শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৩ জানুয়ারি, ২০২০ ২৩:৩৮

ওয়াসার এমডির বিরুদ্ধে কেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নয় : হাই কোর্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক

ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাকসিম এ খানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা কেন গ্রহণ করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাই কোর্ট। বুড়িগঙ্গা নদী দূষণ রোধে আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়ন না করা, অসত্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে আদালতের স্বাভাবিক কাজে বিঘ্ন ঘটানোয় আদালত অবমাননার অভিযোগে আদালত এ রুল জারি করেছে। গতকাল বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুর ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর সমন্বয়ে গঠিত হাই কোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করে। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। আদালতে আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। ওয়াসার পক্ষে আইনজীবী উম্মে সালমা। পরিবেশ অধিদফতরের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী আমাতুল করিম। পরে মনজিল মোরসেদ জানান, ২০১০ সালে বুড়িগঙ্গার পানি দূষণ বন্ধের জন্য হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) হাই কোর্টে একটি রিট করে। রিটের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১১ সালে দেওয়া রায়ে আদালত ছয় মাসের মধ্যে বুড়িগঙ্গার ভিতরে যে ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডিসচার্জ লাইনগুলো (শিল্পবর্জ্য নিঃসরণ লাইন) আছে সেগুলো বন্ধ করে দেওয়ার জন্য ওয়াসার এমডির প্রতি নির্দেশ দেয়। এরপর ২০১৪ সালে পরিবেশ অধিদফতর যেসব শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ইটিপি (ই-ফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্লান্ট) নেই এবং বর্জ্যগুলো বুড়িগঙ্গায় পড়ে পানি দূষণ করছে সেগুলোর বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে দিয়েছিল। মনজিল মোরসেদ আরও বলেন, তখন শিল্প মালিক সমিতি আদালতে এসে স্থগিতাদেশ নিয়ে আপিল বিভাগ পর্যন্ত শুনানি হয়েছিল। ২০১৬ সালে আপিল বিভাগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পর পরিবেশ অধিদফতরের কার্যক্রম বৈধ হিসেবে বিবেচিত হয়। কিন্তু তিন বছরেও কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় আমরা ফের আবেদন করি। গত বছরের জুলাইয়ে ওয়াসার এমডির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ এনেছিলাম। তখন আদালত তাদের সময় দিয়েছিল প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য। তারা প্রতিবেদন দিল- ওয়াসার কোনো স্যুয়ারেজ লাইন বুড়িগঙ্গার ভিতরে নেই। তিনি বলেন, বিআইডব্লিউটিএ প্রতিবেদন দিয়ে বলল ৬৮টি লাইন আছে। এর মধ্যে ওয়াসার আছে ৫৮টি। এরপর হাই কোর্ট এক আদেশে অসত্য তথ্য দেওয়ার জন্য তার বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না- তা জানতে চায় এবং আদালতের নির্দেশ পালনে অগ্রগতি প্রতিবেদন দিতে বলে। এরপর দু-তিনবার তারা প্রতিবেদন দিয়েছেন। কিন্তু কোনো প্রতিবেদনে আদালতের নির্দেশ পালনের পদক্ষেপ তারা দেখাতে পারেননি। এসব কারণে আমাদের আবেদন মঞ্জুর করে ওয়াসার এমডি তাকসিম এ খানের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারি করেছে হাই কোর্ট।


আপনার মন্তব্য