শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ টা
আপলোড : ৭ ডিসেম্বর, ২০১৯ ২৩:২১

রুম্পার মৃত্যু নিয়ে ঘোর রহস্য

কথিত প্রেমিক আটক, চলছে জিজ্ঞাসাবাদ, সহপাঠীদের বিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক

রুম্পার মৃত্যু নিয়ে ঘোর রহস্য

রহস্যের ঘোর কাটছে না রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরীতে স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী রুবাইয়াত শারমিন রুম্পার মৃত্যুর। তিন দিন পেরিয়ে গেলেও তদন্ত-সংশ্লিষ্টরা নিশ্চিত হতে পারছেন না রুম্পা আত্মহত্যা করেছেন, নাকি তাকে খুন করা হয়েছে। উত্তর মিলছে না সন্ধ্যা ৬টা ৩৫ মিনিট থেকে লাশ পাওয়ার আগ পর্যন্ত কোথায় ছিলেন রুম্পা? তবে রুম্পার এক কথিত প্রেমিককে আটক করে গতকাল থেকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। জানা গেছে, নিজ বিশ্ববিদ্যালয়েরই বিবিএ ফ্যাকাল্টির সৈকত নামের এক ছাত্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল রুম্পার। সৈকত পরিবারের সঙ্গে রাজধানীর গোরান এলাকায় থাকেন। তবে সম্প্রতি তাদের মধ্যে সম্পর্ক ভালো যাচ্ছিল না। এ নিয়ে চরম হতাশায় ছিলেন রুম্পা। বুধবার বিকাল ৫টার দিকে আয়েশা শপিং কমপ্লেক্সে তার এক বান্ধবীর সঙ্গে দেখা করে রুম্পা কান্নাকাটি করেন। ওই বান্ধবী পরিবারের সঙ্গে আয়েশা শপিং কমপ্লেক্সে থাকেন। এরপর শান্তিবাগে একটি টিউশনিতে যান রুম্পা। টিউশনি শেষ করে তার চাচার সঙ্গে কথা বলেন সন্ধ্যা ৬টা ৩৫ মিনিটে। এর পর থেকে সাড়ে ১০টায় লাশ পাওয়ার আগ পর্যন্ত রুম্পার অবস্থান সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত হতে পারেননি তদন্ত-সংশ্লিষ্টরা। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার আবদুল বাতেন বলেন, ‘রুম্পার ঘনিষ্ঠ এক বন্ধুকে আমরা জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে এসেছি। তবে এখনো পর্যন্ত নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না ঘটনাটি হত্যা না আত্মহত্যা। সম্ভাব্য সবগুলো দিক গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মা ও ভাইয়ের সঙ্গে ২৫৫ শান্তিবাগের দ্বিতীয় তলায় বসবাস করলেও সিদ্ধেশ্বরী সার্কুলার রোডের ৬৪/৪ নম্বর বাসার নিচে পড়ে ছিল রুম্পার লাশ। ঘটনাস্থল ওই কানাগলির শেষ অংশে আয়েশা শপিং কমপ্লেক্স ভবনের পেছনের অংশ।

ওই ভবনের ১১ তলার ছাদের কিনারায় এক জোড়া স্যান্ডেলের ছাপ পাওয়া গেছে। পুলিশের ধারণা, ওই ছাপ রুম্পার স্যান্ডেলের। নিচে পড়ার আগে হয়তো তিনি সর্বশেষ সেখানে দাঁড়িয়েছিলেন। ওই ছাপ ও রুম্পার স্যান্ডেল পাঠানো হয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ল্যাবে। এর আগে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফেরার পর রুম্পা বাসায় গিয়ে তার মায়ের মোবাইলে ফোন দিয়ে চাচাতো ভাই শুভর মাধ্যমে বাসা থেকে জুতা আনিয়ে তা পরিবর্তন করে যান। রুম্পার বাবা রোকন উদ্দীন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘আমার মেয়ে আত্মহত্যা করতে পারে না। তার সহপাঠী, বন্ধুদের জিজ্ঞেস করলেই আপনারা বিষয়টি জানতে পারবেন।’ তবে দ্রুততর সময়ের মধ্যে ঘটনার রহস্য উন্মোচন হবে বলে তার বিশ্বাস। এদিকে রুম্পাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে অভিযোগ তুলে জড়িত বা জড়িতদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে গতকালও সিদ্ধেশ্বরীতে মিছিল ও মানববন্ধন করেছেন স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা। রুম্পা এ বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগের ¯œাতক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ছিলেন। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) রাজীব আল মাসুদ বলেন, রুম্পার অনেক বন্ধুকে আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করছি। বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক কারও সঙ্গে তার কোনো ঝামেলা ছিল কি না কিংবা কারও সঙ্গে কোনো ধরনের শত্রুতা ছিল কি না- এসব বিষয় আমরা খতিয়ে দেখছি। আশা করছি শিগগিরই বিষয়টির সুরাহা হবে।’


আপনার মন্তব্য