ইতালির রাজধানী রোমে স্ত্রী ও পাঁচ বছর বয়সী কন্যাসহ নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার প্রবাসী কামাল উদ্দিন বাবুল (৩৯)। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন তার ১৮ বছর বয়সী ছেলে আমির হোসেন অয়ন, যিনি বর্তমানে ইতালির একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
নিহতের পরিবারের দাবি, প্রায় এক বছর আগে বাংলাদেশে অবস্থানকালে কামাল উদ্দিন বাবুলকে হত্যার হুমকি দিয়ে গ্রামের বাড়িতে একটি উড়ো চিঠি পাঠানো হয়েছিল। বিষয়টি সে সময় মৌখিকভাবে কোম্পানীগঞ্জ থানাকে জানানো হলেও পরবর্তীতে আর কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
শনিবার সকালে হত্যাকাণ্ডের খবর দেশে পৌঁছালে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে নিহতের বাড়িতে শোকের মাতম নেমে আসে। স্বজন, প্রতিবেশী ও এলাকাবাসী ভিড় করেন পরিবারটিকে সান্ত্বনা জানাতে। একই সঙ্গে তারা হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
নিহতের বাবা সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘২০২৫ সালে আমার ছেলে দেশে এলে তাকে হত্যার হুমকি দিয়ে আমাদের বাড়িতে একটি উড়ো চিঠি পাঠানো হয়েছিল। বিষয়টি আমরা মৌখিকভাবে কোম্পানীগঞ্জ থানাকে জানিয়েছিলাম।’
তিনি জানান, শুক্রবার ইতালির স্থানীয় সময় রাত প্রায় ৯টার দিকে রোমের পশ্চিমাঞ্চলীয় অরেলিও এলাকার ভিয়া মন্টিগ্লিও সড়কের একটি আবাসিক ফ্ল্যাটে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। জীবিকার সন্ধানে প্রায় ১০ বছর আগে ইতালিতে পাড়ি জমান কামাল উদ্দিন বাবুল।
নিহতরা হলেন- কামাল উদ্দিন বাবুল, তার স্ত্রী মমতাজ বেগম আরজু (৩৮) এবং পাঁচ বছর বয়সী কন্যা আরওয়া ইসলাম আরিশা। তাদের ছেলে আমির হোসেন অয়ন গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, তার অবস্থা বর্তমানে শঙ্কামুক্ত।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ইতালির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে এবং ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
ইতালির বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার রাতে ওই ফ্ল্যাট থেকে চিৎকারের শব্দ শুনে প্রতিবেশীরা পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, ধারালো অস্ত্র দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করে তাদের হত্যা করা হয়েছে। পরে রোম পুলিশের বিশেষ তদন্ত ইউনিট ও ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করেন।
এদিকে কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি মো. নুরুল হাকীম বলেন, ভুক্তভোগী পরিবার সে সময় মৌখিকভাবে বিষয়টি জানিয়েছিল। এরপর পুলিশ নিয়মিত রাত্রীকালীন টহলের মাধ্যমে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা নিয়েছিল।
বিডি-প্রতিদিন/এমএল