শিরোনাম
প্রকাশ : ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ১৩:৪৩
প্রিন্ট করুন printer

ওয়াশিংটন দূতাবাস-জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশন এবং নিউইয়র্ক কন্স্যুলেটে পৃথক আয়োজন

শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় যুক্তরাষ্ট্রে মহান শহীদ দিবস উদযাপন

যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি

শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় যুক্তরাষ্ট্রে মহান শহীদ দিবস উদযাপন
নিউইয়র্ক কন্স্যুলেটে ভাষা শহীদসহ জাতিরজনকের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে নিরবতা পালন। ছবি-বাংলাদেশ প্রতিদিন।

যথাযোগ্য মর্যাদায় ওয়াশিংটন ডিসিতে বাংলাদেশ দূতাবাসে, জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে এবং নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কন্স্যুলেটে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষ্যে গতকাল রবিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) পৃথক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এসব অনুষ্ঠানে ভাষা আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ ছাত্রনেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ ভাষা শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা এবং তাদের আত্মত্যাগের মধ্যদিয়েই বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধ হয় বলে উল্লেখ করা হয়। সবকটি অনুষ্ঠানেই ঢাকা থেকে প্রেরিত রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয়।

দূতাবাসের সমাবেশে রাষ্ট্রদূত শহীদুল ইসলাম বলেছেন, সারাবিশ্ব যেখানে আমাদের পথ অনুসরণ করেছে, আমরা যেন নিজেরা নিজের ভাষা ও সংস্কৃতিকে যথাযথ সম্মান দেখাতে কুণ্ঠিত না হই। মিশনের অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা বলেছেন, বহুভাষিকতাকে এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে আন্তর্জাতিক ফোরামে। 

ওয়াশিংটনস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস এর সমাবেশে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম সহিদুল ইসলাম রাত ১২টা ১ মিনিটে শহীদ মিনারের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে দিবসের সূচনা করেন। তাকে অনুসরণ করে দূতাবাসের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যবৃন্দ বেদীতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এসময় 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙ্গানো একুশে ফেব্রুয়ারি আমি কি ভুলিতে পারি'-গানটি বাজানো হয়।

এরপর রাষ্ট্রদূত জাতিরপিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আবক্ষমূর্তিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন এবং তার স্মৃতির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে কিছুক্ষণ নিরবতা পালন করেন। দূতাবাসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ এ সময় উপস্থিত ছিলেন। বঙ্গবন্ধু অডিটরিয়ামে জাতীয় নেতাদের বাণী পাঠ অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রদূত সহিদুল ইসলাম তার বক্তব্যে বলেন, ভাষার জন্য জীবন দেয়ার মাধ্যমে বাঙালি জাতি পৃথিবীর ইতিহাসে একটি নজিরবিহীন ঘটনার জন্ম দিয়েছে। ১৯৯৯ সালে মাতৃভাষার জন্য বাঙালি জাতির আত্মত্যাগের স্বীকৃতি হিসেবে ইউনেস্কো ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে, যা পরবর্তীতে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ চূড়ান্তভাবে অনুমোদন করে। সারাবিশ্বে এখন ২১শে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে। এদিন সকল ভাষার প্রতি সম্মান জানানো হচ্ছে।

প্রথম সচিব এবং চ্যান্সারী প্রধান মো: মাহমুদুল ইসলাম দিবসের কার্যক্রম পরিচালনা করেন। সবশেষে শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা এবং বাংলাদেশে অব্যাহত উন্নয়ন এবং সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

নিউইয়র্কে বাংলাদেশ মিশনস্থ বঙ্গবন্ধু অডিটোরিয়ামে একুশের অনুষ্ঠানের শুরুতে ভাষা শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। এর আগে প্রভাত ফেরীর মাধ্যমে অডিটোরিয়ামে স্থাপিত অস্থায়ী শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। দিবসটি উপলক্ষে একটি প্রামাণ্য ভিডিও চিত্র প্রদর্শণ করা হয়।

