নেতৃত্বে রিপাবলিকানরা থাকায় সেটি কার্যকর হতে পারেনি। এবার অবশ্যই কংগ্রেসের উভয় কক্ষেই ডেমক্র্যাটরা নেতৃত্ব পেয়েছে। 

প্রসঙ্গত: উল্লেখ্য, ট্রাম্পের আমলে ইমিগ্রেশন কোর্টে ঝুলে থাকা আবেদনের সংখ্যা ১৩ লাখ ছাড়িয়েছে। এগুলো পেন্ডিংয়ের গড় সীমা আড়াই বছরের বেশি। বাইডেনের প্রত্যাশা অনুযায়ী সকলকে লিগ্যাল স্ট্যাটাস দেয়ার কার্যক্রম শুরু হলে পেন্ডিং আবেদনের সংখ্যা রাতারাতি কমে আসবে বলে এটর্নীরা মনে করছেন। 

এদিকে, হোমল্যান্ড সিকিউরিটির ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী ডেভিড পিকস্কি আইসসহ বিভিন্ন এজেন্সীকে জানিয়েছেন কাগজপত্রহীনদের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে। ট্রাম্পের নির্দেশে তৃতীয় কোন দেশে এসাইলাম প্রার্থনার পর তা নাকচ হলেই কেবলমাত্র যুক্তরাষ্ট্রে এসাইলামের আবেদন করা যাবে, এ কারণে প্রায় ৬০ হাজার বিদেশী এখন মেস্কিকোকে অবস্থান করছেন। তাদের অবস্থা কী হবে সেটিও বিস্তারিতভাবে বাইডেন প্রশাসনকে জানাতে চায় হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্ট। 

বিডি-প্রতিদিন/ সালাহ উদ্দীন


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

প্রকাশ : ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ১৩:২৭
প্রিন্ট করুন printer

কানাডা ইমিগ্রেশনের মনগড়া তথ্য দিয়ে হচ্ছে প্রতারণা, সতর্কতার পরামর্শ

অনলাইন ডেস্ক

কানাডা ইমিগ্রেশনের মনগড়া তথ্য দিয়ে হচ্ছে প্রতারণা, সতর্কতার পরামর্শ

মনগড়া, ভুয়া তথ্য দিয়ে কানাডায় ইমিগ্রেশনের নামে সাধারণ মানুষকে প্রতারিত করছে একটি চক্র। ওয়ার্ক পারমিট, স্টুডেন্ট ভিসা, চাকরি পাইয়ে দেয়া বা  ইমিগ্রেশন করিয়ে দেয়ার কথা বলে এরা সাধারণ মানুষকে প্রলুব্ধ করে বলে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন কানাডার  ইমিগ্রেশন বিষয়ক তিন বিশেষজ্ঞ।

তারা জনসাধারণকে প্রতারণার হাত থেকে বাঁচাতে ইমিগ্রেশন বিষয়ে সঠিত তথ্য তুলে ধরার তাগিদ দিয়ে বলেন, ইমিগ্রেশনের সুযোগ সুবিধা সংক্রান্ত সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের আরও সতর্কতা অবলম্বন করা দরকার।

কানাডার বাংলা পত্রিকা 'নতুনদেশ'-এর প্রধান সম্পাদক শওগাত আলী সাগরের সঞ্চালানায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সম্প্রচারিত 'শওগাত আলী সাগর লাইভে' তারা এই মতামত দেন। স্থানীয় সময় গতকাল বুধবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে 'কানাডা ইমিগ্রেশনের মিথগুলো' শিরোনামে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।  
 
ভুল তথ্য কিংবা বিকৃত তথ্যের মাধ্যমে কানাডায় ইমিগ্রেশনের নামে প্রতারণার নানা চিত্র তুলে ধরে আলোচনা করেন এডুকেশন কনসাল্টিং এজেন্ট কায়েসুর রহমান, ইউটিউব ভিডিও কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ও সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং বিশেষজ্ঞ  সিদ্দিকুর রহমান এবং ইমিগ্রেশন নিউজ২৪ ডটকম-এর সম্পাদক ও প্রকাশক  উজ্জল দাশ। 

আলোচনাকালে বক্তারা কানাডায় ইমিগ্রেশনের যে কোনো তথ্যের জন্য কানাডা সরকারের  অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের  (https://www.canada.ca/en/services/immigration-citizenship.html) উপর  নির্ভর করার পরামর্শ দেন। একই সঙ্গে তারা কানাডা সরকারের অনুমোদিত বা লাইসেন্সপ্রাপ্ত নয় এমন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ইমিগ্রেশন বিষয়ক কোনো সেবা না নেয়ার পরামর্শ দেন।

