যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি ইরানে হামলা করেছে। এই হামলা নিয়ে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া ভাষায় সতর্ক করেছে। তারা বলছে, ইরানে হামলা করে যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা চুক্তির ৫ নম্বর অনুচ্ছেদ ভেঙেছে। এই অনুচ্ছেদে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার কথা ছিল।
আইআরজিসি আরও বলছে, এই প্রণালি দিয়ে কোনো জাহাজকে যেতে হলে অবশ্যই ইরানের সাথে আলোচনা করে যেতে হবে।
অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তারা বলছে, চুক্তির ১ নম্বর অনুচ্ছেদে যুদ্ধ বন্ধের কথা বলা হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্র সেটিও ভেঙেছে। ফলে হরমুজ প্রণালি নিয়ে এখন দুই দেশের মধ্যে বিবাদ বাড়ছে।
এদিকে ইরানে মার্কিন হামলার বদলা নিয়েছে আইআরজিসি। তারা উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কিছু স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালিয়েছে। শনিবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের এক বার্তায় তারা এই কথা জানায়। আইআরজিসি সতর্ক করে বলেছে, ‘আবারও হামলা হলে আমাদের জবাব আরও ব্যাপক হবে।’
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী জানিয়েছিল, হরমুজ প্রণালিতে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা হয়েছিল। এর জবাবেই তারা ইরানে হামলা করে। ওয়াশিংটনের দাবি, ওই জাহাজে হামলার জন্য ইরান দায়ী। শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী জাহাজ ‘এভার লাভলি’-তে হামলা করাটা ১৭ জুনের চুক্তির একটি ‘বোকামিপূর্ণ লঙ্ঘন’।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেছিল। গত সপ্তাহে যুদ্ধ থামাতে দুই দেশ একটি চুক্তি সই করে। এতে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে স্থায়ীভাবে হামলা বন্ধের কথা ছিল। সবাই ভেবেছিল এবার হয়তো শান্তি ফিরবে। কিন্তু হরমুজ প্রণালিতে নতুন হামলার কারণে পরিস্থিতি আবার অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের পাঁচ ভাগের এক ভাগ তেল ও গ্যাস পারাপার হয়। তাই এই নতুন সংঘাতের কারণে সারা বিশ্বে জ্বালানির বাজার আবারও অস্থির হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিডিপ্রতিদিন/কেকে