আলোচনা পর্ব শুরু হয় জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমার স্বাগত ভাষণের মধ্য দিয়ে। স্বাগত ভাষণে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য 'শিক্ষায় এবং সমাজে বহুভাষার অন্তর্ভুক্তি সযত্নে লালন করি'-উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত ফাতিমা বলেন, বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন জাতিসংঘসহ সকল আন্তর্জাতিক ফোরামে বহুভাষিকতাকে এগিয়ে নিতে সর্বাত্তক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকবে।

বায়ান্নের ভাষা শহীদ এবং ভাষা আন্দোলনের পথিকৃৎ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে রাষ্ট্রদূত ফাতিমা বলেন, ১৯৪৮ সালে বঙ্গবন্ধুর প্রস্তাবে ছাত্রলীগ, তমদ্দুন মজলিশ ও অন্যান্য ছাত্র সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত হয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ। এই পরিষদই ভাষা আন্দোলনকে বেগবান করে। জাতির পিতা ভাষা আন্দোলন করতে গিয়ে বার বার গ্রেফতার হয়েছেন। জেলে থেকে ভাষা আন্দোলনের দিক-নির্দেশনা দিয়েছেন। সেই দুর্বার আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি শাসকগোষ্ঠীর জারি করা ১৪৪ ধারা ভাঙতে গিয়ে প্রাণ দিয়েছিলেন ভাষা শহীদগণ।

ভাষা আন্দোলনের পথ ধরেই কীভাবে জাতির পিতার নেতৃত্বে বাঙালি জাতি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জন করে সে প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন রাষ্ট্রদূত ফাতিমা। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর সুযোগ্য নেতৃত্বে জাতিসংঘসহ বিশ্ব পরিমন্ডলে বাংলাদেশ যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে তা তুলে ধরেন তিনি। বাংলাদেশের জন্য কোভিড-১৯ এর টিকা সংগ্রহের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী যে বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়েছেন এবং চলমান টিকা প্রদান কর্মসূচিতে সরকার যে সফলতা দেখিয়েছে তা সারাবিশ্বে প্রশংসিত হয়েছে মর্মে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রদূত ফাতিমা। 

তিনি বলেন, বিশ্বের ২৫ কোটি মানুষের ভাষা বাংলাকে জাতিসংঘের অন্যতম দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি লাভের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘে যে প্রস্তাবনা রেখেছেন তা বাস্তবায়নে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের মধ্যে বাংলা ভাষা উজ্জ্বীবিত রাখতে পরিবার এবং কমিউনিটিতে বাংলার শুদ্ধ চর্চা অব্যাহত রাখতে প্রবাসী বাঙালিদের প্রতি আহ্বান জানান রাষ্ট্রদূত ফাতিমা। উন্মুক্ত আলোচনা পর্বে অংশ নেন মিশনের সকল স্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারিবৃন্দ। কোভিড-১৯ জনিত স্থানীয় বিধিনিষেধ অনুযায়ী সামাজিক দুরত্ব মেনে সীমিত পরিসরে অনুষ্ঠানটি উদযাপন করা হয়।

বৈশ্বিক মহামারী করোনা ভাইরাসের পরিপ্রেক্ষিতে এবং স্বাগতিক সিটির বিধি-বিধান প্রতিপালন করে নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কন্স্যুলেটে আন্তর্জাতিক মাত্ত্রিভাষা দিবসটি পালন করা হয় অত্যন্ত সীমিত আকারে। অনুষ্ঠানে কনসাল জেনারেল সাদিয়া ফয়জুননেসা কনস্যুলেটের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিয়ে ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পন করেন এবং তাদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। 

অনুষ্ঠানে মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের উপর নির্মিত একটি প্রামান্যচিত্র এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রীর ভিডিও বার্তা প্রদর্শন করা হয়। দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনায় অংশ গ্রহণ কনসাল জেনারেলসহ কনস্যুলেটের অন্যান্য সদস্যবৃন্দ। 
কনসাল জেনারেল তার বক্তব্যে মহান ভাষা আন্দোলনে জাতিরপিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-এর অনবদ্য সাংগঠনিক এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের কথা স্মরণ করেন। 

