উৎসবমুখর পরিবেশে সারাদেশের মতো গাইবান্ধায় শুরু হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টায় জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনের ৬৭৫টি ভোটকেন্দ্রে একযোগে এ ভোটগ্রহণ শুরু হয়। যা বিরতিহীনভাবে চলবে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত।
সকাল থেকেই দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিচ্ছেন ভোটাররা। এবার সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোট হওয়ায় ভোটারদের মধ্যে বাড়তি কৌতূহল দেখা গেছে।
জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, গাইবান্ধার ৫টি সংসদীয় আসনে মোট ২১ লাখ ৯০ হাজার ৪৩২ জন ভোটার রয়েছে। এসব ভোটার ৬৭৫ ভোটকেন্দ্রে ৪০ জন প্রার্থীকে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এখানে ৩৭৯টি ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৭৯টি কেন্দ্রকে ‘অতি ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এসব ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে বিশেষ নজরদারি থাকবে বলে জানিয়েছেন প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
এসব ভোট কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে জেলা ও উপজেলা কন্ট্রোল রুম থেকে মনিটর করা হচ্ছে। এছাড়া চরাঞ্চলের বিদ্যুৎবিহীন ১১টি কেন্দ্রে জেনারেটরের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
গাইবান্ধা-২ (সদর) আসনের একাধিক ভোটকেন্দ্রে গিয়ে দেখা ভোটারদের দীর্ঘ লাইন। এ আসনে হরিণ সিংহা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে ক্রাশ নিয়ে ভোট দিতে এসেছেন গোলেনুর বেগম (৬২)। তিনি বলেন, ভোট দেবার জন্য আসছি বাবা। দেরি হলে ভিড় হয়, সেজন্য সকাল সকাল ভোট দিয়ে বাড়ি যামো।
রিটার্নিং কর্মকর্তা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রতিটি কেন্দ্রে পুলিশ ও আনসারের পাশাপাশি ভোটের মাঠে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে কাজ করছে সেনাবাহিনী ও বিজিবি। সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে কাজ করছেন ১৫ জন জুডিশিয়াল এবং ৪০ জন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট। জেলার ৫টি আসনে এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৪০ জন প্রার্থী। যেখানে ২১ লাখ ৯০ হাজার ভোটার নির্ধারণ করবেন আগামীর নেতৃত্ব।
এ বিষয়ে গাইবান্ধার রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণের লক্ষ্যে গোটা জেলায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। জেলায় দায়িত্ব পালন করবেন ৪০জন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও ১৫জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট। ১ হাজার ১৫০ জন সেনাবাহিনী কর্মকর্তা-সদস্য, ১৫ প্লাটুন বিজিপি, ২ হাজারের বেশি পুলিশ, রাবের ১৫টি টিম, ৮ হাজার ৭৭৫ জন আনসার-ভিডিপির সদস্য এবং অসংখ্য নৌ-পুলিশ আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করবে।
বিডি-প্রতিদিন/সুজন