দীর্ঘ অপেক্ষার প্রহর শেষ হয়েছে। সারাদেশের মতো বগুড়াতেও ভোটের উৎসব লেগেছে। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হয়েছে বহু আকাঙ্খিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ ও গণভোট, যা একটানা চলবে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। এরপর গণনা শেষে ফলাফল ঘোষণা করা হবে।
ভোটগ্রহণ শুরুর পর বগুড়ার কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। প্রতিটি কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দায়িত্বে রয়েছেন। এবারের নির্বাচনে ভোটাররা সংসদ সদস্য নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোটেও অংশ নিচ্ছেন।
সকালে বগুড়া শহরের বালিকা সিটি উচ্চ বিদ্যালয় ঘুরে দেখা যায়, ভোট শুরুর আগে থেকেই নারী-পুরুষ ভোট দিতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশে তারা ভোট প্রয়োগ করছেন। সংশ্লিষ্টরা জানান, এই কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণ পরিবেশে চলছে।
বগুড়ায় ৭টি সংসদীয় আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ২৯,৮১,৯৪০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১৪,৮০,৮৭১ জন, নারী ভোটার ১৫,০০১,৭ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৪২ জন। প্রার্থী রয়েছেন ৩৪ জন। ১২টি উপজেলায় মোট ৯৮৩টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে, যেখানে মোট ভোটকক্ষ ৫,৪৭৮টি, এর মধ্যে ৫,১৪৮টি স্থায়ী এবং ৩৩০টি অস্থায়ী। প্রশাসন ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনায় ৫০০টি কেন্দ্রকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এসব কেন্দ্রে ভোটের নিরাপত্তা বাড়তি ব্যবস্থা দিয়ে নিশ্চিত করা হয়েছে।
বগুড়া-৬ (সদর) আসনে মোট ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান লড়ছেন। জামায়াতে ইসলাম থেকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে আবিদুর রহমান সোহেল, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) আব্দুল্লাহ আল ওয়াকি তারা প্রতীক, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আবু নুমান মো. মামুনুর রশিদ হাতপাখা, এবং বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) দিলরুবা নূরী মই প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এই আসনে মোট ভোটার রয়েছেন ৪,৫০,৩০৭ জন, ভোট কেন্দ্র ১৫০টি।
বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি-সোনাতলা) আসনে মোট ভোটার ৩,৭২,৮০০ জন, ভোটকেন্দ্র ১২৬টি, এবং ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিএনপি থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে কাজী রফিকুল ইসলাম, জামায়াতে ইসলাম থেকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিন, ইসলামী আন্দোলন থেকে এবিএম সোস্তফা কামাল পাশা হাতপাখা, বাংলাদেশ কংগ্রেস থেকে আসাদুল হক ডাব, গণফোরাম থেকে জুলফিকার আলী উদীয়মান সূর্য প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে ৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিএনপি থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে মীর শাহে আলম, নাগরিক ঐক্য থেকে কেটলি প্রতীক নিয়ে মাহমুদুর রহমান মান্না, জামায়াতে ইসলাম থেকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে আবুল আজাদ মোহাম্মদ শাহাদুজ্জামান, ইসলামী আন্দোলন থেকে জামাল উদ্দিন হাতপাখা, স্বতন্ত্র প্রার্থী রেজাউল করিম তালু সিঁড়ি, গণঅধিকার পরিষদ থেকে সেলিম সরকার ট্রাক প্রতীক। জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ আগেই নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। মোট ভোটার ৩,৩৯,৩৭০ জন, ভোটকেন্দ্র ১১৪টি।
বগুড়া-৩ (আদমদীঘি-দুপচাঁচিয়া) আসনে মোট ৪ জন প্রার্থী, ধানের শীষ প্রতীক আব্দুল মহিত তালুকদার, দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নূর মোহাম্মদ, হাতপাখা শাহজাহান আলী তালুকদার, লাঙ্গল প্রতীক শাহিনুল ইসলাম। ভোটার ৩,৩৫,৩৬২ জন, ভোটকেন্দ্র ১১৮টি।
বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনে চারজন প্রার্থী। বিএনপি থেকে ধানের শীষ আলহাজ্ব মোশারফ হোসেন, জামায়াতে ইসলাম থেকে দাঁড়িপাল্লা মোস্তফা ফয়সাল, ইসলামী আন্দোলন থেকে হাতপাখা মুহাঃ ইদ্রিস আলী, জাতীয় পার্টি থেকে লাঙ্গল শাহীন মোস্তফা কামাল। ভোটার ৩,৫৬,৯৯৮ জন, ভোটকেন্দ্র ১১৪টি।
বগুড়া-৫ (শেরপুর-ধুনট) আসনে ভোটার ৫,৬৯,১৬৮ জন, ভোট কেন্দ্র ১৮৮টি, ৫ জন প্রার্থী। ধানের শীষ সাবেক এমপি গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ, দাঁড়িপাল্লা দবিবুর রহমান, ছাতা খান কুদরত-ই-সাকলায়েন, হাতপাখা মীল মোঃ মাহমুদুর রহমান, কাস্তে শিপন কুমার রবিদাস।
বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) চারজন প্রার্থী। ধানের শীষ মোরশেদ মিলটন, দাঁড়িপাল্লা মোঃ গোলাম রব্বানী, হাতপাখা মোঃ শরিফুল ইসলাম, হারিকেন প্রতীক মোঃ আনছার আলী। ভোটার ৫,৩৩,৪৯১ জন, ভোটকেন্দ্র ১৭৩টি।
বগুড়া রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান জানিয়েছেন, বগুড়ায় অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে, সুন্দর এবং সম্প্রীতি বজায় রেখে ভোট উৎসব সম্পন্ন হবে। প্রশাসন নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিত করতে সব কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করেছে।
তিনি আরও জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মাঠে রয়েছে ২,৫০০-এরও বেশি পুলিশ, ১২,৫০০ আনসার ও ভিডিপি, ২৪ প্লাটুন বিজিবি, এবং ১,৫০০-এরও বেশি সেনা সদস্য। ভোটাররা নির্বিঘ্ন ও নিরাপদে ভোট দিতে পারবেন, প্রশাসন সকল ধরনের সহযোগিতা এবং নজরদারি নিশ্চিত করেছে।
বিডি-প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