১৯৭৪ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে প্রথম বাংলা ভাষায় বঙ্গবন্ধুর বক্তব্য এবং ৭ মার্চে বাংলা ভাষায় প্রদত্ত ঐতিহাসিক ভাষণের জাতিসংঘ কর্তৃক আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির কথা উল্লেখ করে কনসাল জেনারেল বলেন, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৪৮ সাল হতে শুরু করে শুধুমাত্র ভাষা আন্দোলনেই নেতৃত্ব দেননি, তিনি পরবর্তীতে বাংলা ভাষাকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরতে অনস্বীকার্য ভূমিকা পালন করেছেন। মহান একুশের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে মুজিববর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপনের এই সন্ধিক্ষণে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা বাস্তবায়নে সকলকে নিরবিচ্ছিন্নভাবে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান কনসাল জেনারেল।

অনুষ্ঠান শেষে ভাষা আন্দোলনে বীর শহিদগণ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তার পরিবারের অন্যান্য শহীদ সদস্য ও শহিদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে এবং দেশের অব্যাহত সমৃদ্ধির জন্য বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। 


 

 

বিডি-প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ সিফাত


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

প্রকাশ : ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ১৬:৫৯
প্রিন্ট করুন printer

সিঙ্গাপুরের টুয়াসে অগ্নিকাণ্ড : আহত অভিবাসী শ্রমিকদের মধ্যে ৩ জনের মৃত্যু

শাহাদাত রাসেল চৌধুরী :

সিঙ্গাপুরের টুয়াসে অগ্নিকাণ্ড : আহত অভিবাসী শ্রমিকদের মধ্যে ৩ জনের মৃত্যু

সিঙ্গাপুরে টুয়াসের একটি শিল্প ভবনে অগ্নিকাণ্ডে আহত আট অভিবাসী শ্রমিকের মধ্যে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বুধবার স্থানীয় সকালে ৩২ই টুয়াস অ্যাভিনিউ ১১-এ বিস্ফোরণে দশজনকে অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল।

দেশটির জনশক্তি মন্ত্রণালয় (এমওএম) জানিয়েছে, যে তিনজন শ্রমিক মারা গেছেন তারা ব্যাপকভাবে পুড়ে যাওয়ায় শনাক্ত করা যায়নি। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, যে দাহ্য ধুলা বিস্ফোরণের কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটে। কর্তৃপক্ষ পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পরে তাদের পরিবারকে অবহিত করবে। সিঙ্গাপুর সরকারের পক্ষ থেকে আহত সবাইকে যথা চিকিৎসা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

সিঙ্গাপুর সিভিল ডিফেন্স ফোর্সের (এসসিডিএফের) মতে, আগুনে একটি শিল্প মিশ্রণ জড়িত ছিল এবং দু’টি ওয়াটার জেট দিয়ে আগুন নেভানো হয়েছে, স্থানীয় সকাল ১১.২০ মিনিটে একটি ‘খুব জোরে বিস্ফোরণ’ হয়েছিল, তারপরে দু’টি ছোট্ট একটি বিস্ফোরণ ঘটে।

এসসিডিএফ আসার আগে ৬৫ জন লোক কাছের ইউনিটগুলো থেকে সরিয়ে নিয়েছিল বলে জানা গেছে। তবে অগ্নিকাণ্ডের কারণ এখনও জানা যায়নি এবং বর্তমানে এটি নিয়ে এসসিডিএফ তদন্ত করছে।

বিডি-প্রতিদিন/শফিক


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

প্রকাশ : ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ১৬:২৭
প্রিন্ট করুন printer

জাতিসংঘ সদরদপ্তরে আন্তর্জাতিক আবহে মাতৃভাষা দিবস

যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি

জাতিসংঘ সদরদপ্তরে আন্তর্জাতিক আবহে মাতৃভাষা দিবস
পঞ্চমবারের মতো জাতিসংঘ সদরদপ্তরে যথাযোগ্য মর্যাদায় আন্তর্জাতিক আবহে উদযাপন করা হল আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। বাংলাদেশ, ব্রাজিল, কানাডা, মিশর, জর্ডান, লিথুনিয়া ও নিউজিল্যান্ড এবং জাতিসংঘ সচিবালয় ও ইউনেস্কোর সহ-আয়োজনে ২২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা হয়। কোভিড-১৯ এর বিধি-নিষেধ জনিত কারণে ইভেন্টটি ভার্চুয়ালে অনুষ্ঠিত হয় যা জাতিসংঘ ওয়েভ টেলিভিশন সরাসরি সম্প্রচার করে। উল্লেখ্য, জাতিসংঘ সদর দফতরে এই একটিমাত্র অনুষ্ঠানই হয় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে। 
 
