ওয়াশিংটনে চারদিন ধরে চলা আলোচনার পর নতুন একটি চুক্তির আওতায় দক্ষিণ লেবাননের দুটি এলাকা থেকে সেনা প্রত্যাহারের কথা জানিয়েছে ইসরায়েল। একই সঙ্গে সেই স্থানের নিয়ন্ত্রণ লেবাননের সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হবে।
ইসরায়েলের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার মতে, এই আলোচনার ফলে ইসরায়েল লেবানন এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি ত্রিপাক্ষিক চুক্তি হয়েছে। এতে বৃহত্তর শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে ‘ভবিষ্যৎ সমঝোতার’ পথ প্রশস্ত করবে। চুক্তি স্বাক্ষরের সময় যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত লেবাননের রাষ্ট্রদূত নাদা হামাদেহ মোয়াওয়াদ বলেন, এই চুক্তিটি হবে ‘লেবাননের সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা পুনরুদ্ধারের পথে প্রথম পদক্ষেপ’।
অপরদিকে ইসরায়েলল প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানান, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) দক্ষিণ লেবাননের লিটানি নদীর উত্তরে এবং অন্যটি নদীর দক্ষিণে অবস্থিত দুটি এলাকা থেকে সেনা প্রত্যাহার করা হবে। দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েল-নিয়ন্ত্রিত ভূখণ্ডের মধ্যে লিটানি নদীর দক্ষিণের এলাকাটিও অন্তর্ভুক্ত।
স্থানীয় সময় শুক্রবার(২৬ জুন) সন্ধ্যায় আগে থেকে ধারণ করা এক ভিডিও বার্তায় নেতানিয়াহু ইসরায়েলি বাহিনীর এই পদক্ষেপকে লেবাননে আইডিএফ-এর ‘প্রয়োজন নেই’ এমন সব স্থান ত্যাগ করা হিসেবে বর্ণনা করেন।
কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকা লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে একটি বৃহত্তর চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে আলোচনার আয়োজন করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, আজকের দিনটি হলো ‘সূচনারও সূচনা’। তিনি আরও বলেন, সামনে অনেক কাজ বাকি। আমরা কোনোভাবেই সামনের কাজের জটিলতাকে খাটো করে দেখছি না। তবে আমরা এর গুরুত্ব ও অপরিহার্যতা বুঝি। এবং এই প্রক্রিয়াটি বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখতে পেরে আমরা গর্বিত।
লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে একটি পরীক্ষামূলক কর্মসূচির আওতায় লেবাননের সশস্ত্র বাহিনী এসব এলাকায় প্রবেশ করবে। আলোচনার অংশ হিসেবে এবং লেবাননের সরকারের প্রতি একটি ‘সদিচ্ছার নিদর্শন’ হিসেবে ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননের দখলকৃত এলাকা থেকে ‘প্রতীকী’ সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টি বিবেচনা করছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী(আইডিএফ) জানায়, তারা লেবাননে তাদের সেনা সংখ্যা ‘সাময়িকভাবে’ কমিয়ে আনবে। তবে কোন এলাকা থেকে সেনা প্রত্যাহার করা হবে তা নিশ্চিত করেনি। এর আগের দিন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র দাবি জানালেও সেনাবাহিনী লেবানন থেকে সরে আসবে না।
নেতানিয়াহু এই চুক্তিকে ইসরায়েলের জন্য একটি বড় বিজয় হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, এর ফলে দক্ষিণ লেবাননের দখলকৃত এলাকার বড় একটি অংশ ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং যতক্ষণ না হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করা হচ্ছে, ততক্ষণ তারা সেখানে অবস্থান বজায় রাখতে পারবে।
নেতানিয়াহু বলেন, এটি ইরানের জন্যও একটি বড় আঘাত। ইরান জোরপূর্বক আমাদের দক্ষিণ লেবানন থেকে সরে যেতে বাধ্য করার চেষ্টা করছে। এখানে তাদের কোনো হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই।
রুবিও আরও বলেন, লেবানন ও ইসরায়েলের জনগণ শান্তি ও নিরাপত্তার মধ্যে বসবাস করার যোগ্য, কিন্তু দীর্ঘকাল ধরে তারা সংঘাতের শিকার হয়ে আসছে।
চুক্তি স্বাক্ষরের পর এক বিবৃতিতে লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন আলোচনার আয়োজন করার জন্য ট্রাম্প প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, এই চুক্তির ফলে লেবাননের জনগণ তাদের সম্পূর্ণ মুক্ত ভূমিতে ফিরে আসতে পারবে।
দেশটির পার্লামেন্টে হিজবুল্লাহর সদস্য হাসান ফাদাল্লাহ বলেন, ইরান-সমর্থিত এই গোষ্ঠীটি ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করেছে। তিনি আলোচনা এবং জনগণের বিরুদ্ধে নেওয়া সব সিদ্ধান্ত বাতিলের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
সূত্র: সিএনএন।
বিডি প্রতিদিন/আরকে