আলোচনায় অংশ নিয়ে এডুকেশন কনসাল্টিং এজেন্ট কায়েসুর রহমান বলেন, সন্তানদের কানাডায় ভর্তি করা হলেই বাবা মা কানাডায় চলে এসে কাজ শুরু করতে পারেন এমনকি ইমিগ্রেশন পেয়ে যাবেন- এমন একটি কথা বাংলাদেশের প্রচার পেয়েছে। এটি মিথ্যা তথ্য। বিদেশি শিক্ষার্থীরা কানাডায় পড়াশোনা শেষ করে নির্দিষ্ট শর্তাবলী পূরণ করা সাপেক্ষে ইমিগ্রেশনের জন্য আবেদন করতে পারেন। কিন্তু কোনো শিক্ষার্থীর বাবা মা এসে কাজ করার জন্য ওয়ার্ক পারমিট পান না। 

তিনি আরও বলেন, অল্পবয়সী শিক্ষার্থীদের বাবা-মা একজনকে ভিসা দেয়া হয় সন্তানের সঙ্গে থাকার জন্য এবং তিনি এখানে ভিজিটর হিসেবেই অবস্থান করেন।

কানাডায় শিক্ষার্থী হিসেবে আসতে আগ্রহীদের আগে থেকেই প্রয়োজনীয় হোম ওয়ার্ক করার পরামর্শ দিয়ে কায়েসুর রহমান বলেন, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রভর্তির বিভিন্ন নিয়মাবলী আছে, ভিসার জন্য আলাদা শর্তাবলী আছে। এগুলো সম্পর্কে যথাযথ উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ না করলে প্রতারিত হওয়ার আশঙ্কা থাকবে।

ইউটিউব ভিডিও কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ও সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং বিশেষজ্ঞ  সিদ্দিকুর রহমান ওয়ার্ক পারমিট এবং কানাডায় কাজ পাইয়ে দেয়ার নামে প্রতারণার নানা চিত্র তুলে ধরে বলেন, কোনো কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠান চাইলেই বিদেশ থেকে কর্মী নিয়ে আসতে পারে না। 'কানাডায় পাওয়া যাচ্ছে না'- এটি প্রমাণ করতে পারার পরই সরকার বিদেশ থেকে লোক আনার অনুমতি দেয়। কাজেই যারা ওয়ার্ক পারমিট দেয়ার কথা বলে বা ওয়ার্ক পারমিট পাইয়ে দেয়- তারা আসলে ভূয়া কাগজ দিয়ে প্রতারণা করে। তাদের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। 

নিজের ইউটিউব চ্যানেলের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে সিদ্দিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোয়ই এই ওয়ার্ক পারমিটের কথা শোনা যায়। কানাডায় ইমিগ্রেশনের অনেকগুলো খাত আছে বলে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ইমিগ্রেশনের শর্তাবলী এবং নিজের যোগ্যতা মিলিয়েই ইমিগ্রেশনের চেষ্টা করা উচিৎ।

ইমিগ্রেশন নিউজ২৪ ডটকম-এর সম্পাদক ও প্রকাশক  উজ্জল দাশ বলেন,  মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে কাজ করতে যাওয়ার সাথে অনেকে কানাডায় ইমিগ্রেশনকে মিলিয়ে ফেলেন। কোনো দালাল বা আইনজীবী, ইমিগ্রেশন কনসালট্যান্ট কাউকে কানাডায় ভিসা বা ইমিগ্রেশন করিয়ে দিতে পারেনা- এটি অনেকেই বিবেচনায় রাখেন না। ফলে প্রতারণার সুযোগ তৈরি হয়।

তিনি আরও বলেন, গণমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং ইউটিউবে কানাডা ইমিগ্রেশনের খবর বা তথ্য পরিবেশনে অনেক সময় মূল তথ্য পাশ কাটিয়ে বাড়তি তথ্য বা ভুল ব্যাখ্যা যোগ করে দেয়া হয়। এতে মানুষের মনে বিভ্রান্তি তৈরি হয় এবং প্রতারকরা এই সুযোগটি কাজে লাগায়। ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত সংবাদ এবং বিজ্ঞাপন  প্রচার বা প্রকাশের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের  জন্য গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

'নতুনদেশ' পত্রিকার প্রধান সম্পাদক শওগাত আলী সাগর বলেন, কানাডায় ইমিগ্রেশনের ব্যাপারে বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে আগ্রহ বাড়ছে। এটিকে কাজে লাগিয়ে প্রতারক চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। কানাডার প্রতি বাংলাদেশের মানুষের আগ্রহকে আমরা ইতিবাচক হিসেবে দেখি। আমরা চাই বাংলাদেশ থেকে আরও বেশি ইমিগ্র্যান্ট এবং শিক্ষার্থী কানাডায় আসুক। সেই কারণেই প্রতারণা এবং ভুল প্রচারণার বিরুদ্ধে আমাদের কথা বলতে হবে।  

