শিরোনাম
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ৭ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ৬ নভেম্বর, ২০১৯ ২৩:৩৯

২৪ আসামির সবাই ছাত্রলীগের

বুয়েটে আবরারকে পিটিয়ে হত্যায় প্রস্তুত চার্জশিট

আলী আজম

২৪ আসামির সবাই ছাত্রলীগের

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান ২৪ জন ছাত্রকে আসামি করে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) চূড়ান্ত করেছে পুলিশ। চাঞ্চল্যকর এ হত্যার চার্জশিট আগামী সপ্তাহে আদালতে দাখিল করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্ত সংস্থা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। ইতিমধ্যে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির পরিদর্শক (দক্ষিণ) মো. ওয়াহিদুজ্জামান মামলার তদন্ত শেষ করেছেন। এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে এ মামলার তদন্ত শেষ করল ডিবি। মামলার আসামিদের প্রায় সবাই বুয়েট ছাত্রলীগের নেতা, কর্মী ও সমার্থক। ঘটনার পর তাদেরকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়। বুয়েটও আসামিদের বহিষ্কার করেছে। জানা গেছে, চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকান্ডে র চার্জশিট জমা দেওয়ার আগে তদন্ত তদারকি কর্মকর্তারা বিষয়টি নিয়ে পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারীর অনুমতি নিতে চান। আইজিপি আজ সন্ধ্যায় সিঙ্গাপুর থেকে দেশে ফিরছেন। তিনি চার্জশিট সম্পর্কে অবহিত হয়ে অনুমতি দিলে আগামী সপ্তাহের যে কোনো দিন আদালতে জমা দেওয়া হবে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বুয়েটের শেরেবাংলা হলের আবাসিক ছাত্র ও ১৭তম ব্যাচের ইলেকট্রিক অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের আবরার হত্যায় সাক্ষী ও আসামিদের জবানবন্দির ওপর ভিত্তি করে চার্জশিট প্রস্তুত করা হয়েছে। এই মামলায় ২১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা সবাই কারাগারে আছেন। এ ছাড়া তিনজন পলাতক। চার্জশিটভুক্ত হচ্ছে ২৪ জন : মেহেদী হাসান রাসেল, মুহতাসিম ফুয়াদ, মো. অনীক সরকার, মেহেদী হাসান রবিন, ইফতি মোশাররফ সকাল, মনিরুজ্জামান মনির, মো. মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন, মো. মাজেদুর রহমান, মো. তানভীর আহম্মেদ, মো. মোজাহিদুর, হোসেন মোহাম্মদ তোহা, মো. জিসান, মো. আকাশ, মো. শামীম বিল্লাহ, মো. শাদাত, মো. তানিম, মো. মোর্শেদ, মো. মোয়াজ, মুনতাসির আল জেমি, ইশতিয়াক আহমেদ মুন্না, অমিত সাহা, মো. মিজানুর রহমান ওরফে মিজান, শামসুল আরেফিন রাহাত ও এস এম মাহমুদ সেতু। আসামিদের মধ্যে রাসেল বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক, ফুয়াদ সহসভাপতি, অনীক তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক, রবিন সাংগঠনিক সম্পাদক, সকাল উপ-সমাজসেবা সম্পাদক, মনির সাহিত্য সম্পাদক, জিয়ন ক্রীড়া সম্পাদক, রাফিদ উপদফতর সম্পাদক, অমিত সাহা উপ-আইনবিষয়ক সম্পাদক এবং তানিম, মুজাহিদুর ও জেমি সদস্য।

আসামিদের জবানবন্দিতে আবরার ফাহাদ হত্যার ভয়াবহতা উঠে এসেছে।

কার কী অপরাধ, কতটুকু অপরাধ- তা চার্জশিটে উল্লেখ করা হচ্ছে। চার্জশিটের সঙ্গে আলামত হিসেবে আবরারের রক্তমাখা জামা-কাপড়, মেসেঞ্জারে আসামিদের লিখিত যোগাযোগ, প্রযুক্তিগত অন্যান্য যোগাযোগ, শেরেবাংলা হলের সিসিটিভি ফুটেজসহ ঘটনাস্থল থেকে জব্দ করা আলামতও জমা দেওয়া হচ্ছে।

তদন্ত প্রতিবেদনে যা উল্লেখ করা হচ্ছে

আবরার ফাহাদ শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন, এই সন্দেহেই তাকে শায়েস্তা করার সিদ্ধান্ত নেন বুয়েট ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা। একটি ফেসবুক স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করেই তাকে সন্দেহের চোখে দেখা হয়। ঘটনার আগে এই হত্যাকান্ডে র সঙ্গে জড়িতরা পরিকল্পনা করেন আবরারকে শায়েস্তা করার। ঘটনার আগে তারা একটি মিটিংও করেন। এর আগে বুয়েট ছাত্রলীগের এক নেতা ফেসবুক গ্রুপে আবরারকে শায়েস্তা করার ঘোষণা দেন। এতে অনেকেই সায় দেন।

৬ অক্টোবর শেরেবাংলা হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে ডেকে এনে আবরারকে মারধর করা হয়। তাকে কিল-ঘুষি মেরে, স্কিপিং দড়ি দিয়ে ও ক্রিকেট স্টাম্প দিয়ে বেধড়ক পেটান হত্যাকারীরা। মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত তাকে পেটানো হয়। পানি পানি বলে চিৎকার করলেও তাকে পানি খেতে দেওয়া হয়নি। তিনি কয়েকবার বমিও করেন। কিন্তু তার চিকিৎসার ব্যবস্থা কেউ করেননি। একপর্যায়ে আবরার মারা যাওয়ার পর তাকে ধরাধরি করে দোতলার সিঁড়ির ওপর ফেলে রাখেন হত্যাকারীরা।

স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে ৮ জন

বুয়েট ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যাকান্ডে  জড়িত আটজন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তারা হলেন- ইফতি মোশাররফ হোসেন সকাল, মেহেদী হাসান রবিন, মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন, অনীক সরকার, মুজাহিদুর রহমান মুজাহিদ, মনিরুজ্জামান মনির, এ এস এম নাজমুস শাদাত ও তাবাখখারুল ইসলাম তানভীর।

অধরা তিনজন

আবরার হত্যা মামলায় এজাহারভুক্ত তিন আসামি মো. জিসান, মো. মোর্শেদ ও মো. তানিমকে এখনো গ্রেফতার করতে পারেনি মামলার তদন্তকারী সংস্থা ডিবি। তবে বুয়েট ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় গ্রেফতার হওয়া ২১ জনের মধ্যে ১৬ জন এজাহারভুক্ত।

গত ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হল থেকে ১৭তম ব্যাচের ইলেকট্রিক অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরার ফাহাদের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরদিন নিহতের বাবা বরকত উল্লাহ বাদী হয়ে ১৯ জনের নাম উল্লেখ করে চকবাজার থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

পুলিশ জানায়, আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যার প্রমাণ পাওয়া গেছে। একাধিক ভিডিও ফুটেজও পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় জড়িত এখন পর্যন্ত ২১ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তারা সবাই বুয়েট ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী। তাদেরকে বুয়েট এবং ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কারও করা হয়েছে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর