Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : ২৪ মার্চ, ২০১৯ ১৮:২৩
আপডেট : ২৪ মার্চ, ২০১৯ ১৯:০৮

ঠাকুরগাঁওয়ে ভুল চিকিৎসায় শিশুর মৃত্যু

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:

ঠাকুরগাঁওয়ে ভুল চিকিৎসায় শিশুর মৃত্যু

ঠাকুরগাঁওয়ে ভুল অপারেশনে আতিকা (৯) নামে তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। আতিকা বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বড়বাড়ী ইউনিয়নের গোয়ালকারী গ্রামের আতিকুর রহমানের মেয়ে। সে ডাঙ্গীবাজারে বিপ্লব মেমোরিয়াল স্কুলের ৩য় শ্রেণির ছাত্রী। 

ঠাকুরগাঁও শহরের এলিজা নার্সিং হোম এন্ড ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে অপারেশন থিয়েটারে শনিবার সকালে এ ঘটনা ঘটে। 

অপারেশনের সময় শিশুটিকে অতিরিক্ত এনেসথেসিয়ার (অজ্ঞান) ঔষধ প্রয়োগ করার কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ শিশুর বাবা আতিকুর রহমানের। তিনি বলেন অপারেশনের জন্য আমার মেয়েকে অজ্ঞান করলে আর জ্ঞান ফেরাতে পারেনি ওই ক্লিনিকের ডা. আবু বক্কর সিদ্দিক দিপু ও এনেসথেসিয়া (অজ্ঞান) ডাক্তার মনির।

এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে আজ রবিবার তার পরিবারের লোকজন জানান। 

নিহতের পিতা আতিকুর জানায়, ১৬ দিন আগে স্কুল থেকে বাড়ী ফেরার সময় ইজিবাইকের ধাক্কায় পা ভেঙ্গে যায়।

ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে ১৩ দিন চিকিৎসা করায় তার বাবা আতিকুর রহমান। পরে স্থানীয় হাতুরী ডাক্তারের পরামর্শে পায়ের অপারেশন করার জন্য গত ৩ দিন আগে ভর্তি করায় শহরের এলিজা নার্সিং হোম এন্ড ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে। 

শনিবার সকালে শহরের এলিজা নার্সিং হোম এন্ড ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে পায়ের অপারেশন করতে অপারেশন থিয়েটারে নেন ওই ক্লিনিকের ডাক্তার আবু বক্কর সিদ্দিক দিপু ও এনেসথেসিয়া (অজ্ঞান) ডাক্তার মনির। প্রায় ৩ ঘন্টা অপারেশন থিয়েটারে অস্ত্রোপচারের পর মৃত অবস্থায় বের করে শিশুটিকে। 

তবে শিশুটি মারা গেছে এমন কথা না জানিয়েই ক্লিনিক থেকে পালিয়ে যায় ডাক্তার আবু বক্কর সিদ্দিক দিপু ও এনেসথেসিয়া (অজ্ঞান) ডাক্তার মনির।পরে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ ও দালাল হাতুরি ডাক্তার নানা ভাবে বুঝিয়ে শিশুটির মরদেহ তুলে দেয় পরিবারের হাতে। 

রবিবার দুপুরে এলিজা নার্সিং হোম এন্ড ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের ডা. আবু বক্কর সিদ্দিক দিপুর মুঠোফোনে মৃত্যুর কারণ জানতে চাইলে তিনি ফোনটি কেটে দেন।  

ঠাকুরগাঁও সদর থানার ওসি আশিকুর রহমান জানান, শিশুটির পরিবারের লোকজন থানায় এখন পর্যন্ত কোন অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন তিনি। 

ঠাকুরগাঁও সিভিল সার্জন ডা. খায়রুল কবির জানান, ঘটনাটি আমার কানে এসেছে। ইতিমধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য। কমিটির একজন ওই ক্লিনিক পরিদর্শনও করেছে বলে জানান তিনি।

বিডি প্রতিদিন/এ মজুমদার


আপনার মন্তব্য