শিরোনাম
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ৩০ জুন, ২০২০ ০০:১৩

ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে বন্ধুত্বপূর্ণ বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

ভারতের কেন্দ্রীয় পররাষ্ট্র ও সংসদবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ভি মুরলিধরন বলেছেন, দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে বন্ধুত্বপূর্ণ দেশ হচ্ছে বাংলাদেশ। উভয় দেশের নেতারা বেশ কয়েকটি অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিয়েছেন, যা দুই দেশের মধ্যে আমদানি ও রপ্তানির ক্ষেত্রে ব্যবসায়িক  প্রবৃদ্ধি অর্জনকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে। আমরা বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের মধ্যে একটি ফলপ্রসূ সম্পর্ক ধরে রাখতে পেরেছি। যার মাধ্যমে উভয় দেশের উন্নয়নে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বাংলাদেশ ও ভারতের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতাদের নিয়ে আয়োজিত সম্প্রতি ওয়েবিনার বা অনলাইন সম্মেলনে ভারতের কেন্দ্রীয় পররাষ্ট্র ও সংসদবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ভি মুরলিধরন এসব কথা বলেন উল্লেখ করে গতকাল গণমাধ্যমে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে ব্যবসায়ী-শিল্পপতিদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশন- এফবিসিসিআই। ‘অপরচুনিটিজ অ্যান্ড চ্যালেঞ্জেস’ শীর্ষক ওই সম্মেলন করে কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রি-সিআইআই। বিজ্ঞপ্তির তথ্যে বলা হয়- ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ভি মুরলিধরনের সভাপতিত্বে ওয়েবিনারে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন এফবিসিসিআই সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম। এতে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ডেভেলপমেন্ট অথরিটির (বিআইডিএ) এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান মো. সিরাজুল ইসলাম, ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশ হাইকমিশনার মুহাম্মদ ইমরান, ঢাকা নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার রিভা গাঙ্গুলী দাস, সিআইআইর মহাপরিচালক চন্দ্রজিৎ ব্যানার্জি, এক্সিম ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডেভিড রাসকুইনহা প্রমুখ। ওই ওয়েবিনারে ঢাকা নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার রিভা গাঙ্গুলী দাস বলেন, উভয় দেশের মধ্যে সুস্পষ্ট আমদানি ও রপ্তানি নিশ্চিত করতে উভয় দেশের মধ্যে অবকাঠামো উন্নয়ন করা হচ্ছে। সেই উন্নয়ন কাঠামোকে কেন্দ্র করে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যকে শক্তিশালী করার জন্য আমাদের কাছে আরও বিকল্প মাধ্যম রয়েছে। তার একটি ভালো উদাহরণ হতে পারে, দুই দেশের মধ্যে রেল নেটওয়ার্ক সৃষ্টি। রেল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পণ্য রপ্তানি ও আমদানি উভয় দেশই ব্যাপক লাভবান হবে। এফবিসিসিআই সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম বলেন, আমরা এই নতুন চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা ও দেশের অর্থনৈতিক সংকট পুনরুদ্ধারের জন্য ভারতীয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে কাজ করতে চাই। একই সঙ্গে এই সংকট থেকে পুনরুদ্ধারের জন্য তাদের সহযোগিতাও কামনা করছি। উভয় দেশের মধ্যে বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য বিলাটেরাল ভ্যালু চেন ইনিশিয়েটিভ (বিভিসি) এর উদ্যোগে এফবিসিসিআই বেশকিছু শক্তিশালী খাত চিহ্নিত করেছে। তার মধ্যে ভারত থেকে বাংলাদেশি পণ্য উৎপাদনের কাঁচামাল, অভ্যন্তরীণ বাজারের ক্ষেত্রে এফকিউএফ পণ্য প্রবেশাধিকার বন্ধসহ লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, এগ্রো- প্রসেসিং, কেমিক্যাল, পোশাক ইত্যাদি। এসব ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া যেতে পারে। তিনি বলেন- স্থলবন্দর সংক্রান্ত নানা সমস্যা রয়েছে যা আমরা সরকারি-বেসরকারিভাবেও কাজ করার জন্য এগিয়ে আসতে পারি। সিআইআইর মধ্যে আমাদের একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যকে সর্বোচ্চে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে আমরা একসঙ্গে কাজ করে যাব। যার মাধ্যমে বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে নতুন এক দিগন্ত তৈরি হবে। এফবিসিসিআইর সাবেক সভাপতি ও ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি-আইবিসিসিআইর সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমাদ বলেন, বাণিজ্যিকভাবে দুই দেশের মধ্যে যে বন্ধুত্ব সৃষ্টি হয়েছে এতে উভয় দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে ব্যাপক উন্নয়ন ঘটবে। যার ফলে আমরা আরও অনেক কিছু পেতে পারি।


আপনার মন্তব্য

এই বিভাগের আরও খবর