শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ২২ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ টা
আপলোড : ২১ নভেম্বর, ২০২০ ২৩:০১

সশস্ত্র বাহিনী বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করছে : প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

সশস্ত্র বাহিনী বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করছে : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দক্ষতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছেন। সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে গতকাল রাতে এক অনলাইন ভাষণে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা অতীতে যে কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনায় দক্ষতা দেখিয়েছেন। দেশের অবকাঠামো উন্নয়নেও সশ্রস্ত্র বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। তিনি বলেন, করোনাভাইরাস মোকাবিলা করতে গিয়ে সশস্ত্র বাহিনীর উল্লেখযোগ্যসংখ্যক সদস্য আক্রান্ত হয়েছেন এবং বেশ কয়েকজন মৃত্যুবরণ করছেন। যাঁরা মৃত্যুবরণ করেছেন তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। যাঁরা অসুস্থ, তাঁদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা প্রবর্তিত ‘সকলের সাথে বন্ধুত্ব¡, কারও সাথে বৈরিতা নয়’- এই মূলমন্ত্র দ্বারা আমাদের বৈদেশিক নীতিমালা পরিচালিত। প্রতিবেশী সব রাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে আমরা বিশ্বাসী। তবে যে কোনো আগ্রাসী আক্রমণ থেকে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য আমরা সদা প্রস্তুত ও দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে বঙ্গবন্ধুর প্রতিরক্ষানীতি ১৯৭৪-এর আলোকে আমরা ফোর্সেস গোল-২০৩০ প্রণয়ন করেছি। তারই ধারাবাহিকতায় সশস্ত্র বাহিনীকে সাংগঠনিকভাবে পুনর্গঠন, উন্নত প্রশিক্ষণ প্রদান এবং বিশেষায়িত সামরিক সজ্জায় সজ্জিত করা হচ্ছে। বিগত এক দশকে আমরা সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিটি শাখাকে আধুনিক সমরাস্ত্র এবং উপকরণ দ্বারা সমৃদ্ধ করেছি। আমাদের সরকারের আমলে সশস্ত্র বাহিনী যে পরিমাণ আধুনিকায়ন হয়েছে অতীতে কোনো সময়েই তা হয়নি। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দুটি পদাতিক ব্রিগেড, রামুতে ১০ পদাতিক ডিভিশন, সিলেটে ১৭ পদাতিক ডিভিশন, পদ্মা সেতু প্রকল্পের নিরাপত্তা ও তদারকির জন্য ১টি কম্পোজিট ব্রিগেড, স্পেশাল ওয়ার্কস অর্গানাইজেশন ছাড়াও ১০টি ব্যাটালিয়ন, এনডিসি, বিপসট, এ.এফ.এম.সি, এম.আই.এস.টি, এনসিও’স একাডেমি ও বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টাল সেন্টারের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করতে দেশের সামরিক হাসপাতালগুলোতে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হয়েছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার অংশ হিসেবে এবং আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে নিজেদের দক্ষতাকে বৃদ্ধি করতে সেনাবাহিনীতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে আর্মি ইনফরমেশন টেকনোলজি সাপোর্ট অর্গানাইজেশন। বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আইএফএফ প্রস্তুতকরণ প্রকল্প, মাইন-টর্পেডো ডেভেলপমেন্ট, গান ডেভেলপমেন্টসহ বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ক্রমাগত প্রচেষ্টা ও নিজস্ব বিশেষজ্ঞ দ্বারা উন্নত প্রযুক্তির সফটওয়্যার তৈরি করে সাইবার নিরাপত্তা ও নেটওয়ার্ককেন্দ্রিক ওয়ারফেয়ারের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে সেনা আবাসন প্রকল্প, উন্নতমানের রসদ সরবরাহ এবং বহুতল সরকারি পারিবারিক বাসস্থান নির্মাণ করা হয়েছে। সেনাবাহিনীর শহীদ/মৃত/অবসরপ্রাপ্ত অসহায় বিধবা পত্নীদের দুস্থ ভাতা শতকরা ৫০ ভাগ বৃদ্ধি করা হয়েছে। সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তিন বাহিনীসহ দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, আমাদের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাসে আজকের এই দিনটি এক বিশেষ গৌরবময় স্থান দখল করে আছে। ১৯৭১ সালের এই দিনে সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর অকুতোভয় সদস্যরা যৌথভাবে দখলদার পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে সমন্বিত আক্রমণের সূচনা করেন। সম্মিলিত আক্রমণের মুখে শত্রুবাহিনী আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়। ১৬ ডিসেম্বর অর্জিত হয় চূড়ান্ত বিজয়। তিনি বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে ক্ষুদ্র পরিসরে যে সশস্ত্র বাহিনীর জন্ম হয়েছিল, তা আজ মহিরুহ হয়ে বিশাল প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। স্বাধীনতার পরপরই জাতির পিতা একটি উন্নত ও পেশাদার সশস্ত্র বাহিনীর প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেছিলেন। সে লক্ষ্যে তিনি ১৯৭৪ সালে প্রণয়ন করেছিলেন প্রতিরক্ষানীতি। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে সীমিত সম্পদ নিয়ে বঙ্গবন্ধু ১৯৭২ সালে গড়ে তোলেন বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি, কম্বাইন্ড আর্মস স্কুল এবং সেনাবাহিনীর প্রতিটি কোরের জন্য স্বতন্ত্র ট্রেনিং সেন্টার। