শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১১ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০ টা
আপলোড : ১০ অক্টোবর, ২০১৮ ২৩:৩৩

ছিয়াত্তরেও তরুন

ছিয়াত্তরেও তরুন

বলিউড শাহেনশাহ অমিতাভ বচ্চন আজ জীবনের ৭৬ বসন্তে পা রাখছেন। বয়সটা অঙ্কের হিসাবে বুড়িয়ে গেলেও এখনো টগবগে যুবকের মতো শুদ্ধ ছন্দের হিসাব কষেন তিনি। অমিতাভ বচ্চনের সাত সতেরো তুলে ধরেছেন—আলাউদ্দীন মাজিদ

 

অমিতাভের সূচনা

অমিতাভ হরিবংশ বচ্চন, তার জন্ম ভারতের এলাহাবাদে ১১ অক্টোবর ১৯৪২ সালে। শুধু একজন জনপ্রিয় অভিনেতা নন, প্রযোজক, টেলিভিশন উপস্থাপক, গায়ক ও সাবেক রাজনীতিবিদ। টেলিভিশন সঞ্চালক হিসেবে  কৌন বনেগা ক্রোড়পতি অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করে যাচ্ছেন  প্রায় দেড় যুগ ধরে। ১৯৮৪ থেকে ১৯৮৭ পর্যন্ত ভারতীয় সংসদে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ছিলেন। সহস্রাব্দের সেরা তারকা হিসেবে পরিচিত তিনি। পাঁচ দশকে প্রায় ১৯৫টি ছবিতে অভিনয় করেছেন তিনি। বিশ্ব চলচ্চিত্রের অন্যতম সেরা ও প্রভাবশালী অভিনেতা হিসেবে গণ্য করা হয় তাকে। ১৯৭০ ও ১৯৮০-এর দশকে ভারতীয় চলচ্চিত্রে তার একচ্ছত্র আধিপত্যের জন্য ফরাসি চলচ্চিত্র সমালোচক ও পরিচালক ফ্রঁসোয়া ত্রুফো তাকে একক-ব্যক্তি চলচ্চিত্র শিল্প বলে অভিহিত করেন।

 

অর্জনের ঝুলি

৫টি শ্রেষ্ঠ অভিনেতা জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, ১৫টি ফিল্মফেয়ার পুরস্কারসহ নানা আন্তর্জাতিক পুরস্কার। ১৯৮৪ সালে পদ্মশ্রী, ২০০১ সালে পদ্মভূষণ, ২০১৫ পদ্মবিভূষণ সম্মানে ভূষিত করে ভারত সরকার। ২০০৭ সালে ফ্রান্স সরকার তাকে লেজিওঁ দনরের নাইট উপাধিতে ভূষিত করে।

 

অভিনয়ে অভিষেক

১৯৬৯-এ সাত হিন্দুস্তানি ছবি দিয়ে অভিষেক। এর জন্য শ্রেষ্ঠ নতুন অভিনেতার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান। ১৯৭৩ সালে ‘জঞ্জির’ ছবিতে রাগি যুবক রূপে নিজেকে বলিউডে প্রতিষ্ঠিত করে অর্জন করেন অ্যাংরি ইয়ং ম্যান খ্যাতি। 

 

গায়ক অমিতাভ

১৯৭৯ সালে মিস্টার নটবরলাল ছবিতে প্রথমবার  প্লেব্যাক করেন। এরপর লাওয়ারিশ, সিলসিলা, ম্যায় আজাদ হু, মহান, বাগবানসহ বেশ কিছু ছবির গানে কণ্ঠ দেন। গায়ক হিসেবেও সমান জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।

১৯৮২ তে নবজন্ম

১৯৮২ সালে কুলি ছবির একটি মারামারির দৃশ্যে তার অন্ত্রে মারাত্মক আঘাত পান। প্রায় তিন মাস হাসপাতালে ছিলেন। মৃত্যুর আশঙ্কাও দেখা দিয়েছিল। সুস্থ হয়ে নবজন্ম লাভ করেন। এ দুর্ঘটনার কারণে পরিচালক মনমোহন দেশাই ‘কুলি’র শেষাংশটি বদলে দেন। এতে বচ্চনের চরিত্রটি ছবির শেষে মারা যাবে। কিন্তু চিত্রনাট্য বদলে তাকে বাঁচিয়ে দেওয়া হয়। দেশাই বলেন, যে মানুষটি সদা মৃত্যুর বিরুদ্ধে যুদ্ধজয় করেছে তাকে পর্দায় মেরে ফেলা উচিত হবে না।

 

দরাজ কণ্ঠের খ্যাতি

বচ্চন তার গম্ভীর, ব্যারিটোন কণ্ঠস্বরের জন্য বিখ্যাত। তাকে অজস্র অনুষ্ঠানে সূত্রধর, নেপথ্য গায়ক এবং উপস্থাপকের ভূমিকায় দেখা গেছে। প্রথিতযশা চলচ্চিত্র পরিচালক সত্যজিত রায় বচ্চনের কণ্ঠস্বর শুনে এত মুগ্ধ হয়েছিলেন যে তিনি তার ছবি ‘শতরঞ্জ কে খিলাড়ি’-তে তাকে ভাষ্যকারের ভূমিকা দিয়েছিলেন।

 

শাহেনশাহর সাতকাহন

 *অমিতাভ বচ্চনের প্রথম নাম ছিল ইনকিলাব। পরে বদলে রাখা হয় অমিতাভ অর্থাৎ যে আলোর শেষ নেই।

* অমিতাভই প্রথম এশিয়ান অভিনেতা, যার মোমের প্রতিকৃতি লন্ডনের মাদাম তুসো মিউজিয়ামে স্থান পায়।

* ঘড়ি এবং কলম সংগ্রহ করা তার অন্যতম শখ। বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ১১টি গাড়ি আছে তার সংগ্রহে।

*অমিতাভ দুই হাতেই সমানভাবে লিখতে পারেন।

* ৫ ঘণ্টায় ২৩টি দৃশ্যের ডাবিং করেছেন তিনি, যা বলিউডের চলচ্চিত্র ইতিহাসে রেকর্ড।

*ব্যক্তিজীবনে খুবই বিনয়ী। ১৯৭৩ সালে জয়া ভাদুরীর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন। এই দম্পতির দুই সন্তান। মেয়ে শ্বেতা নন্দা এবং ছেলে অভিষেক বচ্চন।

*অভিনেতা হওয়ার আগে কলকাতার ব্ল্যাকার অ্যান্ড কোং নামে জাহাজ কোম্পানিতে চাকরি করতেন। অমিতাভের প্রথম বেতন ছিল ৩০০ রুপি।


আপনার মন্তব্য