সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দায়িত্বরত এক নারী ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর হামলা ও ওয়ার্ডে ভাঙচুরের ঘটনায় কর্মবিরতি পালন করছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। শনিবার সকাল থেকে নিরাপদ কর্মস্থলের দাবিতে হাসপাতালে আগত রোগীদের কোন সেবা না দিয়ে হামলাকারীদের বিচারের আওতায় নিয়ে আসার জন্য তারা কর্মবিরতি পালন করছেন।
এদিকে, সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক প্রশাসন ও প্রশিক্ষণ ডা. মো. কামরুজ্জামান বলেন, হাসপাতালে যে ঘটনা ঘটেছে তা একেবারেই ন্যাক্কারজনক। আমরা ইতোমধ্যে ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদের শীর্ষ স্থানীয়দের খবর দিয়েছি তারা আসার পরপরই কর্মবিরতীর ব্যাপারে কথা বলবো তাদের সাথে। তারা তাদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে কাজে যোগদানের জন্য আমরা আহ্বান জানাবো।
তিনি জানান, হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতীতে রোগীদের সেবার ক্ষেত্রে কোন জটিলতা নেই। রোগীদের সেবা চলমান রয়েছে। হাসপাতালে আমাদের ইনডোর মেডিকেল অফিসার, রেজিস্ট্রার, সহকারী রেজিস্ট্রারসহ দায়িত্বরতরা রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। তবে রোগীদের সেবার ক্ষেত্রে ঘটনার সময় চিকিৎসকের দায়িত্বে গাফিলতি থাকলে তা তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে আন্দোলনে থাকা ইন্টার্ন চিকিৎসক মার্জিয়া আলম বলেন, দায়িত্বরত চিকিৎসক সেবা দিতে হলে অনেক কিছু প্রক্রিয়া রয়েছে হাসপাতালের। যারা রোগী নিয়ে এসেছে তারা সেই নিয়ম না মেনে ইন্টার্ন চিকিৎসকের কাছে গিয়ে রোগীর জন্য ওষুধ চান। তখন ইন্টার্ন চিকিৎসক রোগী না দেখে ওষুধ দেয়া যাবে না বলে জানালে রোগীর স্বজনরা ক্ষিপ্ত হয়ে হামলা ও ভাঙচুর করে। এসময় তারা আমাদের নারী চিকিৎসককে হেনেস্তা করে। আমাদের দাবি না মানা পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাবো বলে তিনি জানান।
অপরদিকে, শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১১টার দিকে হাসপাতালের চারতলার ৪ নম্বর ওয়ার্ডে হামলা ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় পুলিশ ১ নারী ও ২জন পুরুষকে আটক করেছে। তাদের মধ্যে দুজন আহত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। আটকরা সবাই সুনামগঞ্জের বাসিন্দা বলে পুলিশ জানায়।
আটকরা হলেন- সুনামগঞ্জের ছাতক থানার খৈতর গ্রামের সুরুজ আলীর ছেলে শিমুল আহমদ (৩৫), একই গ্রামের শিমুল আহমদের স্ত্রী নাজিরা সিদ্দিকা (৩২) ও ছাতক থানাধীন দৌলতপুর গ্রামের বাসিন্দা জাবেদ মিয়া (৩০)।
পুলিশ সূত্র জানায়, হামলার ঘটনার খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানা পুলিশের একটি দল শুক্রবার রাতেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে। এসময় হাসপাতালের ৪ নম্বর ওয়ার্ড থেকে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় ১ নারীসহ তিনজনকে আটক করেছে। তারাও আহত হন। আহতদের মধ্যে ১ নারী ও ১জন পুরুষকে সিলেটের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অন্য পুরুষকে কোতোয়ালি থানায় রাখা হয়েছে।
বিডি প্রতিদিন/আরাফাত