শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৩ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১২ জুলাই, ২০২১ ২৩:২০

মাথা তুলে দাঁড়াচ্ছে থার্ড টার্মিনাল

জয়শ্রী ভাদুড়ী

মাথা তুলে দাঁড়াচ্ছে থার্ড টার্মিনাল
করোনা সংক্রমণের মধ্যেও রাতদিন কাজ চলছে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থার্ড টার্মিনালের ছবি : শিমুল মাহমুদ
Google News

করোনা মহামারীর চোখ রাঙানি, বিরূপ আবহাওয়া উপেক্ষা করে এগিয়ে চলছে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল নির্মাণকাজ। মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে টার্মিনাল ভবনের পিলার। দুই শিফটে চলছে কাজ। এখন পর্যন্ত কাজ শেষ হয়েছে ১৯ ভাগ।

থার্ড টার্মিনাল প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখা যায়, টার্মিনাল ভবনের ভিত্তির কাজ সম্পূর্ণ শেষ। মাটির নিচে পাইলিং থেকে শুরু করে মেঝে তৈরির কাজ পর্যন্ত শেষ হয়েছে। ভবনের মূল কাঠামো তৈরির জন্য পিলার তৈরির কাজ চলছে। বেশ কয়েকটি পিলার এর মধ্যেই দৃশ্যমান হয়েছে। থার্ড টার্মিনালের সংযুক্ত হওয়া রানওয়ের কাজও এগিয়ে চলছে। আট ঘণ্ঠা করে দুই শিফটে প্রতিদিন ১৬ ঘণ্টা টানা কাজ চলছে। নির্ধারিত সময়ের আগে প্রকল্প শেষ করতে দিনরাত কাজ চলছে। করোনা সংক্রমণ থেকে সুরক্ষিত রাখতে প্রকল্প এলাকায়ই শ্রমিকদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। করোনার উপসর্গ হলে টেস্ট, আইসোলেশনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। চিকিৎসার জন্য অল্প পরিসরের হাসপাতাল করা হয়েছে। কিছু শ্রমিক আক্রান্ত হলেও নিয়মিত চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে কাজে ফিরেছেন। ফলে কাজে কোনো বিঘ্ন ঘটেনি। করোনার থাবায় অনেক প্রকল্প পিছিয়ে গেলেও লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে এগিয়ে রয়েছে এই মেগা প্রকল্পের কাজ। জুনের শেষে এ কাজের লক্ষ্যমাত্রা ধরা ছিল ১৪ দশমিক ২ শতাংশ। জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে এই প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে ১৯ শতাংশ। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি অগ্রগতি হয়েছে প্রকল্পের।  প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, ৫ লাখ ৪২ হাজার বর্গমিটারের এ টার্মিনালে একসঙ্গে ৩৭টি প্লেন রাখার অ্যাপ্রোন (প্লেন পার্ক করার জায়গা) নির্মাণ করা হচ্ছে। টার্মিনাল ভবন হবে ২ লাখ ৩০ হাজার বর্গমিটারের। বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে মেট্রোরেল। বাংলাদেশে আসা যাত্রীরা বিমানবন্দর থেকে বেরিয়েই মেট্রোরেলে করে নিজেদের গন্তব্যে যেতে পারবেন। এ ছাড়া ঢাকার যে কোনো স্টেশন থেকে মেট্রোরেলে সরাসরি বিমানবন্দরে বহির্গমন এলাকায় যাওয়া যাবে। এই প্রকল্পে ব্যয় নির্ধারিত হয়েছে ২১ হাজার ৩৯৯ কোটি টাকা। মোট খরচের মধ্যে সরকার দেবে ৫ হাজার ২৫৮ কোটি এবং ঋণ হিসেবে জাপানের সংস্থা জাইকা দেবে ১৬ হাজার ১৪১ কোটি টাকা। থার্ড টার্মিনালের নকশায় রাখা হয়েছে ২৪টি বোর্ডিং ব্রিজ। এর মধ্যে ১২টি প্রথম ধাপে নির্মাণ সম্পন্ন করা হবে। বাকিগুলো পরে প্রয়োজন অনুযায়ী নির্মাণ করা হবে।