৩ আগস্ট, ২০২২ ১৯:১৬

ওসমানী মেডিকেলের ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সড়ক অবরোধ, ধর্মঘট অব্যাহত

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট

ওসমানী মেডিকেলের ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সড়ক অবরোধ, ধর্মঘট অব্যাহত

ওসমানী মেডিকেলের ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সড়ক অবরোধ

সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসক ও মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন। শিক্ষার্থীদের উপর হামলাকারী বহিরাগত ও নারী ইন্টার্ন চিকিৎসকের শ্লীলতাহানীকারীদের গ্রেফতারের দাবিতে তারা বুধবার দুপুর ১টা থেকে ২টা পর্যন্ত হাসপাতালের সামনের সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। পরে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সময় বেধে দিয়ে তারা অবরোধ প্রত্যাহার করেন।

তবে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা তাদের ধর্মঘট অব্যাহত রেখেছেন। জরুরি ও হৃদরোগ বিভাগ ছাড়া হাসপাতালের অন্য সকল বিভাগে তারা সেবা দেয়া থেকে বিরত রয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার মধ্যে হামলা ও শ্লীলতাহানীর ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতার করতে না পারলে জরুরি ও বহির্বিভাগসহ সকল বিভাগের সেবা বন্ধ করে হাসপাতাল অচল করে দেয়ার হুমকি দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

বুধবার দুপুর ১টার দিকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসক ও মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ শুরু করেন। এসময় তারা হাসপাতালের সামনের সড়ক অবরোধ করেন। সড়কে বসে তারা শ্লোগান দিতে থাকেন। কিছুক্ষণ পর বিক্ষোভে অংশ নেন হাসপাতালের মিডলেভেল চিকিৎসক পরিষদের নেতারা। দ্রুত সময়ের মধ্যে নারী ইন্টার্ন চিকিৎসকের শ্লীলতাহানী ও মেডিকেল শিক্ষার্থীদের উপর হামলাকারীদের গ্রেফতার করা না হলে মিডলেভেল চিকিৎসকরাও আন্দোলনে নামার ঘোষণা দেন।

বেলা পৌনে ২টার দিকে অবরোধস্থলে আসেন হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মাহবুবুর রহমান ভূইয়া। আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ইতিমধ্যে পুলিশ অভিযুক্ত দুইজনকে গ্রেফতার করেছে। বাকিদেরও গ্রেফতারের চেষ্টা করছে। এছাড়া ইন্টার্ন চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীরা হাসপাতাল ও কলেজের নিরাপত্তা বৃদ্ধিসহ যেসব দাবি জানিয়েছেন সেগুলোও দ্রুততম সময়ের মধ্যে পূরণের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে ইতিমধ্যে হাসপাতাল পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন এবং সরকারের ঊধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা হয়েছে বলেও জানান হাসপাতালের পরিচালক। তার আশ্বাস পেয়ে আন্দোলনকারীরা বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সময় বেধে দিয়ে অবরোধ প্রত্যাহার করেন। তবে তারা কাজে ফিরেননি। এদিকে, সকাল ৮টার মধ্যে আসামিরা গ্রেফতার না হলে তারা জরুরি ও বহির্বিভাগসহ সকল বিভাগে সেবা বন্ধ করে দিয়ে হাসপাতাল অচল করে দেওয়ার ঘোষণা দেন।

এর আগে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মাহবুবুর রহমান ভূইয়া জানান, ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ধর্মঘটের কারণে সেবা কার্যক্রমে কিছু ব্যাঘাত ঘটছে। তবে হাসপাতালের সার্বিক সেবা কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে।

গত রবিবার দুপুরে এক রোগীর দুই স্বজনের সাথে ইন্টার্ন চিকিৎসক ইমন আহমদের বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে ওই দুই স্বজনকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বিষয়টি মীমাংসা হয়। এর জের ধরে পরদিন সোমবার রাত ৮টার দিকে ইন্টার্ন চিকিৎসক ইমন আহমদ ও ওসমানী মেডিকেল কলেজের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র রুদ্র নাথের উপর হামলা চালায় কয়েকজন দুর্বৃত্ত। আহতাবস্থায় তাদের ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে সোমবার রাত ১০টার দিকে ধর্মঘটের ডাক দেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। তারা জরুরি, হৃদরোগ ও বহির্বিভাগ ছাড়া হাসপাতালের সকল বিভাগে সেবা বন্ধ করে দেন। এছাড়া কলেজের সামনের সড়কে অবস্থান নিয়ে অবরোধ করেন। তাদের সাথে যুক্ত হন মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা।

আন্দোলনকারীরা মেডিকেল কলেজে স্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, হামলাকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা, হামলাকারীদের বিরুদ্ধে মেডিকেল প্রশাসনের মামলা করাসহ পাঁচ দাবি জানান। তাদের দাবিগুলো বাস্তবায়নের আশ্বাস দিলে রাত ৩টার দিকে ধর্মঘট ও অবরোধ প্রত্যাহার করেন আন্দোলনকারীরা। তবে এসময় তারা হামলাকারীদের গ্রেফতারে মঙ্গলবার দুপুর ২টা পর্যন্ত সময় বেধে দেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মূল আসামিদের কেউ গ্রেফতার না হওয়ায় মঙ্গলবার ২টা থেকে ফের ধর্মঘট শুরু করেন তারা।

ওসমানী মেডিকেল কলেজের দুই শিক্ষার্থীর ওপর হামলা ও নারী ইন্টার্ন চিকিৎসকের শ্লীলতাহনির অভিযোগে ৮ জনকে আসামি করে মঙ্গলবার দুপুরে কোতোয়ালি থানায় দুটি মামলা দায়ের করা হয়। ওসমানী হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ হানিফ এবং ওসমানী মেডিকেল কলেজের পিএ-টু প্রিন্সিপাল ও সচিব (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মাহমুদুল রশিদ বাদী হয়ে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেন।

দুই মামলার আসামিরা হলেন-দিব্য, আব্দুল্লাহ, এহসান, মামুন, সাজন, সুজন, সামি ও সাঈদ হাসান রাব্বি। আসামিদের সবাই ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে জানা গেছে। তাদের মধ্যে নগরীর মুন্সিপাড়ার মৃত রানা আহমদের ছেলে সাঈদ হাসান রাব্বি ও কাজলশাহ এলাকার আব্দুল হান্নানের ছেলে এহসান আহমদকে সোমবার দিবাগত রাতে পুলিশ গ্রেফতার করে। রাব্বি সিলেট মহানগরীর ৩ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক।

বিডি প্রতিদিন/এমআই

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ খবর