শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ৪ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ৩ জানুয়ারি, ২০২১ ২৩:৫৮

শীতে কুমড়ো বড়ি তৈরিতে ব্যস্ত নাটোরের নারীরা

নাটোর প্রতিনিধি

নাটোরের লালপুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে ঘুরে দেখা গেছে শীত মৌসুমের উপাদেয় খাবার কুমড়ো বড়ি তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন নারীরা। মাসকলাই ও চালকুমড়ো দিয়ে কুমড়ো বড়ি তৈরিতে প্রতি বছরের মতো করোনাভাইরাসের মধ্যে এ বছরেও গ্রামাঞ্চলের নারীদের ব্যস্ততার দেখা মিলছে শীতের সকালে। হিমশিতল বাতাস ও শীত উপেক্ষা করে সুস্বাদু কুমড়োর বড়ি তৈরিতে ব্যস্ত গ্রামের নারীরা। মাসকলাই ভিজিয়ে রাখার পর তা দিয়ে ডালের আটা ও পাকা চাল কুমড়ো মিশিয়ে এ সুস্বাদু বড়ি তৈরি করা হয়। গ্রামীণ এলাকার ৯০ ভাগ মহিলা পালাক্রমে একে অপরকে সহযোগিতা করে কুমড়ো বড়ি  তৈরির কাজটি করে থাকেন। এলাকার নারীরা এই বড়ি তৈরি করতে কয়েক মাস পূর্ব থেকেই চাহিদা মতো চাল কুমড়ো পাকানোর ব্যবস্থা করে থাকেন।

এরপর মাসকলাই দিয়ে তৈরি করা হয় এই সুস্বাদু খাবারের অংশবিশেষ কুমড়ো বড়ি। কুমড়ো বড়ি তৈরিতে মূলত চালকুমড়া এবং মাসকলাইয়ের ডাল প্রয়োজন হয়। মাসকলাইয়ের ডাল ছাড়াও অন্য ডালেও তৈরি হয় এ বড়ি। রোদে মচমচে করে শুকালেই এর ভালো স্বাদ পাওয়া যায়। বড়ি তৈরির পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে চাইলে উপজেলার নারীরা জানান, বড়ি তৈরির আগের দিন ডাল ভিজিয়ে রাখতে হয়। এরপর চালকুমড়ো ছিলে ভিতরের নরম অংশ ফেলে দিয়ে বাকি অংশ মিহি কুচি করে রাখতে হবে। তারপর কুমড়ো খুব ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে। ধোয়া হলে পরিষ্কার পাতলা কাপড়ে বেঁধে সারা রাত ঝুলিয়ে রাখতে হবে। পরে ডালের পানি ছেঁকে শিলপাটায় বেটে নিতে হবে। এবার ডালের সঙ্গে কুমড়ো মেশাতে হবে। খুব ভালো করে হাত দিয়ে মিশাতে হবে যতক্ষণ না ডাল-কুমড়োর মিশ্রণ হালকা হয়। তারপর কড়া রোদে চাটি বা কাপড় বিছিয়ে বড়ির আকার দিয়ে একটু ফাঁকা ফাঁকা করে বসিয়ে শুকাতে হবে। বড়ি তিন থেকে চার দিন এভাবে রোদে শুকানোর পর খাওয়ার উপযোগী হয়, পরে তা অনেক দিন সংরক্ষণ করে রাখা যায়। শীত মৌসুমে এ বড়ি তৈরি করে নিজেদের প্রয়োজন মিটিয়ে বাজারে বিক্রি করলে কিছু বাড়তি আয়ও করা যায় বলে জানান কুমড়ো বড়ি তৈরিতে ব্যস্ত নারীরা।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর