Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ১৯ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৮ নভেম্বর, ২০১৮ ২৩:০২

ব্যাংকাররাই ঋণখেলাপি তৈরি করছেন

নিজস্ব প্রতিবেদক

ব্যাংকাররাই ঋণখেলাপি তৈরি করছেন

ব্যাংকাররাই ঋণখেলাপি তৈরি করছেন বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি বলেন, ‘খেলাপি ঋণের বার বার পুনঃ তফসিল হয়ে থাকে। কতবার ঋণখেলাপিরা এ সুযোগ পেয়ে থাকেন তা আমার জানা নেই। আর এ সুযোগ দিয়ে থাকেন ব্যাংকাররা।’ গতকাল বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ক্যাপিটাল মার্কেট (বিআইসিএম) মিলনায়তনে পাঁচ দিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংক পরিচালকদের প্রশিক্ষণ     কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব মো. আসাদুল ইসলাম। এ সময় অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির উপস্থিত ছিলেন। অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এভাবেই ব্যাংকাররা চেষ্টা করেন, যাতে উদ্যোক্তারা ঋণখেলাপি হতে পারেন। ব্যাংকাররাই এ অবস্থা তৈরি করেছেন, যাতে দ্রুত কেউ ঋণখেলাপি হয়ে যায়।’ তিনি বলেন, ‘খেলাপি ঋণের অনবরত পুনঃ তফসিল (রিশিডিউলিং) হওয়ায় ঋণখেলাপি বেড়ে যাচ্ছে। এখন এর একটু লাগাম টানা প্রয়োজন। অনেক ক্ষেত্রে অবসায়ন বা একীভূতকরণ হলো সবচেয়ে ভালো সমাধান। কিন্তু সেটি হয় না। কারণ ব্যাংকাররাই চান উদ্যোক্তারা তাদের বাধ্য থাকুক। আমার কাছে মনে হয় ব্যাংকারদের এটি একটি অস্ত্র, যেটি তারা ব্যবহার করেন এবং করতে চান। এই লক্ষ্যটা অত্যন্ত খারাপ। ব্যাংকারদের উদ্দেশে আমার একটা উপদেশ হচ্ছে, জোর করে হলেও এ লক্ষ্য থেকে আপনারা বিরত থাকবেন। একজন উদ্যোক্তাকে শুরুতে সাহায্য করবেন। কিন্তু ব্যাংকাররা সেটি করেন না। এ ক্ষেত্রে আপনাদের মানসিকতার পরিবর্তন করতে হবে।’ তিনি বলেন, এক সময় ব্যাংকিং খাত সরকারি ছিল। কিন্তু এখন ব্যাংকিং খাতে ব্যক্তিমালিকানা অনেক প্রসারিত। ব্যাংকিং খাতের সিংহভাগ ব্যবসা ব্যক্তিমালিকানাতেই হয়ে থাকে। এক সময় ছিল সোনালী ব্যাংক সবচেয়ে বড়। এখন আর তা নেই। এর মানে ব্যাংকিং খাতে ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে গত কয়েক বছরে।  অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এ খাত নিয়ে অনেক সমালোচনা-আলোচনা বিদ্যমান। অনেকেই বলতে চান এ খাতটি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে এবং এটিকে দুর্বল খাত হিসেবে অনেকেই বিবেচনা করেন। আর একটি কথা বলা হয়, আমাদের এখানে ব্যাংকের সংখ্যা অনেক বেশি। সরকারিসহ ৬৩টি ব্যাংক রয়েছে। এর মধ্যে ২৫ শতাংশ সরকারি ব্যাংক। এ খাত নিয়ে এটি আরেকটি সমালোচনা।’ তিনি বলেন, ‘ব্যাংকিং খাত নিয়ে সবচেয়ে বড় সমালোচনা হচ্ছে খেলাপি ঋণ। খেলাপি ঋণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ আছে সরকারি ব্যাংকগুলো নিয়ে। সেগুলোতেই খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেশি। এটি রোধে দেশের ব্যাংকগুলোকে একীভূত করতে হবে। কিন্তু আমাদের দেশে এ ব্যবস্থা এখনো চালু হয়নি। এ ক্ষেত্রে একটি আইন হয়েছে। তবে আইনটি খুব উপযুক্ত নয়। ব্যাংক একেবারেই বন্ধ না করে দিয়ে একীভূতকরণ করা যেতে পারে। এটা খুব ভালো হবে। এ ছাড়া বেসরকারি ব্যাংকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ কম। তবে এসব ব্যাংকে আরেক রকম ফাঁকিবাজি রয়েছে। বেসরকারি খাতের এক ব্যাংকের পরিচালক সমঝোতার মাধ্যমে অন্য ব্যাংক থেকে ঋণ নেন। তিনি তার নিজের ব্যাংক থেকে ঋণ নেন না। এটি নিয়ন্ত্রণ করা বেশ কষ্টকর। তবে নিয়ন্ত্রণ করা দরকার। আমাদের উপায় বের করতে হবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত সেটি করা সম্ভব হয়নি।’

 


আপনার মন্তব্য