তিনি আরও বলেন, বিশ্বায়নের এই যুগে তথ্য যাচাই বাচাই করা মোটেও কঠিন কোনো কাজ না। গণমাধ্যমের জন্য সেটি আরো সহজ। পত্রিকাগুলো এখন প্রবাস থেকে অনেক ফ্রিল্যান্সারদের লেখা প্রকাশ করে। সেই সব লেখার তথ্যের বিশেষ করে ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত লেখার তথ্যের যথার্থতা সম্পর্কে  বাড়তি  মনোযোগ না দিলে ইমিগ্রেশনকে ঘিরে গড়ে ওঠা প্রতারক চক্র সুবিধা নিতে পারে বলে তিনি সতর্ক করে দেন।


বিডি-প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ সিফাত


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

প্রকাশ : ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ১০:৩৮
প্রিন্ট করুন printer

ইব্রাহিম খালেদের মৃত্যুতে ‘লুটেরা রুখো স্বদেশ বাঁচাও’র শোক

কানাডা প্রতিনিধি:

ইব্রাহিম খালেদের মৃত্যুতে ‘লুটেরা রুখো স্বদেশ বাঁচাও’র শোক

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করছে কানাডাভিত্তিক অর্থপাচার ও লুটেরা বিরোধী আন্দোলন ‘লুটেরা রুখো স্বদেশ বাঁচাও’ নামের সংগঠন। 

সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ বলেন, বাংলাদেশের আর্থিক খাতের অনাচার, দুরাচার নিয়ে যে কয়জন সোচ্চার ছিলেন তার মধ্যে খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ অন্যতম। ঋনখেলাপীদের বিরুদ্ধে, ব্যাংকিং খাতের সুশাসনের পক্ষে, শেয়ারবাজারের কারসাজির বিরুদ্ধে ও অর্থপাচারের বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন অকুতোভয় যোদ্ধা।

তারা আরও বলেন, খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ ছিলেন অর্থপাচার ও লুটেরা বিরোধী সত্যবচনে আপসহীন। ‘লুটেরা রুখো স্বদেশ বাঁচাও’ তাকে ও তার ভূমিকা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে।

বিডি প্রতিদিন/ মজুমদার


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

প্রকাশ : ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০২:৪২
আপডেট : ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০২:৪৭
প্রিন্ট করুন printer

মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ইউরো-বাংলা প্রেসক্লাবের উদ্যোগে আলোচনা সভা

গ্রীস প্রতিনিধি

মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ইউরো-বাংলা প্রেসক্লাবের উদ্যোগে আলোচনা সভা

ইউরো-বাংলা প্রেসক্লাবের উদ্যোগে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে এক ভার্চুয়াল আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এসময় করোনায় আক্রান্ত সাংবাদিক আব্দুল কুদ্দুসের সুস্থতা কামনা করে দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। 

প্রেসক্লাব সভাপতি তাইজুল ইসলাম ফয়েজের সভাপতিত্বে সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন চৌধুরীর পরিচালনায় গত ২২ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৮টায় এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এতে অংশ নেন সংগঠনের উপদেষ্টা আন্তর্জাতিক কলামিস্ট ও চিকিৎসক জিন্নুরাইন জায়গীরদার, প্রবাসী সাংবাদিক মাইদুল মিয়া, সিনিয়র সহ-সভাপতি এম আলী চৌধুরী, সহ-সভাপতি সৈয়দ মেহেদি রাসেল, কবি হাবিব ফয়েজী, তাজউদ্দিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক একে আজাদ, সহ-সভাপতি ইলিয়াছ আহমদ, সাংগঠনিক সম্পাদক জাবের আহমদ, অভিবাসন বিষয়ক সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

সভায় ভাষা শহীদদের রুহের আত্মার মাগফিরাত কামনা, বাংলাদেশের নোয়াখালীতে নিহত সাংবাদিক, করোনায় আক্রান্তদের সুস্থতা কামনা,  দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে দোয়া পরিচালনা করেন চিকিৎসক জিন্নুরাইন জায়গীরদার।

 

বিডি-প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ সিফাত


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

প্রকাশ : ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ২১:৩৯
প্রিন্ট করুন printer

সড়ক দুর্ঘটনা

যুক্তরাজ্যে খাবার বিলি করে আর জীবিত ফিরতে পারলেন না বাংলাদেশি দম্পতি

অনলাইন ডেস্ক

যুক্তরাজ্যে খাবার বিলি করে আর জীবিত ফিরতে পারলেন না বাংলাদেশি দম্পতি
নিহত বাংলাদেশি দম্পতি। ছবি- সংগৃহীত

