শিরোনাম
প্রকাশ : ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ১২:৪৫
আপডেট : ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ১৬:১১

রাঙামাটিতে ব্রাশফায়ারে ইউপিডিএফ কর্মী নিহত, অপহৃত ২

ফাতেমা জান্নাত মুমু, রাঙামাটি

রাঙামাটিতে ব্রাশফায়ারে ইউপিডিএফ কর্মী নিহত, অপহৃত ২

রাঙামাটিতে বন্দুক ভাঙ্গা ইউনিয়নে সন্ত্রাসীর ব্রাশফায়ারে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) কর্মী নিহত হয়েছে। নিহতের নাম সুমন চাকমা ওরফে অক্টোবর (৩০)।  এ সময় সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা অস্ত্রের মুখে তুলে নিয়ে গেছে  বাবুছ’ চাকমা ওরফে অর্পণকে (৩১)।

বুধবার সকাল ৯টার দিকে সদর উপজেলার বন্দুক ভাঙ্গা ইউনিয়নের সারিক্ষং মুখের বোয়ালছড়ি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। অন্যদিকে দুর্বৃত্তের অস্ত্রের মুখে অপহৃত হয়েছে কাপ্তাই উপজেলার ২নং রাইখালী ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মং চিং মারমা। এ ঘটনায় এলাকায় চরম উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। তবে অপহৃতদের উদ্ধারে নেমেছে যৌথবাহিনীর বিশেষ দল।

ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)-এর রাঙামাটি জেলা ইউনিটের সংগঠক সচল চাকমা জানায়, রাঙামাটি সদর উপজেলার বন্দুক ভাঙ্গা ইউনিয়নের সারিক্ষং মুখের বোয়ালছড়ি গ্রামে রূপায়ন চাকমার (উত্তরণ) নেতৃত্বে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী স্পিড বোট যোগে এসে বোয়ালছড়ি গ্রামে সাংগঠনিক কাজে নিয়োজিত দুই ইউপিডিএফ সদস্যের উপর অতর্কিতে ব্রাশফায়ার করে। এতে সুমন চাকমা ঘটনাস্থলে মারা যান। এপর সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা অপর এক ইউপিডিএফ সদস্য বাবুছ চাকমা ওরফে অর্পণকে টেনেহিঁচড়ে মারধর করতে করতে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করে নিয়ে যায়।

তবে এ ঘটনার জন্য ইউপিডিএফের নেতা সচল চাকমা কোন আঞ্চলিক সংগঠনকে দায়ী না করলেও সহকর্মী সুমন চাকমার খুনীদের বিচারের আওতায় আনার এবং অপহৃত বাবুছ’ চাকমাকে নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান।

অন্যদিকে এ ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে যায় যৌথবাহিনীর একটি দল।

এ ব্যাপারে রাঙামাটি কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মীর জাহেদুল ইসলাম রনি জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে সুমন চাকমার রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করেছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য রাঙামাটি মেডিকেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর লাশ তার স্বজনদের হস্তান্তর করা হবে। এ বিষয়ে মামলা প্রক্রিয়াধীন।

এদিকে রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার ২নং রাইখালী ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য  মং চিং মারমাকে (৫০) অস্ত্রের মুখে তুলে নিয়ে গেছে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা। বুধবার ভোররাতে কাপ্তাই উপজেলার রাইখালী ইউনিয়নের কারিগর পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার রাইখালী ইউনিয়নের কারিগর পাড়া একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী হানা দেয়। এ সময় কাপ্তাই উপজেলার ২নং রাইখালী ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য  মং চিং মারমা নিজ বাড়িতে ঘুমাচ্ছিলেন। পরে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা তার ঘরের দরজা ভেঙ্গে অস্ত্রের মুখে তাকে তুলে নিয়ে যায়। এ ঘটনার পর এখনো তার কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি।

কাপ্তাই উপজেলার রাইখালী ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. এনামুল হক জানান, ৫নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মং চিং মারমা স্ত্রী বিষয়টি মাকে মুঠোফোনে জানিয়েছে। খবর পেয়ে আমরা তার বাড়িতে যাই। তবে কে বা কারা তাকে তুলে নিয়ে গেছে সে বিষয়ে সঠিক কোন তথ্য পাওয়া যায়নি।

কাপ্তাই উপজেলার চন্দ্রঘোনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশরাফ উদ্দিন এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে। একই সাথে অপহৃত ইউপি সদস্যকে উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে যৌথবাহিনী।

বিডি প্রতিদিন/ ওয়াসিফ/ফারজানা


আপনার মন্তব্য