শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৭ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ৬ জানুয়ারি, ২০২০ ২৩:৩১

রণপ্রস্তুতি দুই পক্ষেরই

ফের মার্কিন দূতাবাস লক্ষ্য করে হামলা, উৎকণ্ঠায় যুক্তরাষ্ট্র, সোলাইমানির জানাজায় মানুষের ঢল

রণক ইকরাম

রণপ্রস্তুতি দুই পক্ষেরই
তেহরানে গতকাল সোলাইমানির জানাজা জনসমুদ্রে পরিণত হয় -এএফপি

ইরাকে যুক্তরাষ্ট্র ড্রোন হামলা চালিয়ে ইরানি জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে হত্যার পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ-যুদ্ধ অবস্থা বিরাজ করছে। রণপ্রস্তুতি নিচ্ছে দুই পক্ষই। সোলাইমানি হত্যার জের ধরে এবার মার্কিন প্রেসিডেন্টকে হত্যার জন্য পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। রবিবার ইরানের মাশহাদ শহরের রাস্তায় জনতার ঢল নামে। হাজার হাজার বিক্ষুব্ধ ইরানি ‘আমেরিকা নিপাত যাক’সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকে। এ সময় সোলেইমানির প্রতি শ্র্রদ্ধা জানাতে আসা জনসমুদ্রের সামনে দেশটির শীর্ষ নেতারা ঘোষণা দিয়েছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মাথা এনে দিতে পারলে ৮০ মিলিয়ন পুরস্কার দেওয়া হবে। দেশটির একাধিক টিভি চ্যানেল তা সম্প্রচার করেছে বলে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম জানায়, রবিবার রাতেই সোলাইমানির মরদেহ মাশহাদ থেকে তেহরানে নিয়ে আসা হয়। নামাজে জানাজায় অংশ নেওয়ার মাধ্যমে জাতীয় বীরকে শেষ বিদায় জানাতে লাখ লাখ ইরানি সজল চোখে তেহরান বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে জমা হয়। মানুষের ভিড়ে তখন তিলধারণেরও জায়গা ছিল না বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশের এলাকায়। ময়দানে ঢুকতে না পেরে বহু মানুষ চারপাশের সড়কে দাঁড়িয়ে জানাজায় অংশ নেন। জেনারেলের জানাজায় ইমামতি করেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি।  এদিকে ইরাকের রাজধানী বাগদাদের গ্রিন জোনে মার্কিন দূতাবাস লক্ষ্য করে ফের রকেট হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৬ জন। গ্রিন জোন এলাকায় সরকারি ভবন এবং বিদেশি মিশনগুলো অবস্থিত। রবিবার খাতুশা রকেট দিয়ে হামলা চালানো হয়। ইরাকি  সেনাবাহিনীর বরাত দিয়ে এ তথ্য জানায় আল জাজিরা। ইরাক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সৈন্য বহিষ্কার ইরানের জন্য বড় বিজয় বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনীতিবিষয়ক সাবেক আন্ডার সেক্রেটারি ওয়েন্ডি শেরমান। তিনি বলেন, ইরাকি পার্লামেন্টে মার্কিন সৈন্য বহিষ্কার করতে ভোট হতে যাচ্ছে। এটা ইরানের জন্য একটি বড় বিজয়। ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের কারণে এটা আমাদের স্বার্থের একটি বিপর্যয়। জেনারেল সোলাইমানিকে হত্যার পর ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যে এক টুইটবার্তায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

বাবাকে হত্যা করে ইসরায়েল-আমেরিকা নিজেদের দুর্দিন ডেকে এনেছে বলে মন্তব্য করেছেন সোলাইমানির কন্যা জয়নাব সোলাইমানি। জয়নাব সোলাইমানি বলেন, আমার বাবাকে হত্যা করার মধ্য দিয়েই যদি ‘পাগল’ ট্রাম্প ভেবে থাকেন সবকিছু শেষ হয়ে গেছে, তাহলে তা হবে চূড়ান্ত ভুল। বরং সোলাইমানিকে হত্যা করার মাধ্যমে ইসরায়েল ও আমেরিকা নিজেদের দুর্দিন ডেকে এনেছে।’

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে উৎকণ্ঠা চলছে যুক্তরাষ্ট্রে। তাই ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা প্রশমনে প্রেসিডেন্টের সামরিক ক্ষমতা সীমিত করার প্রস্তাব উঠছে দেশটির (যুক্তরাষ্ট্রে) কংগ্রেসে (সংসদ)। রবিবার রাতে প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যানসি পেলোসি এ বিষয়ে একটি চিঠি লিখেছেন। এদিকে, নিজেদের মধ্যে আলোচনা চালিয়ে এই দ্বন্দ্ব মেটানোর আহ্বান জানিয়েছে ওমান।

 অন্যদিকে মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (সিআইএ)- এর সাবেক পরিচালক ও সাবেক মার্কিন জেনারেল ডেভিড পেট্রাউস বলেছেন, আল-কায়েদা প্রধান ওসামা বিন লাদেন ও আইএসআই নেতা আবু বাকার বাগদাদিকে হত্যার চেয়েও ইরানি জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে হত্যা অধিক গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, জেনারেল সোলাইমানিকে হত্যা করা যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ তার বর্ণনা মুখে দেওয়া অসম্ভব।

আজ দাফন : মার্কিন হামলায় নিহত সোলাইমানি ও অন্যান্য যোদ্ধার লাশ তেহরানের ইনকিলাব চত্বর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার পশ্চিমে আজাদি স্কয়ারে নেওয়া হয়। সেখান থেকে মরদেহগুলো ইরানের দক্ষিণে ধর্মীয় নগরী কোমে নেওয়া হয়। সোলাইমানির মরদেহ আজ তার জন্মস্থান কেরমান প্রদেশে নেওয়া হবে। সেখানেই হবে শেষ জানাজা। এরপর তাকে সেখানেই দাফন করা হবে।

গত শুক্রবার ভোরে ইরাকের রাজধানী বাগদাদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে বিমান হামলা চালিয়ে জেনারেল সোলাইমানিকে হত্যা করে মার্কিন সেনারা। ওই হামলায় ইরাকের জনপ্রিয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন হাশদ আশ-শাবির উপপ্রধান আবু মাহদি আল-মুহানদিসসহ মোট ১০ জন নিহত হন।

খামেনির কান্না : গতকাল তেহরান বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে জেনারেল সোলাইমানিসহ ছয়জনের জানাজা পড়াতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি। ইরানি গণমাধ্যম বলছে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনিকে এভাবে আর কখনো কাঁদতে দেখা যায়নি।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর