নিউ জার্সি স্টেডিয়ামের ঝাঁ চকচকে আলো আর গ্যালারির গর্জন থেকে কয়েক হাজার মাইল দূরে ইংল্যান্ডের নর্থ ইস্টের এক সাধারণ কৃত্রিম টার্ফে দাঁড়িয়ে নিজের ফুটবল ক্যারিয়ারের শুরুটা দেখেছিলেন ড্যান বার্ন। ২০০৯ সালে ইংল্যান্ডের ‘ক্লাবস ফর ইয়ং পিপল’ প্রতিনিধি দলে জায়গা পাওয়ার মাধ্যমেই ভাগ্য বদলের পালা শুরু হয়েছিল এই ডিফেন্ডারের। অথচ সেই সময়ের ড্যান বার্ন আজকের মতো বিশ্বসেরা তারকা ছিলেন না; বরং নিউক্যাসল ইউনাইটেডের একাডেমি থেকে বাদ পড়ার পর হতাশায় ডুবে থাকা এক কিশোর, যিনি সেই সময় পড়াশোনার পাশাপাশি স্থানীয় একটি সুপারমার্কেটে কাজ করতেন।
তৎকালীন ইংল্যান্ডের বয়েজ ক্লাব ম্যানেজার অ্যালান ওয়াটসন সেই সময় ইংল্যান্ডের সেরা অখ্যাত ফুটবলারদের নিয়ে একটি দল গঠনের কাজ করছিলেন। ট্রায়ালের মাধ্যমে নজর কাড়া ১৭ বছর বয়সী ড্যান বার্নকে নিয়ে ওয়াটসন এতটাই নিশ্চিত ছিলেন যে, তিনি তখন থেকেই বলেছিলেন, একদিন বার্ন ইংল্যান্ডের মূল জাতীয় দলের হয়ে খেলবেন। সতীর্থ লুইস ব্লিসেট সেই স্মৃতির রোমন্থন করতে গিয়ে জানান, তৎকালীন ইংল্যান্ড দলের হয়ে খেলার সময় বার্নকে দেখে তাদের মনে হতো দলের অন্য সবার চেয়ে সে অনেক বেশি পরিণত। উচ্চতা অনেক বেশি হলেও বল পায়ে বার্নের কারিকুরি ছিল মুগ্ধ করার মতো। সেই সময় থেকেই তার শান্ত স্বভাব আর পেশাদার মনোভাব অন্যদের চেয়ে তাকে আলাদা করে রেখেছিল।
ড্যান বার্নের এই অদম্য জেদ আর পরিশ্রমের গল্পটা খুব একটা সহজ ছিল না। ডার্লিংটনের হয়ে নিজের প্রতিভার ঝলক দেখানোর পর ফুলহ্যামে পাড়ি জমান তিনি। কিন্তু সেখানে থিতু হতে না পেরে আবারও হোঁচট খান। তবুও ভেঙে না পড়ে উইগান এবং ব্রাইটনের হয়ে নিজেকে নতুন করে গড়ে তোলেন। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে নিজের প্রিয় ক্লাব নিউক্যাসল ইউনাইটেডে ফেরা এবং ২০২৩ ও ২০২৫ সালে দলকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে তোলার মূল কারিগর হয়ে ওঠেন তিনি। দীর্ঘ ৭০ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে লিভারপুলকে হারিয়ে নিউক্যাসল যখন ইএফএল কাপ জয় করে, সেই ম্যাচে গোল করে ইতিহাস গড়েন বার্ন। এর ঠিক এক সপ্তাহ পরই জাতীয় দলের জার্সি গায়ে অভিষেক হয় তার।
আজকের ড্যান বার্ন টমাস টুখেলের ইংল্যান্ড স্কোয়াডের এক আস্থার নাম। মাঠের খেলায় নিজের সেরাটা দেওয়ার পাশাপাশি সতীর্থদের মনোবল জোগাতেও তিনি সমান পারদর্শী। ফুটবল বিশ্বের অন্যতম বড় মঞ্চ বিশ্বকাপে নিজের ৩৪ বছর বয়সে প্রথমবার খেলতে নামার প্রহর গুনছেন তিনি। সুপারমার্কেটের সাধারণ কর্মী থেকে বিশ্বমঞ্চের তারকা হয়ে ওঠার এই অবিশ্বাস্য যাত্রা ড্যান বার্নের দৃঢ় সংকল্প এবং কখনো হাল না ছাড়ার অনন্য এক গল্প হয়ে থাকবে।
সূত্র: বিবিসি
বিডি প্রতিদিন/এনএইচ