শিরোনাম
প্রকাশ : ২৭ অক্টোবর, ২০২০ ১৭:০০

কাস্টমসের নিলাম শাখায় চালু ই-অকশন পদ্ধতি

ফারুক তাহের, চট্টগ্রাম

কাস্টমসের নিলাম শাখায় চালু ই-অকশন পদ্ধতি

কাস্টমসের নিলাম শাখায় প্রথমবারের মতো চালু হচ্ছে ই-অকশন পদ্ধতি। এখন থেকে যে কোনো স্থান থেকেই আগ্রহীরা নিলামে অংশ নিতে পারবেন। এতে একদিকে সময় বাঁচবে, অন্যদিকে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতাও নিশ্চিত হবে। বর্তমানে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে জব্দ পণ্যের নিলাম প্রক্রিয়াটি বেশ জটিল এবং সময়সাপেক্ষ। ই-অকশন পদ্ধতির কারণে জটিলতাও কমে আসবে।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের ই-অকশন পদ্ধতির উদ্বোধনকালে আমন্ত্রিত বক্তারা এসব কথা বলেন। 

মঙ্গলবার দুপুরে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের হল রুমে এ পদ্ধতির উদ্বোধন করেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সদস্য মাসুদ সাদিক। এ সময় কাস্টমস কর্মকর্তা, সিএন্ডএফ এজেন্ট, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ ও ব্যাংকের প্রতিনিধি এবং ব্যবসায়ীরা উপস্তিত ছিলেন।

এনবিআর সদস্য সদস্য মাসুদ সাদিক বলেন, ‘ই-অকশন হচ্ছে আধুনিক ও যুগোপযোগী একটি পদ্ধতি। এতে কাস্টমসে অনিয়ম দুর্নীতি অনেকটা কমে যাবে। কাস্টমসের কার্যক্রম আরো তরান্বিত হবে। চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস ডিজিটাইজেশনের আওতায় এলে পণ্য আমদানিতে ওভার ইনভয়েসিং করে দেশ থেকে মুদ্রাপাচার রোধ করা যাবে। এর পাশাপাশি আগামীতে ই-পেমেন্ট পদ্ধতির চালু করা হবে শতভাগ।

জানা যায়, ই-অকশন চালু হলে নিলামে অংশগ্রহণকারীরা পণ্যের দর, পণ্যের তালিকা, পণ্যের ছবি দেখতে পাবেন নিজ কর্মস্থলে বসে অনলাইনের মাধ্যমে। প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত পূরণ করে ঘরে বসেই নিলামে অংশ নেওয়া যাবে। দেখতে পারবেন, কোন ক্যাটালগের সর্বোচ্চ বিডার বা দরদাতা কে হয়েছেন। এতে কোনো ধরনের ঝামেলা ছাড়াই নিলাম কাজ সম্পন্ন করতে পারবেন।

কাস্টম কর্মকর্তারা জানান, আটক পণ্য নিলামে তোলার ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। বাংলাদেশ কাস্টমস আইনে একটি নীতিমালাও রয়েছে। এছাড়া কিছু কিছু পণ্য নিলামে তোলার ক্ষেত্রে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমতি লাগে। এতে সময়ক্ষেপণ হয়। নিলামে অংশগ্রহণকারীকে কাস্টমসের নিলাম শাখায় দৌড়ঝাঁপ করতে হয়। এতে তাদের ভোগান্তি পোহাতে হয়।

জানা গেছে, আমদানিকৃত পণ্য জাহাজ থেকে বন্দর ইয়ার্ডে নামার ৩০ দিনের মধ্যে খালাস না নিলে আমদানিকারককে নোটিশ দেয় কাস্টম কর্তৃপক্ষ। এর ১৫ দিনের মধ্যে পণ্য খালাস না নিলে তা নিলামে তুলতে পারে কাস্টম। এছাড়া মিথ্যা ঘোষণা এবং ঘোষণার বেশি আনা জব্দ পণ্যও নিলামে তোলা যায়। আবার মামলাসহ নানা জটিলতায় বন্দর ইয়ার্ডে বাড়ে কনটেইনারের সারি। তৈরি হয় কনটেইনার জট। দিনের পর দিন কনটেইনার পড়ে থাকলেও বন্দর কর্তৃপক্ষ চার্জ পায় না।

চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের নিলাম শাখার ডেপুটি কমিশনার ফয়সাল বিন রহমান বলেন, ‘২৮ অক্টোবর থেকে ই-অকশন চালু হবে। ই-অকশনের এ সফটওয়ারের উদ্বোধনের ব্যবসায়ীদের বুঝানোর জন্য গত ২২ অক্টোবর একটি সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছিল। এরপরও যদি ব্যবসায়ীদের বুঝতে কোনো সমস্যা হয় তাহলে কাস্টমসের নিলাম শাখার একজন সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা দিয়ে একটি হটলাইন চালু রাখা হয়েছে। যেকোনো সময় ফোন করে বিস্তারিত জানতে পারবে ব্যবসায়ীরা।’

বিডি-প্রতিদিন/বাজিত হোসেন


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর