পাখি সংরক্ষণে গণসচেতনতা বৃদ্ধি এবং পাখির নিরাপদ আবাস তৈরীর লক্ষ্য নিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) অনুষ্ঠিত হলো ১৮তম ‘পাখিমেলা-২০১৯’। আজ শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের উদ্যোগে বিভিন্ন আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয় বর্ণাঢ্য এই মেলা। মেলা উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং বহিরাগত দর্শণার্থীদের পদচারণায় দিনভর উৎসবমুখর ছিল জাবি ক্যাম্পাস।
সকাল ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান মিলনায়তন প্রাঙ্গনে উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম বেলুন উড়িয়ে উদ্বোধন করেন পাখি মেলার।
পাখি সংরক্ষণের উপর গুরুত্বারোপ করে উদ্বোধনকালে উপাচার্য ফারজানা ইসলাম বলেন, আমরা মনে করি পাখি থাকলে গাছ থাকবে, গাছ থাকলেই ফুল থাকবে, ফল থাকবে। এই পুরো প্রক্রিয়াটিকে ধরে রাখতে একটি সুন্দর ও নিরাপদ পরিবেশ প্রয়োজন। আর সেই কাঙ্ক্ষিত পরিবেশ নিশ্চিত করতেই আমাদের পাখি মেলার আয়োজন। এই মেলা প্রকৃতপক্ষে সচেতনতা বৃদ্ধিরই একটি আন্দোলন।
ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক এ টি এম আতিকুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক শেখ মো. মনজুরুল হক, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার রহিমা কানিজ, পাখি মেলা আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মো. কামরুল হাসান প্রমুখ।
এদিকে পাখি মেলার উদ্বোধনের আগে বিগ বার্ড বাংলাদেশ এ্যাওয়ার্ড, কনজার্ভেশন মিডিয়া এ্যাওয়ার্ড ও সায়েন্টিফিক পাবলিকেশন অ্যাওয়ার্ড-২০১৯ প্রদান করা হয়। নতুন ও দুর্লভ প্রজাতির পাখির সন্ধান পাওয়ায় এবার বিগ বার্ড বাংলাদেশ এ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন যথাক্রমে শফিকুর রহমান শুভ্র, মো. কায়েস ও তৌকির হাসান হৃদয়। কনজারভেশন মিডিয়া এ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন রাহুল এম ইউসুফ, আদিব মুমিন আরিফ ও আব্দুল্লাহ আল ওয়াহিদ।
এছাড়া সায়েন্টিফিক পাবলিকেশন এ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন মুনতাসির আকাশ। উপাচার্য ফারজানা ইসলাম পুরস্কৃতদের হাতে সনদপত্র ও ক্রেস্ট তুলে দেন।
দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত পাখি মেলার অন্যান্য আয়োজনের মধ্যে ছিল আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় পাখি দেখা প্রতিযোগিতা, পাখি বিষয়ক আলোকচিত্র প্রদর্শনী, শিশু-কিশোরদের পাখির ছবি আঁকা প্রতিযোগিতা, টেলিস্কোপ ও বাইনোকুলার দিয়ে শিশু-কিশোরদের পাখি পর্যবেণ, স্টল সাজানো প্রতিযোগিতা, অডিও-ভিডিও এর মাধ্যমে পাখি চেনা প্রতিযোগিতা, পাখি বিষয়ক কুইজ প্রতিযোগিতা এবং পুরস্কার বিতরণী ও সমাপনী অনুষ্ঠান।
বিডি প্রতিদিন/ফারজানা