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি ভলকান বজকির অনুষ্ঠানটিতে অংশগ্রহণ করেন এবং বক্তব্য রাখেন। সহ-আয়োজক দেশসমূহের স্থায়ী প্রতিনিধিগণ ছাড়াও অনুষ্ঠানটিতে আরও বক্তব্য রাখেন জাতিসংঘের বহুভাষিক সমন্বয়কারী ও জেনারেল অ্যাসেম্বিলি ও কনফারেন্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল এবং  জাতিসংঘের বৈশ্বিক যোগাযোগ বিভাগের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল। এছাড়া ইউনেস্কো মহাপরিচালকের ভিডিও বার্তা এবং নিউইয়র্ক সিটি মেয়রের বার্তা উপস্থাপন করা হয়। স্প্যানিস ভাষাভাষী বন্ধু-দেশগুলোর পক্ষে এ সভায় বক্তব্য রাখেন জাতিসংঘে নিযুক্ত পর্তুগালের স্থায়ী প্রতিনিধি।
 
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন এবং সঞ্চালনা করেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা। স্বাগত বক্তব্যে তিনি বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষার জন্য ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি প্রাণ উৎসর্গকারী সকল ভাষাশহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা প্রদর্শন করেন। বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি বলেন, “ভাষা শহীদদের এই আত্মত্যাগের ফলেই ‘বাংলা’ রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা লাভ করেছে”। রাষ্ট্রদূত ফাতিমা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, জাতির পিতা ১৯৫২ ভাষা আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন আর এই ভাষা আন্দোলনের পথ ধরেই ১৯৭১ সালে আমরা অর্জন করেছি মহান স্বাধীনতা”।
 
যে সকল প্রবাসী বাংলাদেশী মহান শহীদ দিবসকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস করার জন্য প্রথম উদ্যোগ নিয়েছিলেন তাঁদেরকে ধন্যবাদ জানান বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি। প্রবাসী বাংলাদেশীগণের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে সে সময়ের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইউনেস্কোর সাথে সরকারিভাবে যোগাযোগ স্থাপন এবং বিষয়টি এগিয়ে নিতে যে বিচক্ষণ ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিলেন তা গভীর কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেন তিনি। পৃথিবীর বিলুপ্তপ্রায় ভাষা সমূহের সংরক্ষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজধানী ঢাকায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করেছেন মর্মেও উল্লেখ করেন রাষ্ট্রদূত ফাতিমা। বাংলা ভাষাকে জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘে যে প্রস্তাবনা রেখেছেন তা পুনরুল্লেখ করেন তিনি।
সাধারণ পরিষদের সভাপতি ভলকান বজকির জাতিসংঘে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপনে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনকে ধন্যবাদ জানান। সাধারণ পরিষদের সভাপতিসহ অন্য বক্তাগণ জাতিসংঘ কর্তৃক আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি আদায়ে অনন্য ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। এছাড়া  মাতৃভাষা ও বিশ্বব্যাপী বহুভাষিকতা এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ যে নেতৃত্বশীল ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে তার ভূয়সী প্রশংসা করেন বক্তাগণ।
বক্তাগণ বহুভাষিকতার গুরুত্ব বিশেষ করে কোভিড-১৯ এর প্রেক্ষাপটে বহুভাষিকতার তাৎপর্য ও প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরেন। ভাষা ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্রের সংরক্ষণ এবং শিক্ষা ও যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে তা ব্যবহার এখন যে কোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি জরুরি হয়ে উঠেছে মর্মে উল্লেখ করেন তাঁরা। টেকসই উন্নয়ন ও এজেন্ডা ২০৩০ অর্জনের অনুঘটক হিসেবে মাতৃভাষা ব্যবহারের মাধ্যমে অনুধাবন, সহিষ্ণুতা, সংলাপ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ বিনির্মাণ এগিয়ে নেওয়ার জন্য মত প্রকাশ করেন তাঁরা।
বহুভাষিক উপাদানের সমন্বয়ে অনুষ্ঠানটিতে বর্ণাঢ্য এক সাংস্কৃতিক পর্ব পরিবেশিত হয়। ভাষা ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্রকে উজ্জ্বীবিত রাখার লক্ষ্যে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের বহুভাষিক উপাদানের সমন্বয়ে তিনটি ভিন্নমাত্রার সঙ্গীত পরিবেশন করে ইউএন চেম্বার মিউজিক সোসাইটি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার বিলুপ্তপ্রায় ভাষা ‘খোসা-এর একটি অপেরা সঙ্গীত, ফ্রেঞ্চ ভাষার একটি যন্ত্রসঙ্গীত, এবং জাপানী শিল্পী পরিবেশিত একটি রবীন্দ্র সঙ্গীত।
অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের থিমসং ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙ্গানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ -এর ভিন্ন মাত্রার পরিবেশনা সকলেরই নজর কাড়ে।  বাংলাদেশের এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব উইমেন এর শিক্ষার্থীগণ বহুভাষার সমন্বয়ে গানটি পরিবেশন করেন। জাতিসংঘ আন্তর্জাতিক স্কুলের শিক্ষার্থীগণের পরিবেশনায় ৩৮টি ভাষায় ক্ষুদে ভিডিও বার্তা অনুষ্ঠানটিতে আলাদা মাত্রা এনে দেয়।
ভার্চুয়াল এই অনুষ্ঠানটিতে জাতিসংঘ সদস্য দেশসমূহের উচ্চ পর্যায়ের কূটনীতিক, জাতিসংঘের কর্মকর্তা, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিগণ অংশগ্রহণ করেন।
বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন

আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

প্রকাশ : ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ১৬:২২
প্রিন্ট করুন printer

কুইন্স পাবলিক লাইব্রেরি ও নিউইয়র্ক কন্স্যুলেটের উদ্যোগে মাতৃভাষা দিবসের বহুজাতিক সমাবেশ

যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি

কুইন্স পাবলিক লাইব্রেরি ও নিউইয়র্ক কন্স্যুলেটের উদ্যোগে মাতৃভাষা দিবসের বহুজাতিক সমাবেশ

নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল এবং কুইন্স পাবলিক লাইব্রেরি’র যৌথ উদ্যোগে সোমবার ২২ ফেব্রুয়ারি বেলা ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত ভার্চুয়ালে “আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০২১” উদযাপন করা হয়। 

ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এবং অমর একুশের চেতনা নিউইয়র্কের বহুজাতিক সমাজে সুপরিচিত করার প্রয়াসে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতির সম্মিলনে এই আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানটি হয়। এ বছরের আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল “অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা ও সামাজিক ব্যবস্থার জন্য বহুভাষা ভিত্তিক চর্চা”। 

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল সাদিয়া ফয়জুননেসা এবং কুইন্স পাবলিক লাইব্রেরির প্রেসিডেন্ট ডেনিস এম. ওয়ালকট। 

কনসাল জেনারেল মহান ভাষা আন্দোলনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-এর অনবদ্য সাংগঠনিক এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের কথা সশ্রদ্ধ চিত্তে স্মরণ করেন এবং বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষায় ও বাংলা ভাষাকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রতিষ্ঠায় তার অসামান্য অবদান এবং নেতৃত্বের প্রতি সম্মান জানিয়ে মুজিববর্ষের থিম সং সম্প্রচারের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু করেন। 

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ.কে. আব্দুল মোমেন এমপি নিউইয়র্কসহ বিশ্বের সকল বাংলা ভাষাভাষী এবং অন্য ভাষা-ভাষীদের আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের শুভেচ্ছা জানান এবং প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশের অদম্য অগ্রযাত্রার কথা তুলে ধরেন। এছাড়া, মুজিববর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী’র সন্ধিক্ষণে তিনি ভাষা আন্দোলনসহ মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে প্রতিটি আন্দোলনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-এর নেতৃত্বের কথা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য ধন্যবাদ জানান। 

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মোঃ শাহরিয়ার আলম এমপি, যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসওমেন গ্রেস মেং, নিউইয়র্ক স্টেট সিনেটর জন সি. ল্যু, জর্জিয়ার স্টেট সিনেটর শেখ রহমান, এ্যাসেম্বলীওমেন ক্যাটালিনা ক্রজ এবং কুইন্স বোরো প্রেসিডেন্ট ডোনাভান রিচার্ডস গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেন। জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধিসহ ১১টি দেশের (বাংলাদেশ, কলাম্বিয়া, আইভরি কোস্ট, চেক রিপাবলিক, এস্তোনিয়া, ভারত, পেরু, সিংগাপুর, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড এবং থাইল্যান্ড) রাষ্ট্রদূত/কনসাল জেনারেল এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিরা এ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। 

বাংলাদেশের ইতিহাসে এই দিবসটির তাৎপর্য এবং ভাষা আন্দোলনে বঙ্গবন্ধুর অনস্বীকার্য অবদান ও নেতৃত্বের বিষয়টি তুলে ধরেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-এর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির প্রধান সমন্বয়ক ও সাবেক মুখ্যসচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী।
পৃথিবীর সকল ভাষাকে সম্মান জানাতে এ অনুষ্ঠানে নিউইয়র্কস্থ বাংলাদেশ কমিউনিটিসহ এস্তোনিয়া, বুলগেরিয়া, ভুটান, পেরু এবং থাইল্যান্ড-এর শিল্পীরা তাদের নিজস্ব ভাষায় সাংস্কৃতিক পরিবেশনা করেন।    
উল্লেখ্য, এ দুটি প্রতিষ্ঠান ২০১৯ সাল থেকে প্রতিবছর বিভিন্ন ভাষা ও সংস্কৃতির প্রবাসী/কমিউনিটির সদস্যবৃন্দ এবং কুইন্স এর নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে বিপুল সমারোহে এ দিবসটি উদযাপন করে আসছে, যা কুইন্স এর মূলধারায় ইতোমধ্যে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। 

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-এর জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী’র মাহেন্দ্রক্ষণে অনুষ্ঠিত অমর একুশের এই গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানটিতে সপরিবারে বাংলাদেশি-আমেরিকান নাগরিকবৃন্দ, বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক, নতুন প্রজন্ম, কমিউনিটি সদস্যসহ দেশ-বিদেশের বিপুলসংখ্যক দর্শক-শ্রোতা অংশগ্রহণ করেন।

বিডি-প্রতিদিন/সালাহ উদ্দীন


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

প্রকাশ : ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ১৩:২৭
প্রিন্ট করুন printer

কানাডা ইমিগ্রেশনের মনগড়া তথ্য দিয়ে হচ্ছে প্রতারণা, সতর্কতার পরামর্শ

অনলাইন ডেস্ক

কানাডা ইমিগ্রেশনের মনগড়া তথ্য দিয়ে হচ্ছে প্রতারণা, সতর্কতার পরামর্শ

মনগড়া, ভুয়া তথ্য দিয়ে কানাডায় ইমিগ্রেশনের নামে সাধারণ মানুষকে প্রতারিত করছে একটি চক্র। ওয়ার্ক পারমিট, স্টুডেন্ট ভিসা, চাকরি পাইয়ে দেয়া বা  ইমিগ্রেশন করিয়ে দেয়ার কথা বলে এরা সাধারণ মানুষকে প্রলুব্ধ করে বলে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন কানাডার  ইমিগ্রেশন বিষয়ক তিন বিশেষজ্ঞ।

তারা জনসাধারণকে প্রতারণার হাত থেকে বাঁচাতে ইমিগ্রেশন বিষয়ে সঠিত তথ্য তুলে ধরার তাগিদ দিয়ে বলেন, ইমিগ্রেশনের সুযোগ সুবিধা সংক্রান্ত সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের আরও সতর্কতা অবলম্বন করা দরকার।

কানাডার বাংলা পত্রিকা 'নতুনদেশ'-এর প্রধান সম্পাদক শওগাত আলী সাগরের সঞ্চালানায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সম্প্রচারিত 'শওগাত আলী সাগর লাইভে' তারা এই মতামত দেন। স্থানীয় সময় গতকাল বুধবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে 'কানাডা ইমিগ্রেশনের মিথগুলো' শিরোনামে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।  
 
