সেবিকা পরিচয়ে ফেনী শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রসূতি নারীদের নিয়ে আসতেন ছকিনা বেগম। বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জনের জন্য তিনি ‘সিনিয়র সেবিকা’ লেখা একটি ভিজিটিং কার্ডও ব্যবহার করতেন।
মঙ্গলবার (৫ মে) তার নিয়ে আসা এক প্রসূতি ওই হাসপাতালে মৃত সন্তান প্রসব করলে হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনার মধ্য দিয়েই বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য—ছকিনা বেগম ওই হাসপাতালের কোনো কর্মী নন এবং তার ব্যবহৃত ভিজিটিং কার্ডটিও ভুয়া।
বুধবার সকালে ফেনী মডেল থানার ওসি গাজী মুহাম্মদ ফৌজুল আজিম ভূঁইয়া জানান, মঙ্গলবার রাতে ছকিনাকে আটক করেছে পুলিশ।
জানা যায়, ফেনী সদরের জাহানপুর এলাকা থেকে ওই প্রসূতিকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন ছকিনা। প্রায় দুই ঘণ্টা পর রাত ৯টার দিকে স্বাভাবিক প্রসবে মৃত সন্তান জন্ম দেন ওই নারী। এ ঘটনায় স্বজনরা ক্ষুব্ধ হয়ে ছকিনাকে ঘিরে হট্টগোল শুরু করেন। পরবর্তীতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানতে পারে, নিজেকে নার্স পরিচয় দিয়ে ছকিনা বিভিন্ন প্রসূতি নারীকে হাসপাতালে আনতেন। সিজারিয়ান ডেলিভারির জন্য ২,০০০ টাকা এবং স্বাভাবিক প্রসবের জন্য ১,৫০০ টাকা নিতেন তিনি।
হাসপাতালের পরিচালক মো. আলাউদ্দিন আলোর দাবি, ছকিনা তাদের কোনো নার্স বা কর্মী নন। তার ব্যবহৃত ভিজিটিং কার্ডটি হাসপাতালের সাবেক কর্মচারী আব্দুস সাত্তার ছাপিয়ে দিতেন। মৃত সন্তান প্রসবের বিষয়ে তিনি বলেন, শিশুটি গর্ভেই আগেই মারা গিয়েছিল।
পুলিশ জানিয়েছে, ছকিনাকে হেফাজতে নেয়া হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
বিডি-প্রতিদিন/এমএল