বুধবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ টা

পাঠদান বন্ধ ২০ কিন্ডারগার্টেনে

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

পাঠদান বন্ধ ২০ কিন্ডারগার্টেনে

দেড় বছর বন্ধ থাকার পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুললেও আর্থিক সংকট ও শিক্ষার্থী অন্যত্র ভর্তি হওয়ায় মৌলভীবাজারের অন্তত ২০টি কিন্ডারগার্টেন (কেজি) স্কুল পুরোদমে বন্ধ রয়েছে। বিদ্যালয়ের ভবন ভাড়া, বিদ্যুৎ বিল ও শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন দিতে না পারায় কর্তৃপক্ষ বন্ধ করে দিয়েছে। ভবন মালিকরা পরিবারের কিংবা ব্যাংক বীমার অফিস হিসেবে ভাড়া দিয়েছেন। ফলে বিপাকে পড়েছেন ২০  কেজি স্কুলের কয়েক হাজার শিক্ষার্থী। তাদের লেখাপড়া নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন অভিভাবকরা। আবার দীর্ঘদিন বেকার থাকায় শিক্ষকরা পেশা পরিবর্তন করেছেন। মৌলভীবাজার কিন্ডারগার্টেন সমিতি জানায়, জেলায় ৪১৪টি কিন্ডারগার্টেন রয়েছে। এর মধ্যে ২০টি কে.জি. স্কুল বন্ধ হয়ে গেছে। যেগুলো আর কখনো খুলবে না। অনেক বিদ্যালয় ভবন ভাড়া দেওয়া হয়েছে। বন্ধ হওয়া বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছেন। আবার অনেকেই ভর্তি হচ্ছেন না। নানা কাজে জড়িয়ে পড়েছেন। কিন্ডারগার্টেন স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় বহু শিক্ষার্থী কোনো না কোনো কাজে যুক্ত হয়েছে। এই মুহূর্তে তাদের পড়ার টেবিলে বসানো মুশকিল। বন্ধ হয়ে যাওয়া জুড়ি উপজেলার মাতৃছায়া শিশু শিক্ষা একাডেমি। করোনার আগে শতখানেক শিক্ষার্থী নিয়ে স্কুলে ক্লাস চলছিল। শিক্ষক ছিলেন ১০ জন। স্কুল প্রধান মো. ইয়াহিয়া বলেন, ‘করোনা শুরুর পর থেকে স্কুল বন্ধ করে দেই। স্কুলের ভাড়াসহ যাবতীয় খরচ চালানো আমাদের পক্ষে সম্ভব ছিল না। স্কুলটি স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সদর উপজেলা কলম্বিয়া, পলাষ্টিকা ও ফিউচার ব্রাইটসহ অনেক বিদ্যালয় বন্ধ রয়েছে। বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশন মৌলভীবাজার জেলা শাখার সভাপতি এহসান বিন মুজাহির বলেন, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকাবস্থায় সরকারিভাবে বড় ধরনের কোনো সহযোগিতা না করায় অর্থিক সংকটে প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ হয়েছে।

   মৌলভীবাজার শহরতলীর মডেল জুনিয়র বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মুহিবুর রহমান বলেন, প্রতি বছর কেজি স্কুল থেকে অনেক শিক্ষার্থী বের হয়। এই সব প্রতিষ্ঠান টিকিয়ে রাখতে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা জরুরি। চলতি সময় করোনা মহামারীতে অনেক স্কুল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী কাজে লেগে গেছে। আবার কেউ কেউ এ বছর আর ভর্তি হতে চাচ্ছে না। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সামছুর রহমান বলেন, কভিড-১৯ এর কারণে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। এখন  বেসরকারি যে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন কারণে একেবারেই বন্ধ হয়ে গেছে সেখানকার শিক্ষার্থীদের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ রয়েছে।