ভুল তথ্য কিংবা বিকৃত তথ্যের মাধ্যমে কানাডায় ইমিগ্রেশনের নামে প্রতারণার নানা চিত্র তুলে ধরে আলোচনা করেন এডুকেশন কনসাল্টিং এজেন্ট কায়েসুর রহমান, ইউটিউব ভিডিও কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ও সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং বিশেষজ্ঞ  সিদ্দিকুর রহমান এবং ইমিগ্রেশন নিউজ২৪ ডটকম-এর সম্পাদক ও প্রকাশক  উজ্জল দাশ। 

আলোচনাকালে বক্তারা কানাডায় ইমিগ্রেশনের যে কোনো তথ্যের জন্য কানাডা সরকারের  অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের  (https://www.canada.ca/en/services/immigration-citizenship.html) উপর  নির্ভর করার পরামর্শ দেন। একই সঙ্গে তারা কানাডা সরকারের অনুমোদিত বা লাইসেন্সপ্রাপ্ত নয় এমন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ইমিগ্রেশন বিষয়ক কোনো সেবা না নেয়ার পরামর্শ দেন।

আলোচনায় অংশ নিয়ে এডুকেশন কনসাল্টিং এজেন্ট কায়েসুর রহমান বলেন, সন্তানদের কানাডায় ভর্তি করা হলেই বাবা মা কানাডায় চলে এসে কাজ শুরু করতে পারেন এমনকি ইমিগ্রেশন পেয়ে যাবেন- এমন একটি কথা বাংলাদেশের প্রচার পেয়েছে। এটি মিথ্যা তথ্য। বিদেশি শিক্ষার্থীরা কানাডায় পড়াশোনা শেষ করে নির্দিষ্ট শর্তাবলী পূরণ করা সাপেক্ষে ইমিগ্রেশনের জন্য আবেদন করতে পারেন। কিন্তু কোনো শিক্ষার্থীর বাবা মা এসে কাজ করার জন্য ওয়ার্ক পারমিট পান না। 

তিনি আরও বলেন, অল্পবয়সী শিক্ষার্থীদের বাবা-মা একজনকে ভিসা দেয়া হয় সন্তানের সঙ্গে থাকার জন্য এবং তিনি এখানে ভিজিটর হিসেবেই অবস্থান করেন।

কানাডায় শিক্ষার্থী হিসেবে আসতে আগ্রহীদের আগে থেকেই প্রয়োজনীয় হোম ওয়ার্ক করার পরামর্শ দিয়ে কায়েসুর রহমান বলেন, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রভর্তির বিভিন্ন নিয়মাবলী আছে, ভিসার জন্য আলাদা শর্তাবলী আছে। এগুলো সম্পর্কে যথাযথ উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ না করলে প্রতারিত হওয়ার আশঙ্কা থাকবে।

ইউটিউব ভিডিও কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ও সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং বিশেষজ্ঞ  সিদ্দিকুর রহমান ওয়ার্ক পারমিট এবং কানাডায় কাজ পাইয়ে দেয়ার নামে প্রতারণার নানা চিত্র তুলে ধরে বলেন, কোনো কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠান চাইলেই বিদেশ থেকে কর্মী নিয়ে আসতে পারে না। 'কানাডায় পাওয়া যাচ্ছে না'- এটি প্রমাণ করতে পারার পরই সরকার বিদেশ থেকে লোক আনার অনুমতি দেয়। কাজেই যারা ওয়ার্ক পারমিট দেয়ার কথা বলে বা ওয়ার্ক পারমিট পাইয়ে দেয়- তারা আসলে ভূয়া কাগজ দিয়ে প্রতারণা করে। তাদের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। 

নিজের ইউটিউব চ্যানেলের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে সিদ্দিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোয়ই এই ওয়ার্ক পারমিটের কথা শোনা যায়। কানাডায় ইমিগ্রেশনের অনেকগুলো খাত আছে বলে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ইমিগ্রেশনের শর্তাবলী এবং নিজের যোগ্যতা মিলিয়েই ইমিগ্রেশনের চেষ্টা করা উচিৎ।

