শোকাচ্ছন্ন টলিপাড়া। প্রয়াত রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়। টলিপাড়ার শিল্পীরা এখনো এ খবর বিশ্বাসই করতে পারছেন না। তাঁদের মধ্যে একজন শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়। কিছুদিন আগেই রাহুলের সঙ্গে ‘ঠাকুমার ঝুলি’ ওয়েব সিরিজে দেখা গেছে তাঁকে। ভেবেছিলেন একসঙ্গে ‘সাকসেস পার্টি’ করবেন। প্রথম খবর পেতেই ভেঙে পড়েন শ্রাবন্তী। শুনেই শ্রাবন্তীর প্রথম প্রশ্ন, ‘হে ঈশ্বর, এ কী করে হলো? আমার সঙ্গে তো এই দুই তিন দিন আগেই কথা হলো।’ সেই দিন নাকি শ্রাবন্তীকে মজা করে রাহুল বলেছিলেন, ‘ভেবেছিলাম, আমরা নায়ক-নায়িকা হব। কিন্তু তুই আমার ঠাকুমা হলি।’ তাই রাহুলের মৃত্যুর খবরে স্তম্ভিত নায়িকা। তাঁর কথায়, ‘আমাদের রসায়ন খুব পছন্দ হয়েছিল। আমি সেই দিনও ওকে বললাম, ‘চলো আবার আমরা কাজ করি। এবার আমরা নায়ক-নায়িকা হব।’ এমনও হতে পারে ভাবতে পারছি না। কী নিয়তি মানুষের! এত প্রতিভাবান মানুষ। তার চেয়েও বড় কথা, মানুষ হিসেবেও খুব ভালো।’ বাংলা চলচ্চিত্র জগতের বড় ক্ষতি হয়ে গেল। এমনই মনে করছেন শ্রাবন্তী। দুঃখের সঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা সাকসেস পার্টি করার পরিকল্পনা করছিলাম। সব শেষ হয়ে গেল। কেমন অদ্ভুত লাগছে বলে বোঝাতে পারব না। আমাদের আসন্ন ছবি ‘এরাও মানুষ’-এর মতো মনে হচ্ছে। আজকের দিনটা দুঃস্বপ্নের মতো মনে হচ্ছে। রাহুলের সঙ্গে বহু বছর আগে প্রথম আলাপ শ্রাবন্তীর। অভিনেত্রী অতীত মনে করে বলেন, ‘অন্তত ১০ বছর আগে ওর সঙ্গে প্রথম আলাপ। রাহুলদার মধ্যে কোনো পরিবর্তন দেখিনি। সাধারণত ও ভালো মনের মানুষ। ভগবান কেন যে ভালো মানুষকে আগে নিয়ে নেয়, বুঝি না। অভিনয় ছাড়াও কত দিকে ওর গুণ ছিল। নিজেই বলেছিলাম, ‘তোমার পডকাস্টে আমি যেতে চাই।’ কী সুন্দর কথা বলেন! সত্যিই বড় ক্ষতি হয়ে গেল। এর কোনো পূরণ হবে না।’ প্রয়াত অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের শুটিং করছিলেন ৪৩ বছরের অভিনেতা। তালসারিতে জলে নামেন তিনি। অভিনেতা তলিয়ে গেলে টেকনিশিয়ানরা উদ্ধার করেন। সন্ধে ৬টা নাগাদ দিঘা হাসপাতালে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালে যাওয়ার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।