গোপালগঞ্জে প্রথম শ্রেণির এক মাদরাসা শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে মুস্তাফিজুর রহমান (জিন্দার) নামের এক শিক্ষককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবার সাড়ে ১০টার দিকে টিফিনের সময় বিস্কুট ও চকলেট দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে শিশুটিকে নিজের কক্ষে ডেকে নেন মুস্তাফিজুর রহমান। পরে কক্ষের দরজা-জানালা বন্ধ করে তাকে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এর আগেও একইভাবে একাধিকবার শিশুটির ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছে বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। বিষয়টি কাউকে জানালে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে। পরে শিশুটি বাড়ি ফিরে শারীরিক অসুস্থতা ও ব্যথার কথা মাকে জানায়। পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি জানতে পেরে তাকে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন এবং থানায় মামলা করেন।
ওই শিশু (৬) এর মা বলেন, শুক্রবার থেকে আমার মেয়ে কয়েকদিন যাবত মল ও মূত্রত্যাগের সময় কান্নাকাটি করে খুব যন্ত্রণা হয় বলে জানায়। আমি ভাবতাম পানি কম খাওয়ার কারণে হয়ত এমন হয়েছে। শুক্রবার ওয়াশরুম থেকে আসার পর আমাকে মেয়ে বলছে, মা আমাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে চলো তানাহলে আমি মারা যাব। তখন আমি জানতে পারি মাদ্রাসা ওই শিক্ষক আমার মেয়েকে প্রতিনিয়ত শারীরিক নির্যাতন করে আসছে। ওই সময় আমি মেয়েকে নিয়ে থানায় গিয়ে মামলা করি।
শনিবার গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে শারীরিক পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। ওই শিক্ষক এর আগেও এক ছাত্রীর সাথে অনৈতিক কাজ করে টাকা দিয়ে ধামাচাপা দিয়েছে।
কাশিয়ানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান জানান, এ ঘটনায় ওই শিশুর মা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে শনিবার মামলা দায়ের করে। ওই মামলায় পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে মুস্তাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
বিডি প্রতিদিন/এএম