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু একই সঙ্গে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনায় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর তিনটি ঘাঁটি উদ্বোধন করেন। ভারত ও যুগোশ্লাভিয়া থেকে নৌবাহিনীর জন্য যুদ্ধজাহাজ সংগ্রহ করেন। ১৯৭৩ সালে সে সময়ের সুপারসনিক মিগ-২১ যুদ্ধবিমানসহ হেলিকপ্টার ও পরিবহন বিমান এবং এয়ার ডিফেন্স রাডারের মতো অত্যাধুনিক সরঞ্জাম বিমান বাহিনীতে সংযোজন করেন। আজ স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী লগ্নে জাতির পিতা প্রণীত জাতীয় প্রতিরক্ষা নীতির শক্ত ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর পেশাদারিত্ব এবং কর্মদক্ষতা দেশের গন্ডি পেরিয়ে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা দেশের যে কোনো ক্রান্তিলগ্নে সর্বোচ্চ নিষ্ঠা ও আত্মত্যাগের মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। কভিড-১৯ মহামারী মোকাবিলায় সম্মুখসারির যোদ্ধা হিসেবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশের প্রতিটি অঞ্চলে ‘লকডাউন কার্যক্রম’ বাস্তবায়ন করেছে। সাধারণ জনগণের মধ্যে মহামারী প্রতিরোধে সচেতনতা সৃষ্টি এবং বিদেশ থেকে আগত ব্যক্তিবর্গের জন্য কোয়ারেন্টাইন সেন্টার স্থাপন ও পরিচালনা করে যাচ্ছে। এ ছাড়াও সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল, ঢাকার সমন্বিত করোনাভাইরাস চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা দেশের গন্ডি পেরিয়ে বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হয়েছে। করোনাকালে দুস্থ ও অসহায় মানুষের সাহায্যার্থে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নানাবিধ কার্যক্রমও অত্যন্ত প্রশংসা কুড়িয়েছে। করোনাভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশ নৌবাহিনী সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, বাধ্যতামূলক হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করা এবং দুস্থ ও অসহায় পরিবারকে মানবিক সহায়তা প্রদানে কাজ করে যাচ্ছে। মালদ্বীপের করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশ সরকারের প্রদত্ত চিকিৎসাসামগ্রী  নৌবাহিনীর জাহাজযোগে সেখানে পাঠানো হয়। এ ছাড়া জাতিসংঘে নিয়োজিত বাংলাদেশ নৌবাহিনী জাহাজ ‘বিজয়’ লেবাননের বৈরুতে বসবাসরত বাংলাদেশি পরিবারগুলোর মধ্যে খাদ্য ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করে। আমাদের বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টার দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে কভিড-১৯-এ আক্রান্ত জনপ্রতিনিধি, চিকিৎসক, শিক্ষক, বিশিষ্টজনসহ উল্লেখযোগ্যসংখ্যক রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তর করেছে। শেখ হাসিনা বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে আটকে পড়া দেশি-বিদেশি নাগরিকদের স্বদেশে প্রত্যাবর্তনের জন্য বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ১৭টি ফ্লাইট পরিচালনা করেছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ বিমান বাহিনী মালদ্বীপে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের করোনা চিকিৎসাসেবা প্রদানের জন্য বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর একটি মেডিকেল টিম মালদ্বীপে প্রেরণ এবং লেবাননে সংঘটিত ভয়াবহ বিস্ফোরণের পর সেখানে মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করে। আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা অতীতে যে কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনায় দক্ষতা দেখিয়েছেন। এ বছর জাতিসংঘের ৭৫তম বছরপূর্তিতে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় আমরা আবারও সর্বোচ্চ শান্তিরক্ষী প্রদানকারী দেশ হওয়ার গৌরব অর্জন করেছি। দায়িত্ব পালনকালে বাংলাদেশের যেসব শান্তিরক্ষী মারা গেছেন, আমি তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। তিনি বলেন, ইতিমধ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন মেজর জেনারেল পদবির অফিসার জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে ডেপুটি ফোর্স কমান্ডার হিসেবে মনোনীত হয়েছেন এবং ফোর্স কমান্ডার হিসেবে একজন মেজর জেনারেল বা লেফটেন্যান্ট জেনারেল পদবির অফিসার নিয়োগের কার্যক্রম বর্তমানে চলমান রয়েছে। সরকারপ্রধান বলেন, বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর অফিসার, জেসিও এবং অন্যান্য পদবির সদস্যদের ছুটি নগদায়নের অর্থ প্রদান ১২ মাসের পরিবর্তে ১৮ মাসে উন্নীত করা হয়েছে। জেসিও ও অন্যান্য পদবির পেনশনযোগ্য চাকরিকাল ১৫ বছরের পরিবর্তে ১০ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। সশস্ত্র বাহিনীর জেসিও এবং অন্যান্য পদবির সদস্যদের জন্য মৃত্যুবরণ এবং স্থায়ীভাবে অক্ষম হওয়ার ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ বাবদ অনুদানের পরিমাণ বৃদ্ধি করা হয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের সরকারই সর্বপ্রথম সশস্ত্র বাহিনীতে নারী সদস্য নিয়োগ করে। গত বছর থেকে সেনাবাহিনীতে পাঁচজন নারী সদস্য লে. কর্নেল পদে উন্নীত হয়ে সম্মুখসারির যুদ্ধের ইউনিটগুলোর ইউনিট অধিনায়ক হিসেবে কর্মরত আছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে প্রথমবারের মতো চিকিৎসাবিদ্যা ক্ষেত্রে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নুরুন্নাহার ফাতেমা বেগমকে বাংলাদেশ সরকারের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পদক ‘স্বাধীনতা পদক-২০১৯’ এ ভূষিত করা হয়। আমাদের সরকারের সময়ই প্রথমবারের মতো বিমান বাহিনীতে মহিলা বিমান সেনা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তিন বাহিনী প্রধানের সাক্ষাৎ : সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে পৃথকভাবে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম শাহীন ইকবাল এবং বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাত।

