পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী প্রাণীর নাম শুনলে অনেকেই হয়তো বাঘ, সিংহ, হাতি কিংবা হাঙরের কথা ভাববেন। কিন্তু বিজ্ঞানীরা বলছেন, প্রকৃতির সবচেয়ে সহনশীল প্রাণীগুলোর একটি হলো অতি ক্ষুদ্র ‘টার্ডিগ্রেড’। মাইক্রোস্কোপ ছাড়া যাকে দেখা যায় না, সেই প্রাণীই টিকে থাকতে পারে এমন সব পরিবেশে যেখানে অধিকাংশ জীব মুহূর্তেই ধ্বংস হয়ে যাবে।
টার্ডিগ্রেডকে অনেক সময় ‘ওয়াটার বেয়ার’ বলা হয়। এর শরীর ছোট্ট ভালুকের মতো দেখতে হওয়ায় এমন নাম। সাধারণত পানিযুক্ত শৈবাল, মস বা স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে এদের বসবাস। আকারে মাত্র ০.৫ মিলিমিটারের এই প্রাণী পৃথিবীর অন্যতম রহস্যময় জীব হিসেবে পরিচিত।
টার্ডিগ্রেডের সবচেয়ে বিস্ময়কর ক্ষমতা হলো চরম প্রতিকূল পরিবেশেও বেঁচে থাকা। এটি প্রচণ্ড ঠান্ডা, তীব্র গরম, উচ্চ চাপ ও তেজস্ক্রিয়তা সহ্য করতে পারে। বেঁচে থাকতে পারে মহাশূন্যেও। গবেষণায় দেখা গেছে, পানি না পেলে টার্ডিগ্রেড নিজের শরীরকে শুকিয়ে ‘ক্রিপ্টোবায়োসিস’ অবস্থায় চলে যায়। তখন তার শরীরের কার্যক্রম প্রায় বন্ধ হয়ে যায় এবং বছরের পর বছর এভাবেই নিজেকে জীবিত রাখতে পারে। আবার অনুকূল পরিবেশ পেলে এটি স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসে।
২০০৭ সালে বিজ্ঞানীরা টার্ডিগ্রেডকে মহাশূন্যে পাঠিয়েছিলেন। অবাক করা বিষয় হলো, মহাকাশের তীব্র বিকিরণ ও অক্সিজেনশূন্য পরিবেশ থেকেও অনেক টার্ডিগ্রেড জীবিত ফিরে আসে। এই ঘটনা বিজ্ঞানীদের বিস্মিত করে এবং প্রাণের সহনশীলতা নিয়ে নতুন গবেষণার পথ খুলে দেয়। কীভাবে এসব প্রতিকূল পরিবেশে প্রাণীটি বেঁচে থাকে তা খুঁজতে গবেষণায় লেগে যান বিজ্ঞানীরা। এখনো চলছে সেই গবেষণা।
বিজ্ঞানীরা মনে করেন, টার্ডিগ্রেডের বিশেষ প্রোটিন ভবিষ্যতে ওষুধ সংরক্ষণ, মহাকাশ গবেষণা এবং মানবদেহের কোষ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। অতি ক্ষুদ্র এই প্রাণী তাই শুধু প্রকৃতির বিস্ময় নয়, বরং ভবিষ্যৎ বিজ্ঞানের জন্যও এক বড় রহস্য।