বিশ্বকাপের গত তিন আসরের চ্যাম্পিয়নের নাম আগেভাগেই ঠিকভাবে বলে আলোচনায় আসা জার্মান অর্থনীতিবিদ ও গবেষক জোয়াকিম ক্লেমেন্ট এবারও নিজের পূর্বাভাস প্রকাশ করেছেন। তার তৈরি পরিসংখ্যানভিত্তিক মডেল বলছে, ২০২৬ বিশ্বকাপে ব্রাজিল গ্রুপ পর্ব পেরিয়ে নকআউটে উঠলেও শেষ পর্যন্ত জাপানের কাছে হেরে বিদায় নেবে। ক্লেমেন্টের মতে, এমনটি ঘটলে সেটি হবে বিশ্বকাপের ইতিহাসের অন্যতম বড় অঘটন।
২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপে জার্মানির শিরোপা জয়, ২০১৮ সালে ফ্রান্স এবং ২০২২ সালে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ জয়ের পূর্বাভাস দিয়েছিলেন ক্লেমেন্ট। তিনবারই তার হিসাব মিলে যাওয়ায় এবারের বিশ্বকাপেও তার ভবিষ্যদ্বাণী নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
ক্লেমেন্টের মডেল শুধু সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়নের নামই নয়, টুর্নামেন্টের প্রতিটি ধাপের সম্ভাব্য ফলও অনুমান করে। তার হিসাব অনুযায়ী, ব্রাজিল নিজেদের গ্রুপে শীর্ষস্থান অর্জন করবে। তবে নকআউট পর্বে জাপানের মুখোমুখি হয়ে বিদায় নেবে। এই ফলকে তিনি বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় চমকগুলোর একটি হিসেবে দেখছেন।
তার পূর্বাভাস অনুযায়ী, এবারের বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে নেদারল্যান্ডস ও স্পেন। অন্য সেমিফাইনালে খেলবে ইংল্যান্ড ও পর্তুগাল। কোয়ার্টার ফাইনালে পর্তুগাল বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠবে। এরপর ইংল্যান্ডকেও হারিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নেবে তারা। তবে শিরোপা জিতবে নেদারল্যান্ডস। ফাইনালে পর্তুগালকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ ট্রফি নিজেদের ঘরে তুলবে ডাচরা।
তবে নিজের মডেলকে অব্যর্থ বলতে নারাজ ক্লেমেন্ট। তিনি জানান, এই গবেষণা শুরু করেছিলেন মূলত একটি ভিন্ন উদ্দেশ্যে। তার লক্ষ্য ছিল দেখানো যে, অর্থনীতিবিদেরা অনেক সময় এমন সব বিষয়ের পূর্বাভাস দেন, যেগুলোর ওপর তাদের পূর্ণ তথ্য বা নিয়ন্ত্রণ থাকে না। কিন্তু পরপর তিনটি বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন ঠিকভাবে বলে দেওয়ার পর অনেকেই তাকে 'বিশ্বকাপ গুরু' হিসেবে দেখতে শুরু করেছেন।
ক্লেমেন্টের মতে, একটি দলের বিশ্বকাপে ভালো করার পেছনে জনসংখ্যা, অর্থনৈতিক শক্তি, আবহাওয়া এবং আন্তর্জাতিক র্যাঙ্কিংয়ের মতো কিছু বিষয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তার মডেলেও এসব তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে। তবে তিনি মনে করেন, এগুলো একটি ম্যাচের পুরো চিত্র তুলে ধরে না।
তার ভাষায়, ফুটবলে সাফল্যের অন্তত অর্ধেক নির্ভর করে ভাগ্যের ওপর। কোনো ম্যাচে একটি রেফারির সিদ্ধান্ত, একটি ভুল, একটি লাল কার্ড কিংবা বল পোস্টে লেগে জালে ঢুকবে নাকি বাইরে চলে যাবে এসব ছোট ছোট ঘটনাই ম্যাচের ফল বদলে দিতে পারে। আর এসব বিষয় আগে থেকে কোনো মডেলের পক্ষেই নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।
ক্লেমেন্ট আরও বলেন, প্রতি চার বছর পর বিশ্বকাপ এলেই তিনি নতুন করে তার মডেল চালান। এটি তার কাছে শুধু গবেষণাই নয়, আনন্দেরও একটি বিষয়। যুদ্ধ, সংঘাত ও নানা সংকটে ভরা বর্তমান সময়ে বিশ্বকাপের মতো একটি আয়োজন মানুষকে কিছুটা আনন্দ দেয় বলেও মনে করেন তিনি।
সূত্র: পোভো
বিডি-প্রতিদিন/এআইডি