১৬ জুলাই, ২০২২ ১৮:৩৬

মৌলভীবাজারে পানি কমার সাথে সাথে বাড়ছে রোগ

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি :

মৌলভীবাজারে পানি কমার সাথে সাথে বাড়ছে রোগ

৪ দিনের টানা তাপদাহে মৌলভীবাজারের হাওর থেকে পানি কমতে শুরু করেছে। পানি কমার সাথে সাথে বাড়ছে দুর্ভোগ। হাওরপাড়ের মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন পানিবাহিত বিভিন্ন ধরনের রোগে। মৌলভীবাজারের কুলাউড়া, জুড়ী, বড়লেখা ও রাজনগর উপজেলায় বন্যার পানি কিছুটা কমার পর আশ্রয় কেন্দ্র থেকে নিজ গৃহে যেতে শুরু করেছেন বানভাসী মানুষ।

বাড়িতে যাওয়ার পর অনেকেই আক্রান্ত হচ্ছেন পানিবাহিত রোগে। বিশেষ করে ডায়রিয়ায় ও জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা উদ্বেগজনক। এছাড়াও জ্বর, সর্দি ও কাশিসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগ, চর্ম ও অ্যালার্জিতে আক্রান্ত হচ্ছেন বন্যা আক্রান্তরা। বন্যা কবলিত এলাকার ফার্মেসিতে দেখা দিচ্ছে নাপা ও হিস্টাসিনসহ বিভিন্ন ওষুধের সংকট। প্রতিদিন হাওরপাড়ের মানুষ হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন।

তবে এদের মধ্যে শিশুদের সংখ্যাই বেশি। জেলার হাওর এলাকায় ভয়াবহ বন্যায় তলিয়ে যায় উপজেলার টিউবওয়েল ও নলকূপগুলোও বন্যার পানিতে তলিয়ে যায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বন্যায় তলিয়ে যাওয়া টিউবওয়েলের পানি ও বন্যার পানি পান করায় বাড়ছে পানিবাহিত রোগীর সংখ্যা। সরজমিনে জেলার কুলাউড়া উপজেলার ভুকশিমইল ইউনিয়নে গেলে দেখা যায়, বন্যায় জ্বর, কাশি, সর্দি ও এলার্জিসহ বিভিন্ন ধরনের রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে।

এদিকে, দীর্ঘ দিনের বন্যায় রাস্তা ঘাট নষ্ট হয়ে যাওয়ায় চলাচলে চরম দুর্ভোগ পুহাতে হচ্ছে হাওর তীরের বাসিন্দাদের। প্রায় ৯০ শতাংশ বাড়ির টিবওয়েল তলিয়ে গেছে। যার ফলে বিশুদ্ধ পানির চরম সংকট দেখা দিয়েছে। মৌলভীবাজার সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডায়রিয়ায় ৩৭, আরটিআই ২৬, চর্ম ৪১ ও অন্যান্য রোগে ২৮ জন আক্রান্ত হয়েছে। এ নিয়ে বন্যায় ৩ হাজার ৪০৬ জন আক্রান্ত হয়েছেন। মৃত্যু হয়েছে ১১ জনের।

হাকালুকি হাওর পাড়ের বাসিন্দা বশির, মরম আলী ও মনাইসহ অনেকেই বলেন, দীর্ঘ দিন বন্যায় আমাদের ঘর নষ্ট হয়ে বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি টিউবওয়েল ও বাথরুম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমাদের মাঝে দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির অভাব। বসত ভিটে ও রাস্তায় এখনও পানি এবং কাঁদা রয়েছে। চলাচলে অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এবিষয়ে সিভিল সার্জন চৌধুরী জালাল উদ্দিন মুর্শেদ বলেন, বন্যা কবলিত এলাকার স্বাস্থ্য ঝুকি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুরো জেলায় ৭৪টি মেডিকেল টিম কাজ করছে। এছাড়াও স্বাস্থ্য বিভাগের সহায়তায় বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন কাজ করছে।

বিডি-প্রতিদিন/শফিক

এই বিভাগের আরও খবর

সর্বশেষ খবর