শিরোনাম
প্রকাশ : বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ২৩:১৩

সবখানে পাপিয়া পিউদের দাপট

নিজস্ব প্রতিবেদক

সবখানে পাপিয়া পিউদের দাপট
সুইমিং পুলে উৎসব করছে সেই পাপিয়া ও তার সহযোগীরা (ভিডিও কিউআর কোডে) -বাংলাদেশ প্রতিদিন

সারা দেশ থেকেই পাপিয়াদের রাজনীতিতে দাপটের খবর আসতে শুরু করেছে। একই ধরনের মেকআপ-গেটআপ নিয়ে ওরা ঘুরে বেড়ায় ঢাকার সচিবালয় থেকে শুরু করে জেলা শহরের সরকারি অফিস-আদালতে। অনেকের রয়েছে তদবির বাণিজ্য। আবার প্রভাবশালী কিছু নেত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে সচিবালয়ে দিনভর ঘুরে বেড়ানোর। তাদের যন্ত্রণায় অনেক সময় মন্ত্রী ও কর্মকর্তারা কাজ করতে ঝামেলায় পড়েন। এমনকি গুরুত্বপূর্ণ সচিবদের দরবারেও তাদের দেখা যায়। কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের একজন কর্মকর্তা গতকাল     বলেন, এখানে একজন নেত্রী রয়েছেন যিনি ঢাকার জাতীয় নেতাদের সঙ্গে ছবি তুলে বেড়ান। আর কক্সবাজারে এসে সবাইকে ক্ষমতার দাপট দেখান। একই ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেছে চট্টগ্রাম-সিলেটসহ বিভিন্ন বিভাগীয় ও জেলা শহর থেকেও। সহযোগী সংগঠনের পদ বাগিয়ে তারা করে চলেছেন ব্যবসা-বাণিজ্য। ঢাকায় অনেক সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে ২০-২৫ জনকে নিয়ে কেউ কেউ প্রবেশ করেন। সঙ্গে অনেকের পাসও থাকে না। এ নিয়ে নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে হামেশা ঝামেলা হয়। কিন্তু কারও কথা শোনার সময় নেই তাদের। নরসিংদী জেলা যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক শামীমা নূর পাপিয়া ধরা খাওয়ার পর আরও অনেকে মুখোশ খোলার ভয়ে আতঙ্কে রয়েছেন। এমনকি রঙিন জগতের যারা, নেতাদের বাড়ি বাড়ি ঘুরে বেড়ান তাদের মধ্যেও কিছুটা আতঙ্ক ছড়িয়েছে। অনেক পড়তি নায়ক-নায়িকা এখন একই কাজে ব্যস্ত। সিনেমা, নাটক, গান বাদ দিয়ে ওরা ঘুরে বেড়ায় বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও নেতাদের বাড়ি বাড়ি। এ ছাড়া সংগঠনের নামেও অনেক কা-কীর্তি ঘটছে যা ভাবমূর্তি ক্ষুণœ করছে ক্ষমতাসীন দলের। অনেকের কা-কীর্তি ঢাকা শহরের সবাই জানেন। এমনকি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে অনেকের ফাইল রয়েছে। তার পরও তাদের অবস্থান বদল হচ্ছে না। বরং ক্ষমতার ধারেকাছে ঘেঁষতে অনেকে দৃষ্টিকটুভাবে ঘুরে বেড়ায়। র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লে. কর্নেল সারোয়ার বিন কাশেম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, পাপিয়া সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে আমাদের খোঁজ অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে এ সিন্ডিকেটের মতো আরও কোনো চক্র সক্রিয় আছে কিনা সে ব্যাপারেও অনুসন্ধান চলছে। সে যে-ই হোক না কেন, কারও ছাড় নেই। তদন্তসংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, পাপিয়াকে যাতে কোনোভাবেই গ্রেফতার না করা হয় সেজন্য ওপরমহলের অনেকেই ফোন করেছেন। তবে সবুজ সংকেত পেয়েই পাপিয়াকে গ্রেফতারের পর রহস্যজনকভাবে থেমে যায় তাদের তদবির। একে একে বেরিয়ে আসতে থাকে সব প্রভাবশালীর সঙ্গে পাপিয়ার সম্পর্কের মাত্রা। তিনি আরও বলেন, ওই প্রভাবশালীদের সঙ্গে পাপিয়ার ফোনালাপের রেকর্ডও এখন তদন্তসংশ্লিষ্টদের হাতে। খতিয়ে দেখা হচ্ছে ওই ব্যক্তিরা পাপিয়ার কাছ থেকে কীভাবে সুবিধা নিয়েছেন। তাদের কেউ ব্ল্যাকমেইলিংয়ের শিকার হয়েছিলেন কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর