শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ৩০ মার্চ, ২০২০ ০০:০০

খেলাহীন বিশ্ব কেউ দেখেনি আগে

খেলাহীন বিশ্ব কেউ দেখেনি আগে

করোনাভাইরাসের কারণে বাংলাদেশে সব ধরনের খেলা স্থগিত হয়ে গেছে। কেবল বাংলাদেশেই নয়, সারা বিশ্বেই কোনো খেলাধুলা নেই। শহরের পর শহর যেন রূপকথার নিঝুমপুরীতে পরিণত হয়েছে। খেলাধুলাহীন নিশ্চুপ এমন দুনিয়া আগে কেউ কখনো দেখেছে কী! খেলা নেই, লিখবে কী? ক্রীড়া সাংবাদিকদের কাছে এ-এক নতুন চ্যালেঞ্জই বলা যায়। বাংলাদেশের ক্রীড়া সাংবাদিকতায় দীর্ঘ সময় ধরে যারা কাজ করছেন তাদের সঙ্গে আলাপ করেই এ প্রতিবেদন তৈরি করেছেন- রাশেদুর রহমান

 

মুহাম্মদ কামরুজ্জামান

দৈনিক পাকিস্তানে ১৯৬৭ সালে সাংবাদিকতা শুরু করেছেন তিনি। দীর্ঘদিন সাংবাদিকতার সঙ্গে জড়িত থাকায় অনেক ইতিহাসই তার নখদর্পণে। গতকাল যোগাযোগ করা হলে জানালেন, সপ্তাহখানেক হলো আমি ঘরবন্দী। মাঝে মধ্যে বারান্দায় হেঁটে বেড়াই। বাইরের নিশ্চুপ পরিবেশ দেখি। কোথাও কোনো কোলাহল নেই। এ যেন এক নিঝুমপুরী। খেলাধুলার জন্য সময়টা খুব খারাপ। এমনটা আমার জীবনে কখনোই দেখিনি। খেলাধুলাহীন এমন পৃথিবীর কথা কল্পনা করা সত্যিই কঠিন।

 

মনজুরুল হক

মর্নিং নিউজে ১৯৭৪ সালে সাংবাদিকতা শুরু করেন মনজুরুল হক। দীর্ঘদিন ক্রীড়া সাংবাদিকতা করছেন। খেলাধুলাহীন এমন সময় নিয়ে তিনি বলেন, ‘৯০’র দশকে সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলনের সময় ৩/৪ দিনের জন্য এমন অবস্থা দেখা গেছে বাংলাদেশে। ৭৫ সালের ট্র্যাজেডির পরও কিছুদিন এমন অবস্থা ছিল। অবশ্য ফেডারেশনগুলো ঠিকই তাদের কাজ চালিয়ে যেত তখন। কিন্তু খেলা বন্ধ থাকত। এমন নীরবতা আগে কখনো দেখিনি আমি। বিশ্বজুড়েই ক্রীড়াঙ্গন এখন স্থবির হয়ে আছে।’

 

খন্দকার তারেক

দৈনিক সংবাদে ১৯৭৬ সালে সাংবাদিকতা শুরু করেছেন খন্দকার তারেক। এরও আগে থেকেই খেলাধুলার সঙ্গে জড়িত। খেলতেন ফুটবল এবং ক্রিকেট। দীর্ঘসময় খেলাধুলার সঙ্গে জড়িত থাকায় বাংলাদেশসহ ক্রীড়াবিশ্বের ইতিহাস তার বেশ জানা। তিনিও কখনো এমন বিরানভূমি দেখেননি।  তিনি বলেন, ‘সামরিক শাসনের সময় মাঝে মধ্যে এমন অবস্থা দেখা যেত। কিন্তু এমন খেলাধুলাহীন জীবন কখনো ছিল না। কোনো না কোনোভাবে আমরা খেলাধুলার বিনোদন পেতাম।’

 

দিলু খন্দকার

ইনকিলাব, বাংলার বাণী, ইত্তেফাক এবং বর্তমানে ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া চ্যানেল টোয়েন্টিফোরে কাজ করেছেন দিলু খন্দকার। দীর্ঘদিন ক্রীড়া সাংবাদিকতার সঙ্গে জড়িয়ে আছেন তিনি। করোনাভাইরাসের কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে বললেন, ‘এমন নীরবতা আগে কখনো দেখিনি আমি। খেলাধুলা ভালোবাসি তাই পেশা হিসেবে ক্রীড়া সাংবাদিকতা বেছে নিয়েছি। কিন্তু এমন সংকটে কখনো পড়িনি। জানি না সবকিছু স্বাভাবিক হবে কবে, খেলা আবার মাঠে গড়াবে কবে?’

 

উৎপল শুভ্র

আজকের কাগজ ও ভোরের কাগজ হয়ে প্রথম আলো। বাংলাদেশের ক্রীড়া সাংবাদিকতার জগতে খুব পরিচিত নাম। বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন করে ভাবতে শুরু করেছেন উৎপল শুভ্র। তিনি বললেন, ‘কোথাও খেলাধুলা নেই। সাংবাদিকতার ক্যারিয়ারে এমন কখনো দেখেনি। নতুন এক পরিস্থিতির মুখোমুখি সারা দুনিয়া। অন্যান্য দিকগুলো নিয়েও ভাবতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এই সময়টায় বাল্যকালে ফিরে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছি। পুরনো দিনের খেলা দেখে সময় কাটে এখন।’


আপনার মন্তব্য