ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজবাড়ীর দুইটি সংসদীয় আসনের নির্বাচনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হওয়া ভোটগ্রহণ বিরতিহীনভাবে চলবে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। বেলা বাড়ার সাথে সাথে ভোটকেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি বাড়ছে।
দীর্ঘদিন পর শান্তিপূর্ণ ভোট যেন উৎসবে পরিনত হয়েছে। ভোটকেন্দ্রের পাশেই বসছে দোকানপাট। সেখানে বেচাবিক্রি হচ্ছে হরেক রকমের মুখরোচক খাবার। এতে খুশি ভোটার, প্রার্থীসহ তাদের এজেন্টবৃন্দ।
বালিয়াকান্দির জামালপুর ইউনিয়নের একটি ভোটকেন্দ্রে অস্থায়ী দোকান বসিয়েছেন অপু মন্ডল। তিনি বলেন, ভোটের আগের পরিবেশ বোঝা যায়। আমরা আগেই বুঝেছিলাম এবার ভোটের পরিবেশ ভালো। তাই নিমকি, বাদাম, চানাচুর, খুরমা, পাপড় তৈরি করেছি। ভালো বিক্রি হচ্ছে।
চিকিৎসক ডা. খায়রুল বাসার বলেন, দীর্ঘদিন পর রাজবাড়ীতে শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। মানুষ এবারের ভোটের পরিবেশে খুশি! আমি সকালে নিমকি কিনে খেয়েছি। এবারের ভোট যেন উৎসবে পরিণত হয়েছে।
নটাপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় ও নটাপাড়া আবু জাফর সিদ্দিকিয়া দাখিল মাদ্রাসা পাশাপাশি দুইটি ভোটকেন্দ্র। এখানে বিরয়ানির দোকান বসিয়েছেন এক ব্যবসায়ী। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, রাতে প্রায় ৫ হাজার টাকার খিচুরি বিক্রি করেছি। দিনের বেলায় বিরয়ানি বিক্রি করছি। এবার ভোটার উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। আমার বেশ ভালো বিক্রি হচ্ছে।
জেলা রিটার্নিং অফিসাদের দপ্তর থেকে জানা গেছে, সুষ্ঠ ভোটগ্রহণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কঠোর অবস্থানে। নির্বাচন সুষ্ঠু করতে জেলার ৫টি আর্মি ক্যাম্প ১৪টি রুরাল পয়েন্টে কাজ করবে। জেলায় ৫ প্লাটুন বিজিবি সদস্য, ৪টি র্যবের টহল টিম, ৪ হাজার ৬০২ জন আনসার ভিডিপির সদস্য, আনসার বাহিনীর ১১টি মোবাইল টিম ও স্ট্রাইকিং টিম কাজ করবে। এছাড়া পুলিশ বাহিনীর ১০৪৩ জন সদস্য, ১৮ জন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট, ২ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ছাড়াও ৫ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কাজ করছেন।
রাজবাড়ী-১ আসনে চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আসনটির ১৫৬টি ভোটকেন্দ্রে ৪ লাখ ২৫ হাজার ১৬১ জন ভোটার রয়েছেন।
এছাড়া রাজবাড়ী-২ আসনে ৯জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আসনটির ১৯৮টি ভোটকেন্দ্রে ৫ লাখ ৫১ হাজার ৬৪২ জন ভোটার ব্যালট পেপারে ভোট দিতে পারবেন।
বিডি প্রতিদিন/এএম