ফুটবল বিশ্বের দুই মহাতারকা লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো কেবল মাঠের লড়াইয়েই নয়, সম্পদের পাহাড় গড়ার প্রতিযোগিতাতেও একে অপরকে টেক্কা দিয়ে যাচ্ছেন। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে বিলিয়নেয়ার ক্লাবে নাম লিখিয়েছেন ইন্টার মায়ামির আর্জেন্টাইন জাদুকর লিওনেল মেসি। ফোর্বসের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, মেসির বর্তমান নিট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১.১ বিলিয়ন ডলার। ইতিহাসের মাত্র চারজন সক্রিয় অ্যাথলেটের একজন হিসেবে এই মাইলফলক স্পর্শ করেছেন তিনি, যেখানে তার সঙ্গী লেব্রন জেমস, টাইগার উডস এবং চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো।
মেসির এই বিলিয়নিয়ার হওয়ার যাত্রাটি অবশ্য রোনালদোর চেয়ে বেশ ভিন্ন। ২০০৮ সালে প্রথমবার বিশ্বের সর্বোচ্চ আয় করা ফুটবলারদের তালিকায় নাম তোলার পর থেকে বার্সেলোনায় থাকাকালীন তার আয়ের গ্রাফ ছিল আকাশচুম্বী। তবে সৌদি আরবের ক্লাব থেকে আসা ৪০০ মিলিয়ন ডলারের বিশাল প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে তিনি যেভাবে ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তা অনেকের কাছে বিস্ময়কর মনে হয়েছিল। মূলত এমএলএসে খেলার সময় বেতন ছাড়াও অ্যাপল টিভি ও অ্যাডিডাসের মতো পার্টনারদের কাছ থেকে পাওয়া লভ্যাংশ এবং ক্লাবটিতে নিজের ইক্যুইটি মেসিকে এই উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। তার ক্যারিয়ারের মোট আয়ের পরিমাণ প্রায় ১.৮ বিলিয়ন ডলার, যা রোনালদো ও টাইগার উডসের পরেই অবস্থান করছে।
অন্যদিকে, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো মেসির আগেই বিলিয়নিয়ার ক্লাবে প্রবেশ করেছিলেন। আল নাসরে খেলাকালীন তার বিশাল অংকের ট্যাক্স-মুক্ত বেতন তাকে এই দৌড়ে অনেকটা এগিয়ে দিয়েছে। বর্তমানে রোনালদোর নিট সম্পদের পরিমাণ ১.২ থেকে ১.৪ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে, যা তাকে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী অ্যাথলেট হিসেবে প্রতিষ্ঠিত রেখেছে। বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, রোনালদোর সম্পদ মূলত তার বর্তমান বিশাল বেতন চুক্তির ওপর নির্ভরশীল, যেখানে মেসির সম্পদ অনেক বেশি বৈচিত্র্যময়। মেসি তার ক্যারিয়ারের দুই দশকে গড়ে তোলা ব্র্যান্ড ভ্যালু, রিয়েল এস্টেট বিনিয়োগ এবং বিভিন্ন ব্যবসায়িক উদ্যোগের মাধ্যমে এই বিশাল সম্পদ অর্জন করেছেন।
ফুটবল ইতিহাসের এই দুই কিংবদন্তি এখন কেবল মাঠের পারফরম্যান্সেই নয়, আধুনিক ক্রীড়া অর্থনীতির অপ্রতিদ্বন্দ্বী সম্রাট হিসেবে নিজেদের অবস্থান পাকাপোক্ত করেছেন। ডেভিড বেকহামের মতো তারকারা অবসর নেওয়ার পর বিলিয়নিয়ার হওয়ার গৌরব অর্জন করতে পারলেও মেসি ও রোনালদো খেলোয়াড়ি জীবন থাকতেই এই অসাধ্য সাধন করেছেন। বর্তমানে রোনালদো সম্পদের দিক থেকে এগিয়ে থাকলেও মেসির অর্জিত এই মাইলফলকটি তার দীর্ঘমেয়াদী কৌশল এবং মাঠের বাইরের স্মার্ট বিনিয়োগের এক অনন্য দলিল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিডি প্রতিদিন/এনএইচ