Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : সোমবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ২৩:২৯

আওয়ামী লীগে দুই পক্ষে সংঘর্ষ

ফরিদপুরে একজন নিহত, লালমনিরহাটে আহত ৩০

প্রতিদিন ডেস্ক

ফরিদপুরে একজন নিহত, লালমনিরহাটে আহত ৩০

দলীয় বিরোধের জের ধরে গতকাল ফরিদপুরের সালথা এবং লালমনিরহাটের আদিতমারীতে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষে সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় সালথায় একজন নিহত, ২০ জন আহত এবং আদিতমারীতে পুলিশসহ ৩০ জন আহত হয়েছেন। আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

ফরিদপুর : সালথায় গ্রাম্য আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই দল গ্রামবাসীর মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় রাসেল শেখ (২৪) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন উভয় পক্ষের ২০ জন। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। গতকাল সকাল ৮টার দিকে উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নের বড় বাহিরদিয়া গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহত রাসেল বড় বাহিরদিয়া গ্রামের মৃত আবদুল খালেক শেখের ছেলে। আহতদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনার পর পুলিশ ১২ জনকে আটক করেছে। সালথা থানা পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, গ্রামের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে রামকান্তপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার মনজু মোল্যার সঙ্গে একই ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার লুৎফর রহমানের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। সকালে মনজু মোল্যার এক সমর্থকের সঙ্গে লুৎফর রহমানের সমর্থকের কথা কাটাকাটি হয়। এরই জের ধরে উভয় পক্ষের কয়েকশ সমর্থক ঢাল-কাতরা, সড়কি, ভেলা ও ইট-পাটকেল নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের সময় মনজুর সমর্থক রাসেল শেখের গলায় কাতরা বিদ্ধ হয়। তাকে দ্রুতই ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালে নেয়ার পর সে মারা যায়। ঘণ্টাব্যাপী চলা এ সংঘর্ষে আহত হয় কমপক্ষে ২০ জন। সংঘর্ষের খবর পেয়ে সালথা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ১১ রাউন্ড রাবার বুলেট ও ২টি টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে পুলিশ সংঘর্ষের সঙ্গে জড়িত থাকায় ১২ জনকে আটক করেছে। সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. দেলোয়ার হোসেন জানান, বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে। নিহতের ঘটনায় এখনো মামলা হয়নি। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আটকের চেষ্টা চলছে।

লালমনিরহাট : উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন নিয়ে বিরোধের জেরে লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলা আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ বেশ কয়েক রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করেছে। এ ঘটনায় পুলিশসহ আহত হয়েছেন অন্তত ৩০ জন। আহতদের লালমনিরহাট ও আদিতমারী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে চারজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। জানা গেছে, গতকাল বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আদিতমারী উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এতে প্রায় ২ ঘণ্টা লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল। পুলিশ জানায়, আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাপ্টিবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান রফিকুল আলম। এদিকে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শহীদ সামছুল ইসলাম সুরুজের ছেলে ও বর্তমান উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শওকত আলীর ভাতিজা ফারুক ইমরুল কায়েস, যিনি গত নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েও ধানের শীষের প্রার্থীর কাছে সামান্য ভোটের ব্যবধানে হারেন। এ ছাড়াও জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি সিরাজুল হকও মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। রফিকুল আলমকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়ায় অন্য দুই মনোনয়নপ্রত্যাশীর মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। দলীয় মনোনয়ন নিয়ে গতকাল ঢাকা থেকে রংপুর হয়ে বাড়ি ফিরছিলেন রফিকুল আলম। তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানাতে তার অনুসারীরা সকালে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা নিয়ে গংগাচড়া শেখ হাসিনা সেতুর দিকে যাচ্ছিলেন। পথে উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে এলে মনোনয়ন বঞ্চিতদের অনুসারীরা তাদের পথ রোধ করে। এতে দুই গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে, এবং উভয়পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন। এ সময় ভাঙচুর করা হয় ১০/১২টি মোটরসাইকেল। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে রাবার বুলেট ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এ সময় আতঙ্কে আশপাশের দোকানপাট বন্ধ করে দেন দোকানিরা। রণক্ষেত্রে পরিণত হয় পুরো এলাকা।


আপনার মন্তব্য