শিরোনাম
প্রকাশ : শুক্রবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ২৩:৩২

হামলার তিন দিন আগে পরিকল্পনা

বন্ড সন্ত্রাসীর স্বীকারোক্তি

আদালত প্রতিবেদক

হামলার তিন দিন আগে পরিকল্পনা

পুরান ঢাকার নয়াবাজার এলাকায় বন্ড চোরাকারবারিরা ঘটনার তিন দিন আগে হামলার পরিকল্পনা করে। পরে সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী সাংবাদিকদের ওপর হামলা করা হয়। বুধবার ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে বেসরকারি টেলিভিশন ‘নিউজ  টোয়েন্টিফোরের’ সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় গ্রেফতার বন্ড সন্ত্রাসী ফারুক হোসেন এমন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বংশাল থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) নুর আলম মিয়া ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আসামি ফারুক হোসেনের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করার আবেদন করেন। এর আগে ভারপ্রাপ্ত মুখ্য মহানগর হাকিম কায়সারুল ইসলাম আসামির জবানবন্দি গ্রহণ করার জন্য ঢাকা মহানগর হাকিম সত্যব্রত শিকদারের কাছে পাঠান। পরে হাকিমের খাসকামরায় ফারুক জবানবন্দি দেন। আদালত সূত্র জানায়, জবানবন্দিতে আসামি ফারুক বলেন, ঘটনার তিন দিন আগে পুরান ঢাকার নয়াবাজার এলাকায় বন্ড সুবিধায় আনা কাগজ ব্যবসায়ীরা মিটিং করে। এ মিটিংয়ে পরিকল্পনা করা হয় কাস্টম কর্মকর্তা, পুলিশ, সাংবাদিক যে তাদের ব্যবসায় বাধা দিতে আসবে তাদের হামলা করে প্রতিহত করা হবে। পরে ঘটনার দিন কাস্টম কর্মকর্তা ও সাংবাদিকরা আসতে পারে এটা জেনেই ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন স্থানে পাহারা বসায়। দুপুরের দিকে নিউজ টোয়েন্টিফোরের একটি গাড়ি দেখেই তারা ঝাঁপিয়ে পড়ে। গাড়ি থেকে দুজন সাংবাদিককে টেনে-হিঁচড়ে বের করে তারা এলোপাতাড়িভাবে মারতে থাকে। পাশাপাশি কয়েকজন ওই গাড়ি ভাঙচুর করে। সাংবাদিকদের ক্যামেরা কেড়ে নেওয়া হয়। ঘটনার দিন বন্ড চোরাচালানের বিরুদ্ধে অভিযানের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হন নিউজটোয়েন্টিফোরের প্রতিবেদক ফখরুল ইসলাম ও ক্যামেরাপারসন শেখ জালাল। পরে তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় ফখরুল ইসলাম বাদী হয়ে বংশাল থানায় মামলা করেন। জানা গেছে, বন্ড সুবিধা নিয়ে আমদানি করা পণ্য খোলাবাজারে বিক্রি করে আসছিল নয়াবাজারের বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। ওইসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযানে নামে কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট। তখন বন্ড সন্ত্রাসী বাহিনী কাস্টম কর্মকর্তাদের অবরুদ্ধ করে রাখার পাশাপাশি সাংবাদিকদের ওপর হামলা করে। পরে হামলার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বংশাল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং ছিনতাই করা ক্যামেরা উদ্ধার করে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর