সিলেটের কোথাও না কোথাও প্রতিদিনই সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাচ্ছেন মানুষ। শনিবার সিলেট ও সুনামগঞ্জে পৃথক পৃথক দুর্ঘটনায় চারজন নিহত হয়েছেন। সেই সাথে দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ২০ জন।
জানা যায়, শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের ওসমানীনগর উপজেলার দয়ামীর কোনাপাড়া এলাকায় যাত্রীবাহী দুটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ২ জন নিহত এবং অন্তত ৫ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনায় শ্যামলী পরিবহন ও এনা পরিবহনের দুটি যাত্রীবাহী বাস মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়ায়। এতে শ্যামলী পরিবহনের সুপারভাইজার ও হেলপার ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
নিহতরা হলেন- শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া উপজেলার দশাই হাওলাদার গ্রামের বাসিন্দা মুজিবুর রহমান (৫৫) এবং সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার করুয়া এলাকার বাসিন্দা বকুল রবিদাশ (২৬)।
শেরপুর হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান জানান, ময়নাতদন্তের জন্য নিহতদের মরদেহ ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রাখা হয়েছে। সেই সাথে দুর্ঘটনায় কবলিত বাস দুটি পুলিশ হেফাজতে রয়েছে।
এদিকে, শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকাল ৭টার দিকে সুনামগঞ্জ-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের ছাতক উপজেলার সৈদেরগাঁও ইউনিয়নের বুড়াইরগাঁও-আলমপুর সড়কে এনা পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস ও পিকআপ ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে রাকিব হোসেন (৩০) নামে এক পিকআপচালক নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়েছেন অন্তত ৮ জন। নিহত রাকিব হোসেন যশোরের মনিরামপুর উপজেলার বেগারিতলা বাজার এলাকার লেয়াকত হোসেনের ছেলে। পিকআপটি সম্পূর্ণ দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং এনা পরিবহণের বাসটি সড়কের পাশের একটি ছোট খালে পড়ে উল্টে যায়। দুর্ঘটনার পর দুটি গাড়িই হাইওয়ে পুলিশ জব্দ করেছে। ঢাকা থেকে সুনামগঞ্জগামী এনা পরিবহণের ঢাকা মেট্রো ব-১৪-৯৫৭৪ নম্বরের এসি বাসটির সঙ্গে যশোর ন-১১-১১০২ নম্বরের পিকআপ ভ্যানটির মুখোমুখি সংঘর্ষে এ ঘটনা ঘটে।
জয়কলস হাইওয়ে থানার ওসি সুমন কুমার চৌধুরী দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ছাতকের বুড়াইরগাঁও এলাকায় একটি পিকআপ ভ্যান ও এনা পরিবহনের বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে পিকআপ চালক ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
অপরদিকে, সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলায় মোটরসাইকেলের ধাক্কায় শনিবার (১৭ জানুয়ারি) দুপুরে জুবায়ের আহমদ (৯) নামের এক মাদরাসা শিক্ষার্থীর নিহত হন। জকিগঞ্জ উপজেলার বারহাল ইউনিয়নের শাহগলী বাজারের পূর্ব পাশে সিলেট-জকিগঞ্জ সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত জুবায়ের বারহাল ইউনিয়নের বোরহানপুর গ্রামের তকু মিয়া কবিরের ছেলে এবং স্থানীয় একটি মাদরাসার শিক্ষার্থী।
জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘উদ্ধারকৃত মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে ঘাতক মোটরসাইকেল আরোহীকে শনাক্ত ও আটক করার চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’
বিডি প্রতিদিন/আরাফাত