শিরোনাম
বুধবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৪ ০০:০০ টা

তাপপ্রবাহ থাকলেও ছুটি বাড়বে না আসবে অনলাইন ক্লাস

আকতারুজ্জামান

নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগ আর মহামারিতে লন্ডভন্ড হচ্ছে শিক্ষাসূচির। অনির্ধারিত বিভিন্ন ছুটির কারণে প্রয়োজনীয় ক্লাস না হওয়ায় ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে তৈরি হচ্ছে শিখন ঘাটতি। অনেক ক্ষেত্রে এই ঘাটতি পূরণ করার সময় না পেয়েই চূড়ান্ত পরীক্ষায় বসতে হচ্ছে ছাত্রছাত্রীদের। বিষয়টি চিন্তার উদ্রেক করেছে শিক্ষাসংশ্লিষ্টদের। চলমান তাপপ্রবাহের কারণেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনির্ধারিত ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত।

তথ্যমতে, নতুন কারিকুলাম অনুযায়ী সাপ্তাহিক ছুটি দুই দিন ধরে স্কুল-কলেজে বছরে মোট কর্মদিবস রয়েছে ১৮৫ দিন। প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা কোনো মহামারি এলে বিঘ্ন ঘটে এ কর্মদিবসে।

আবহাওয়া পরিস্থিতি বিবেচনায় দেশে চলমান এই তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। আর এই হিট অ্যালার্টের মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা থাকবে না বন্ধ থাকবে এ নিয়ে দ্বিধায় রয়েছেন ছাত্রছাত্রী ও তাদের অভিভাবকরা। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চলমান পরিস্থিতিতে অনলাইন ক্লাসের কথা ভাবছে সরকার। শিক্ষামন্ত্রী দেশের বাইরে রয়েছেন। তিনি ফিরে এলে বা তার নির্দেশনা পেলেই এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হতে পারে।

শিক্ষা প্রশাসন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকলেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি আর বাড়বে না। আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নয়ন না হলে ছাত্রছাত্রীদের জন্য নির্দেশনা আসতে পারে অনলাইন ক্লাসের। শিক্ষকরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে বা বাসায় থেকে অনলাইনে ক্লাস নেবেন- এমন নির্দেশনা দেওয়া হতে পারে।

এদিকে অভিভাবক ঐক্য ফোরামের সভাপতি মো. জিয়াউল কবির দুলু গতকাল সংবাদ মাধ্যমে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে জানান, আগামী ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও দেশের বিভিন্ন জেলায় অতি তীব্র তাপপ্রবাহ বহমান রয়েছে। এসব এলাকায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আরও এক সপ্তাহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার পরামর্শ দিয়েছে। এ অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে অভিভাবকরা শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিবেচনায় অনলাইন মাধ্যমে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার অনুরোধ জানাচ্ছে। তিনি বলেন, অনলাইনে শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা হলে তা শিক্ষার ঘাটতি পূরণে অনেকটাই সহায়ক হবে।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের পরিচালক (মাধ্যমিক) অধ্যাপক সৈয়দ জাফর আলী এ প্রসঙ্গে বলেন, অনির্ধারিত বিভিন্ন ছুটির কারণে শিক্ষাসূচি বিঘিœত হয়, স্কুল-কলেজগুলোতে নির্দিষ্ট সংখ্যক ক্লাস নেওয়া কষ্টকর হয়ে পড়ে। আর ছাত্রছাত্রীরা তখন শিখনঘাটতির মধ্যে পড়ে। চলমান তাপপ্রবাহের কারণেও শিক্ষার্থীদের অনির্ধারিত ছুটি দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, আমি মনে করি এই ছুটি শেষ হওয়ার পর গরমের তীব্রতা থাকলেও ছুটি না বাড়িয়ে অনলাইন ক্লাসের ব্যবস্থা করা উচিত। এতে অন্তত শিখনঘাটতি থেকে রক্ষা পাবে ছাত্রছাত্রীরা।

সর্বশেষ খবর