বাড়িতে খাবার বিলি করে ফেরার পথে যুক্তরাজ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি এক দম্পতি নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন আবদুর রহমান মুয়িম (৪৮) ও পাপিয়া বেগম (৩৮)। আবদুর রহমান মুয়িমের বাড়ি মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার মনসুরনগর ইউনিয়নের বিনয়শ্রী গ্রামে। আর তারর বাবার বাড়ি সদর উপজেলার মনুমুখ ইউনিয়নের বাজরাকোনা গ্রামে।

সোমবার (২২ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ সময় রাত আনুমানিক ৩টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আবদুর রহমান মুয়িম ও পাপিয়া বেগম ১৯৯৩ সাল থেকে বার্মিংহামে স্থায়ীভাবে বসবাস করছিলেন।

ঘটনার দিন ওই দম্পতি বার্মিংহাম এলাকার একটি বাড়িতে খাবার বিলি করতে যান। খাবার বিলি করে ঘরে ফেরার পথে তাদের গাড়ি অন্য একটি গাড়ির সঙ্গে ধাক্কা লেগে দুর্ঘটনা ঘটে। তাদের এক ছেলে ও তিন মেয়ে আছে। 

এই মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন দেশে বসবাসকারী পাপিয়া বেগমের ফুফাতো ভাই মৌলভীবাজার সদর উপজেলার বাজরাকোনা গ্রামের মোহাম্মদ আলাম। 

তিনি জানান, সোমবার যুক্তরাজ্যের রেডিস বার্মিংহাম রোডে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পাপিয়া বেগম ঘটনাস্থলেই মারা যান। স্বামী ব্যবসায়ী আবদুর রহমান মুয়িমকে নিকটবর্তী একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। 

বিডি প্রতিদিন/জুনাইদ আহমেদ

 


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

প্রকাশ : ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ২০:৩২
আপডেট : ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ২০:৩৫
প্রিন্ট করুন printer

দক্ষিণ কোরিয়ায় ইসো আয়োজিত প্রতিযোগিতায় বাংলা সাহিত্যে সেরা রোকনুজ্জামান

নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর

দক্ষিণ কোরিয়ায় ইসো আয়োজিত প্রতিযোগিতায় বাংলা সাহিত্যে সেরা রোকনুজ্জামান

“প্রবাস মৃত্যু” কবিতা লিখে দক্ষিণ কোরিয়ায় বাংলা সাহিত্যে সেরা লেখক-২০২০ সম্মাননা পেলেন রংপুরের কৃতি সন্তান তরুণ লেখক মো. রোকনুজ্জামান রোকন।

দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় সামাজিক সংগঠন ইপিএস স্পোর্টস এন্ড ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশন (ইসো) সেরা লেখক প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। বাংলাদেশের ভাবমূর্তি এবং প্রবাসীদের অব্যক্ত কথা তুলে ধরার জন্য বাংলা ও কোরিয়ান ভাষার সমন্বয়ে "ইসো" সেরা লেখক  প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।

প্রতিযোগিতায় অসংখ্য লেখা জমা পড়ে। সেসব লেখার মধ্যে থেকে পর্যালোচনার ভিত্তিতে ইসো সম্প্রতি সেরা তিনজন লেখককে বাছাই করে বিজয়ী ঘোষণা করে। কোরিয়ান ভাষায় লিখে প্রথম ও দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছেন যথাক্রমে মো. ইয়াছিন সেখ ও মো. মিজানুর রহমান। বাংলা সাহিত্যে লিখে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছেন রোকনুজ্জামান।

মো. রোকনুজ্জামান রোকন রংপুর জেলার শেখপাড়া গ্রামে আফছার আলী ও রেখা বেগমের বড় পুত্র। তিনি একাধারে কবিতা, গল্প, নাটক, উপন্যাসসহ সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় লেখালেখি করেন। তার লেখা নিয়মিত বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকা ও ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়। তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন রবিউল স্মৃতি সাহিত্য কেন্দ্র। যুক্ত রয়েছে বিভিন্ন সাহিত্য সংগঠন ও সামাজিক সংগঠনের সাথে।

রোকনুজ্জামান কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ব বিদ্যালয়ে দ্বিতীয় বর্ষ পর্যন্ত লেখা পড়ে করে কোরিয়া চলে যান। সেখানে একটি গাড়ি প্রস্তুতকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছেন। চাকরির পাশাপাশি তিনি সাহিত্য চর্চাও করছেন।

রোকনুজ্জামানের পিতা আফছার আলী জানান, মঙ্গলবার দুপুরের পর তার ছেলে জানিয়েছে বাংলা ভাষায় কবিতা লিখে সে সেরা হয়েছে। বিদেশের মাটিতে সাহিত্য চর্চা করে পুরস্কার পেয়েছেন এটা আমাদের জন্য বড় প্রাপ্তি। 


বিডি প্রতিদিন/ফারজানা


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

এই বিভাগের আরও খবর