ইমিগ্রেশন নিউজ২৪ ডটকম-এর সম্পাদক ও প্রকাশক  উজ্জল দাশ বলেন,  মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে কাজ করতে যাওয়ার সাথে অনেকে কানাডায় ইমিগ্রেশনকে মিলিয়ে ফেলেন। কোনো দালাল বা আইনজীবী, ইমিগ্রেশন কনসালট্যান্ট কাউকে কানাডায় ভিসা বা ইমিগ্রেশন করিয়ে দিতে পারেনা- এটি অনেকেই বিবেচনায় রাখেন না। ফলে প্রতারণার সুযোগ তৈরি হয়।

তিনি আরও বলেন, গণমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং ইউটিউবে কানাডা ইমিগ্রেশনের খবর বা তথ্য পরিবেশনে অনেক সময় মূল তথ্য পাশ কাটিয়ে বাড়তি তথ্য বা ভুল ব্যাখ্যা যোগ করে দেয়া হয়। এতে মানুষের মনে বিভ্রান্তি তৈরি হয় এবং প্রতারকরা এই সুযোগটি কাজে লাগায়। ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত সংবাদ এবং বিজ্ঞাপন  প্রচার বা প্রকাশের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের  জন্য গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

'নতুনদেশ' পত্রিকার প্রধান সম্পাদক শওগাত আলী সাগর বলেন, কানাডায় ইমিগ্রেশনের ব্যাপারে বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে আগ্রহ বাড়ছে। এটিকে কাজে লাগিয়ে প্রতারক চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। কানাডার প্রতি বাংলাদেশের মানুষের আগ্রহকে আমরা ইতিবাচক হিসেবে দেখি। আমরা চাই বাংলাদেশ থেকে আরও বেশি ইমিগ্র্যান্ট এবং শিক্ষার্থী কানাডায় আসুক। সেই কারণেই প্রতারণা এবং ভুল প্রচারণার বিরুদ্ধে আমাদের কথা বলতে হবে।  

তিনি আরও বলেন, বিশ্বায়নের এই যুগে তথ্য যাচাই বাচাই করা মোটেও কঠিন কোনো কাজ না। গণমাধ্যমের জন্য সেটি আরো সহজ। পত্রিকাগুলো এখন প্রবাস থেকে অনেক ফ্রিল্যান্সারদের লেখা প্রকাশ করে। সেই সব লেখার তথ্যের বিশেষ করে ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত লেখার তথ্যের যথার্থতা সম্পর্কে  বাড়তি  মনোযোগ না দিলে ইমিগ্রেশনকে ঘিরে গড়ে ওঠা প্রতারক চক্র সুবিধা নিতে পারে বলে তিনি সতর্ক করে দেন।


বিডি-প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ সিফাত


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

প্রকাশ : ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ১০:৩৮
প্রিন্ট করুন printer

ইব্রাহিম খালেদের মৃত্যুতে ‘লুটেরা রুখো স্বদেশ বাঁচাও’র শোক

কানাডা প্রতিনিধি:

ইব্রাহিম খালেদের মৃত্যুতে ‘লুটেরা রুখো স্বদেশ বাঁচাও’র শোক

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করছে কানাডাভিত্তিক অর্থপাচার ও লুটেরা বিরোধী আন্দোলন ‘লুটেরা রুখো স্বদেশ বাঁচাও’ নামের সংগঠন। 

সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ বলেন, বাংলাদেশের আর্থিক খাতের অনাচার, দুরাচার নিয়ে যে কয়জন সোচ্চার ছিলেন তার মধ্যে খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ অন্যতম। ঋনখেলাপীদের বিরুদ্ধে, ব্যাংকিং খাতের সুশাসনের পক্ষে, শেয়ারবাজারের কারসাজির বিরুদ্ধে ও অর্থপাচারের বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন অকুতোভয় যোদ্ধা।

তারা আরও বলেন, খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ ছিলেন অর্থপাচার ও লুটেরা বিরোধী সত্যবচনে আপসহীন। ‘লুটেরা রুখো স্বদেশ বাঁচাও’ তাকে ও তার ভূমিকা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে।

বিডি প্রতিদিন/ মজুমদার


আপনার মন্তব্য

পরবর্তী খবর

এই বিভাগের আরও খবর