সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার পীরের বাজারে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল জমজমাট মাছের মেলা। শনিবার দিনব্যাপী বসেছিল ঐতিহ্যের এ মেলা। মেলায় ক্রেতা-বিক্রেতা আর দর্শনার্থীদের পদচারণায় জমে ওঠে পুরো এলাকা। হাওর-নদীর বড়-বড় বোয়াল, রুই-কাতলা আর চিতলসহ তরতাজা সব মাছে মুখর ছিলো মেলা প্রাঙ্গন। দেশি-বিদেশি ও সামুদ্রিক মাছ মিলিয়ে বিক্রি হয় শতাধিক মন মাছ। যার বাজারমূল্য ২৫-৩০ লাখ টাকা প্রায়।
সরেজমিন মেলায় গিয়ে দেখা যায়, বাজারের ভেতরের মূল সড়কের দুপাশে সারি সারি দোকানে তাজা মাছের পসরা সাজিয়ে বসেছেন ব্যবসায়ীরা। আছে বোয়াল, চিতল, মহাশোল, শোল-গজার, কাতলা, রুই, মৃগেল, বাউশ ও কাকিলাসহ নানা প্রজাতির মাছ। পাশাপাশি রয়েছে দেশি ছোট মাছের সমারোহ। দেখা মিলে সামুদ্রিক মাছেরও।
প্রতিটি দোকানের সামনেই ক্রেতাদের ভিড় এবং দরদাম হাঁকানোর দৃশ্য ছিলো চোখে পড়ার মতো। মাছের আকার আর বৈচিত্র দেখে মুগ্ধ হয়ে কিনছেন অনেকেই। আবার কেউ কেউ উপভোগ করতে জমাচ্ছেন ভিড়।
এবারের মেলায় দর্শনার্থীদের বিশেষ আকর্ষণ ছিলো ৬০-৬৫৫ কেজি ওজনের বিপন্ন একটি বড় বাঘাইড় মাছ। বিক্রেতা এর দাম হাঁকেন ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা। এ মাছটি একনজর দেখতে উপচে পড়েন কৌতূহলী মানুষ।
মৎস্য ব্যবসায়ী ছয়ফুল মিয়া জানান, শেরপুরের কুশিয়ারা নদীতে ধরা বিশাল আকৃতির এ বাঘাইড় তিনি ক্রয় করে বিক্রির উদ্দেশ্যে নিয়ে আসেন। পাশাপাশি অন্যান্য জাতের মাছও এনেছেন তিনি।
আরেক ব্যবসায়ী নাঈম জানান, দেশীয় মাছের চাহিদা চাহিদাটাই ছিলো বেশি। বিকি-কিনিও মন্দ না।
মাছ কিনতে আসা যুক্তরাজ্য প্রবাসী খালেদ মিয়া বলেন, আগে দেশে আসলে দেশি মাছ তেমন একটা মিলতো না। মেলায় মাছে সরবরাহ বেশ ভালোই। অনেক দিন এক সাথে এতো মাছ দেখতে পেরে আমি আনন্দিত।
স্থানীয় মুরব্বি তখদ্দুস আলী বলেন, এক দিনের মেলায় লক্ষ লক্ষ টাকার মাছ বিক্রি হয়। ব্যবসায়ী, ক্রেতা সাধারণ ও এলাকাবাসী এ মেলা খুব আনন্দের সাথে উপভোগ করেন।
বাজারের ব্যবসায়ী ছাইলাছ মিয়া বলেন, বিশ্বনাথে এতো বড়ো মাছের মেলা আর কোথাও দেখা যায় না। আমাদের বাজারে প্রতি বছর ৫০-৬০ লক্ষ টাকার মাছ বিক্রি হয়। গেল কেবল একজন প্রবাসী মেলা থেকে, তিনি তার আত্মীয়-স্বজনদের প্রায় ৩ লক্ষ টাকার মাছ কিনে দিয়েছেন।
মেলা কমিটির সভাপতি মো. আবুল বসর বলেন, ‘পীরের বাজারে প্রতিবছর এই মেলাকে ঘিরে ব্যাপক সাড়া পাওয়া যায়। গ্রামীণ ঐতিহ্য ধরে রাখতেই আমাদের এ আয়োজন। মেলার দিলে বাজার এলাকার মাছ ও মানুষের সমাগমে উৎসব বিরাজ করে।
বিডি-প্রতিদিন/তানিয়া