শিরোনাম
প্রকাশ : ২২ নভেম্বর, ২০১৯ ১৮:০৯

পুণ্ড্রনগরই এখন বগুড়ার ঐতিহাসিক মহাস্থানগড়

আব্দুর রহমান টুলু, বগুড়া :

পুণ্ড্রনগরই এখন বগুড়ার ঐতিহাসিক মহাস্থানগড়
মহাস্থানগড়

সে কথা অনেক আগের। মানে হাজার হাজার বছর আগের। যখন মানুষের জীবন জীবিকা সবই ছিল স্থানীয় উদ্ভাবন পদ্ধতিতে। সে সময়ে বগুড়ায় গড়ে উঠেছিল প্রাচীন বাংলার রাজধানী পুণ্ড্রবর্ধন। যা পুণ্ড্রনগরী হিসেবে পরিচিত পেয়ে যায়। কালের বিবর্তনে পুণ্ড্রনগরই এখন ঐতিহাসিক বগুড়ার মহাস্থানগড়। প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে গড়ে উঠেছিল সে সময়ের সভ্য জনপদ। কালের গর্ভে হারিয়ে যেতে বসা সেই দর্শনীয় স্থানটি এখনও সেই দিনের চিহ্ন বুকে ধারণ করে আছে। প্রতি বছর বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পর্যটক এলেও পর্যটকদের জন্য তেমন কোন সুবিধা রাখা হয়নি। কিছু উন্নয়ন কাজ হলেও এখনো দৃষ্টি নন্দন হয়ে উঠেনি সভ্যতার স্বাক্ষর বগুড়ার মহাস্থানগড়।

জানা যায়, খ্রিষ্টপূর্ব ৩য় শতাব্দী থেকে খ্রিষ্টীয় ১৫ শতাব্দীর মধ্যবর্তী সময়ে মহাস্থানগড় এক সমৃদ্ধ জনপদ হিসেবে বিস্তার লাভ করে। বেশ কয়েক শতাব্দী পর্যন্ত এখানে অসংখ্য রাজা রাজত্ব করেন। বলা হয় মহাস্থানগড় ছিল সে সময়কার রাজধানী। এর ভেতর রয়েছে মৌর্য, গুপ্ত, সেন, পাল ও সামন্ত রাজবংশ। বিখ্যাত চীনা পরিব্রাজক হিউয়েন সাঙ ৬৩৯ থেকে ৬৪৫ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যবর্তী সময়ে পুণ্ড্রনগরে এসেছিলেন। ভ্রমণের ধারা বিবরণীতে তিনি তখনকার প্রকৃতি ও জীবনযাত্রার উল্লেখ করে বর্ণনা করেন। দশম শতকের মধ্যবর্তী সময়ে এখানে রাজত্ব করেন রাজা নরসিংহ বা পরশুরাম। কিংবদন্তি অনুযায়ী রাজা পরশুরাম ছিলেন অত্যাচারী। তাকে উচ্ছেদ করে ইসলাম ধর্মের শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে আসেন হযরত শাহ সুলতান বলখী (র.) মাহী সওয়ার। ধর্ম প্রচারক শাহ সুলতান বলখী (র.) সম্পর্কে রয়েছে আশ্চর্য অনেক তথ্য। কালক্রমে বাংলার প্রথম রাজধানী ধ্বংস হয়ে যায়। ধ্বংসাবশেষ নিয়ে আজো কালের সাক্ষী হয়ে আছে মাহস্থানগড়। 

মহাস্থানগড় দেখতে প্রতিদিন শতশত মানুষ দূর-দুরান্ত থেকে আসছেন। কিন্তু পর্যটকদের জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধা না থাকায় দিন দিন পর্যটক কমে যাচ্ছে। পর্যটক আকর্ষণ বৃদ্ধি করতে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করা হলেও সেটি দৃষ্টি নন্দন হয়ে উঠেনি। ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা না থাকায় পর্যটক হারাতে বসেছে দেশের বৌদ্ধ সভ্যতার অনন্য নিদর্শন ভাসু বিহার, মহাস্থানগড়, গোকুল মেড় বা বেহুলা লক্ষীন্দরের বাসর ঘর। সঠিক ব্যবস্থাপনা না থাকায় প্রাচীন এই অনন্য সভ্যতার দর্শনার্থী কমে যাচ্ছে। মহাস্থানগড়ে দর্শনার্থী বাড়াতে সরকারিভাবে উন্নয়নমূলক কিছু কাজ করা হলেও তা যথেষ্ট নয়। বগুড়ার এই মহাস্থানগড়কে ঘিরেই এই অঞ্চলে পর্যায়ক্রমে সভ্যতা, সংস্কৃতিক বিকাশ হতে থাকে। 

বগুড়ার মহাস্থান যাদুঘরের কাস্টডিয়ান এর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালের ১ এপ্রিল সরকারের সঙ্গে মহাস্থানগড়ের উন্নয়নে এডিবির একটি চুক্তি হয়। ২০১৬ সালে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও পরে কাজের সময়সীমা বাড়িয়ে শেষও হয়। এই চুক্তির মধ্যে প্রত্নতত্ত্ব সম্পদ সংস্কারে প্রাচীন ইটের মত করে নতুনভাবে ইট তৈরি করে তা মূল স্থাপনার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া প্রবেশদ্বার, কালিদহ সাগরের (স্থানীয় খাল) উপর ছোট্ট ঝুলন্ত সেতু, খাবারের দোকান, শৌচাগার, কাঠের ব্রিজ, সীমানা নির্ধারণে তারকাটাসহ আবকাঠামো শ্রী বৃদ্ধির জন্য প্রাথমিকভাবে এই প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় প্রায় সাড়ে ৬ কোটি টাকা। সেইসব কাজ হলেও বিশাল এলাকার মহাস্থানগড়ের এখনো অনেক কিছুই রয়েছে অরক্ষিত। এখনো মহাস্থানগড়ের জায়গায় অবৈধভাবে স্থাপনা তৈরি হচ্ছে, চাষবাস হচ্ছে মহাস্থানগড়ের ভেতর, কোন কোন অংশের (ভীমের জাঙ্গাল) মাটি খনন করে বিক্রি করছে একটি চক্র।

বগুড়ার মহাস্থান যাদুঘরের কাস্টডিয়ান মজিবুর রহমান জানান, দুই বছর আগে মহাস্থানগড় এলাকায় বেশ কিছু উন্নয়ন কাজ করা হয়েছে। পর্যটক আসবে ডিসেম্বর জানুয়ারি মাস থেকে। ওই সময়টাতে পর্যটকদের চাপ থাকে বেশি। যাদুঘরের প্রাচীরেও কিছু কাজ করা হয়েছে।

বিডি-প্রতিদিন/শফিক


আপনার মন্তব্য