দীর্ঘ দুই বছরের স্থবিরতা কাটিয়ে অবশেষে আশার আলো দেখছেন কলকাতার নিউ মার্কেটসহ সংলগ্ন এলাকার ব্যবসায়ীরা। ২৮ জুন থেকে বাংলাদেশিদের জন্য ভারতের ভ্রমণ ভিসা পুনরায় চালু হওয়ার খবরে খুশির হাওয়া বইছে শহরজুড়ে। ভিসা পরিষেবা চালুর এই ঘোষণায় একদিকে যেমন স্বস্তি ফিরেছে ব্যবসায়ীদের মনে, তেমনি দীর্ঘদিনের মন্দা কাটিয়ে ফের পুরনো ছন্দে ফেরার স্বপ্নে বিভোর হয়ে উঠেছেন মারকুইস স্ট্রিট, ফ্রি স্কুল স্ট্রিট ও সদর স্ট্রিটের ব্যবসায়ীরা।
দীর্ঘদিন বাংলাদেশি পর্যটকদের আনাগোনা বন্ধ থাকায় কলকাতার পর্যটননির্ভর এই অঞ্চলগুলোতে এক ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছিল। হোটেল থেকে শুরু করে পোশাক, খাবার, ওষুধ এবং মুদ্রা বিনিময়—প্রতিটি খাতের ব্যবসায়ীরাই বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছিলেন। অনেক ব্যবসায়ী কর্মী ছাঁটাই করতে বাধ্য হয়েছেন, আবার অনেকে টিকে থাকতে না পেরে ব্যবসা গুটিয়ে নিয়েছেন। কামরুদ্দিন মালিকের মতো ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী, গত দুই বছরে এই এলাকায় ব্যবসা প্রায় ৬০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গিয়েছিল। কিন্তু এখন ভিসা চালুর খবরে ব্যবসায়ী মহলে স্বস্তির নিঃশ্বাস বইছে।
পর্যটকদের স্বাগত জানাতে এবং তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শনিবার বিশেষ বৈঠকে বসেছিলেন মারকুইস স্ট্রিট-ফ্রি স্কুল স্ট্রিট ওয়েলফেয়ার সোসাইটির সদস্যরা। ওই বৈঠকে পর্যটকদের পরিষেবা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং যেকোনো সমস্যায় দ্রুত সহায়তার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। ব্যবসায়ীরা চেয়েছেন, আগের মতোই বাংলাদেশিরা যেন কলকাতায় এসে এক নিরাপদ ও স্বচ্ছন্দ পরিবেশ পান। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের উদ্যোগে এলাকার প্রায় ৩৬টি সিসিটিভি ক্যামেরা নতুন করে পরীক্ষা করা হয়েছে, যাতে কোনো পর্যটক সমস্যায় পড়লে দ্রুত ফুটেজের মাধ্যমে তাঁদের সহায়তা করা যায়।
পরিবহন ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন যে, শুধু মেডিকেল ভিসার ওপর ভিত্তি করে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা সম্ভব ছিল না, যার ফলে গোটা এলাকাটিই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এখন সব ধরনের ভ্রমণ ভিসা চালু হওয়ায় ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হবে। বিশেষ করে ফার্মেসি এবং কসমেটিক্স ব্যবসায়ীরা বেশি আশাবাদী, কারণ বাংলাদেশি পর্যটকদের একটি বড় অংশ নিয়মিত কলকাতা থেকে এসব সামগ্রী সংগ্রহ করেন।
শুধু নিউ মার্কেট নয়, এই আনন্দের জোয়ার ছড়িয়ে পড়েছে বড়বাজারসহ কলকাতার অন্যান্য পর্যটন নির্ভর এলাকায়। ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা, বাংলাদেশি পর্যটকদের আগমনে ফের সরগরম হয়ে উঠবে কলকাতার চেনা রাস্তাঘাট। দীর্ঘ অপেক্ষার পর এই প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসাকে তাঁরা শুধু অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার নয়, বরং দুই দেশের মানুষের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের এক শুভ সংকেত হিসেবেই দেখছেন। এখন শুধু পর্যটকদের ফিরে আসার অপেক্ষা, যাতে আবারও চেনা ব্যস্ততায় ফিরে আসতে পারে ‘পুরনো কলকাতা’।
বিডি প্রতিদিন/এনএইচ