ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার ধরমন্ডল ইউনিয়নে সাবেক ইউপি সদস্য জিতু মিয়া হত্যাকাণ্ডের পর আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে পুরো এলাকায়। গ্রেফতার ও হামলার আশঙ্কায় পাড়া-মহল্লা কার্যত পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে। নিরাপত্তাহীনতায় নারী ও শিশুরা আশ্রয় নিচ্ছেন স্বজনদের বাড়িতে। স্কুলে যাচ্ছে না শিক্ষার্থীরা। দুদিনের ব্যবধানে ধরমন্ডল নতুন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী উপস্থিতি কমেছে প্রায় ৭০ শতাংশ। আগে ছিল প্রায় ৯০ শতাংশের বেশি। ফলে শ্রেণি কক্ষগুলো প্রায় ফাঁকা।
বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক বিমল চন্দ্র রায় জানান, গ্রামে এখনো উত্তেজনা আছে। অভিভাবকরা ফোনে জানিয়েছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা গ্রামে ফিরে আসবে না এবং স্কুলে পাঠাবে না। দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী আকলিমা বেগমের মা বলেন, 'গেরামে খুন হয়ছে তাই এখন আমরা গেরাম ছাইড়া অন্য এলাকায় আছি। যদি আমরার ছেলে-মেয়েরে একা পায় তাহলে মারধর করতে পারে। '
উল্লেখ্য, গত ১২ জানুয়ারি পূর্ব বিরোধের জেরে জিতু মিয়া ও কুতুব মিয়ার পক্ষের লোকদের মধ্যে প্রায় ছয় ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষ হয়। এতে নারী-শিশুসহ অন্তত ২৫ জন আহত হয়। পুলিশের অভিযানে চারজনকে আটক করা হয়। সংঘর্ষের একপর্যায়ে মাথায় টেঁটা বিদ্ধ হয়ে মারা যান জিতু মিয়া। তিনি ছিলেন ধরমন্ডল ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য এবং আলাই মিয়ার ছেলে। সংঘর্ষের পর পাল্টাপাল্টি হামলায় কয়েকটি বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। দিনের বেলাতেও মানুষের চলাচল কমে গেছে। অনেক পরিরাব শিশুদের নিয়ে গ্রাম ছেড়ে চলে যাওয়ায় একাধিক পাড়া-মহল্লা কার্যত পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে।
জিতু হত্যায় অভিযুক্ত রমজান ও কুতুব মিয়ার বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে, আগুনে পোড়া দেয়াল, ভাঙা দরজা-জানালা আর ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ধ্বংসস্তূপ। স্থানীয়দের ভাষ্য, রমজানের বিদেশি ছাগলের খামার থেকে প্রায় অর্ধ কোটি টাকার ছাগল ২০টি দুগ্ধ গাভী লুট করা হয়েছে। পাাশাপাশি তার দুটি পাকা ভবন পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
একইভাবে কুতুব মিয়ার দুটি পাকা ভবন একই পাড়ায় থাকা ১০টি টিনের ঘরে আগুন এবং তার আত্মীয়ের একটি মার্কেট ভাঙচুর করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারে দাবি, গবাদিপশু ও স্থাপনা মিলিয়ে তাদের কয়েক কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।
ধরমন্ডল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শফিক মিয়া বলেন, আমাদের গ্রামে সংঘর্ষের পর কেউ মারা গেলে প্রতিপক্ষের বাড়ি-ঘরে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট স্বাভাবিক বিষয়। ঘটনার পর থেকে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে। স্কুল-মাদ্রাসা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে মানুষ ভয়ে যাচ্ছে না। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ইসহাক মিয়া বলেন, শিক্ষার্থী উপস্থিতি এতটা কমে যাওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহিনুর ইসলাম বলেন, পূর্ব বিরোধের জেরে সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। পরিস্থিতি একটু খারাপই। তবে আমাদের পুলিশ মোতায়েন করা আছে। ঘরবাড়িতে আগুন ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ না পেলে প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ বলা যাবে না।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীনা নাসিরন বলেন, আমি ঘটনাস্থলে যাবো। সবার সাথে কথা বলে বিদ্যালয়গামী শিশুদের স্কুলে ফেরাতে সকল প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
বিডি প্রতিদিন/হিমেল