শিরোনাম
প্রকাশ : শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৯ ২১:৩১

আবিষ্কার

ভোজ্যতেলের নতুন সম্ভাবনা পেরিলা

ওলী আহম্মেদ, শেকৃবি

ভোজ্যতেলের নতুন সম্ভাবনা পেরিলা

পেরিলা, একটি ভোজ্যতেল ফসল। বৈজ্ঞানিক নাম Perilla frutescens । দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এর আদি নিবাস হলেও বিশ্বদরবারে এটি কোরিয়ান পেরিলা নামেই পরিচিত। তবে সময়ের পরিক্রমায় এটি বিস্তৃত হয়েছে চীন, জাপান, কোরিয়া, ভিয়েতনাম, ভারত ও থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশে। বাংলাদেশে পেরিলার চাষ ও গবেষণার মাধ্যমে সেই স্বপ্ন-সম্ভাবনার সারথি রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (শেকৃবি)।

শেকৃবি কৃষিতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. এইচ এম এম তারিক হোসাইনের অধীনে কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুল কাইয়ুম মজুমদার পিএইচডি গবেষণার অংশ হিসেবে পেরিলার এ গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন। গবেষক আবদুল কাইয়ুম বলেন, ‘পেরিলা একটি ভোজ্যতেল জাতীয় ফসল যার শতকরা ৬৫ ভাগই ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড। এই অসম্পৃক্ত ফ্যাটি অ্যাসিড আমাদের শরীরের জন্য অনেক উপকারী বিশেষত হৃদযন্ত্র, মস্তিষ্ক ও ত্বকসহ ডায়াবেটিস রোগে এটি কার্যকর ভূমিকা রাখে। মূলত মানুষের সুস্বাস্থ্য ও দেশীয় জমির সর্বোচ্চ ব্যবহারের দিককে গুরুত্ব দিয়ে আমরা এ গবেষণা বেছে নিয়েছিলাম। মূল জমিতে পেরিলার জীবনকাল ৭০ থেকে ৭৫ দিন হওয়ায় সহজেই এটিকে চার ফসলি জমির আওতায় আনা সম্ভব হবে। পেরিলার একেকটি পুষ্পমঞ্জুরিতে ১০০ থেকে ১৫০টি বীজ পাওয়া যায় বিধায় অন্যান্য তেল ফসল থেকে এর উৎপাদনমাত্রা অবশ্যই বেশি হবে।’ গবেষণা তত্ত্বাবধায়ক ড. তারিক বলেন, ‘পেরিলার পাতা সবজি হিসেবে ও বীজকে তেল উৎপাদনে কাজে লাগিয়ে প্রধানত দুই ভাবে এর ব্যবহার করা যায়। পেরিলার ফুল আসলে খেতে মৌমাছির ব্যাপক আনাগোনার পাশাপাশি বাণিজ্যিকভাবে মধু চাষও সম্ভব। আমাদের দেশে চাইনিজ, কোরিয়ান ও থাই রেস্টুরেন্টগুলোতে বাইরে থেকে পেরিলা আনা হয়, সেক্ষেত্রে দেশে পেরিলা চাষের বিস্তৃতি আমাদের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবে বলে জানান তিনি।’


আপনার মন্তব্য

close