গতকাল সকালে তিন বাহিনীর প্রধান গণভবনে যান বলে প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান জাহিদ তুষার জানিয়েছেন। সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনাভাইরাস মহামারীসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় এগিয়ে আসায় সশস্ত্র বাহিনীর প্রশংসা করেন। একুশ শতকের ভূ-রাজনৈতিক এবং সামরিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষম সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তুলতে ১২ বছর ধরে আওয়ামী লীগ সরকারের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা এবং প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। ভবিষ্যতেও সশস্ত্র বাহিনীর উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন তিনি। গত ১২ বছরে সশস্ত্র বাহিনীর ব্যাপক উন্নয়ন হওয়ায় তিন বাহিনী প্রধান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ দেন ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। প্রধানমন্ত্রী তিন বাহিনী প্রধানকে সশস্ত্র বাহিনী দিবসের শুভেচ্ছা জানান। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তাবিষয়ক উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. মাহফুজুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল নকিব আহমদ চৌধুরী।

সশস্ত্র বাহিনী দিবস উদযাপিত : যথাযথ মর্যাদা ও উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে গতকাল সশস্ত্র বাহিনী দিবস উদযাপিত হয়েছে। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দিনটি উদযাপন শুরু হয়। করোনা মহামারীর কারণে এ বছর আয়োজন কম হলেও ছিল নানান ধরনের রাষ্ট্রীয় ও সরকারি আনুষ্ঠানিকতা।

দিবসটি উপলক্ষে তিন বাহিনী প্রধানরা রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। আন্তবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর আইএসপিআর জানিয়েছে, গতকাল সকালে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ হতে তাঁদের সামরিক সচিবরা ঢাকা সেনানিবাসের শিখা অনির্বাণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ শাহীন ইকবাল এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাত নিজ নিজ বাহিনীর পক্ষ থেকে সম্মিলিতভাবে শিখা অনির্বাণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল তারিক আহমেদ সিদ্দিক, আরসিডিএস, পিএসসি (অব.), তিন বাহিনী প্রধান ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ (এএফডি)-এর প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ ছাড়াও ‘সশস্ত্র বাহিনী দিবস-২০২০’ উপলক্ষে গত সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ বেসরকারি টেলিভিশন এবং রেডিও চ্যানেলে একযোগে প্রচার করা হয়।

সেনাবাহিনী প্রধানকে ‘সেনাবাহিনী পদক’ প্রদান : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল গণভবনে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদকে ‘সেনাবাহিনী পদক’ (এসবিপি) প্রদান করেন। সেনাবাহিনীর উন্নয়ন ও আধুনিকায়নে দৃষ্টান্তমূলক অবদানের জন্য সেনাবাহিনী প্রধানকে এ পদক প্রদান করা হয়। ‘সশস্ত্র বাহিনী দিবস-২০২০’ উপলক্ষে গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি সেনাবাহিনী প্রধানের হাতে এ পদক তুলে দেন।

শান্তিকালীন পদক পেল নৌবাহিনীর ৪০ সদস্য : ‘সশস্ত্র বাহিনী দিবস-২০২০’ উপলক্ষে শান্তিকালীন সময়ে বীরত্ব ও সাহসিকতাপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৯ সালের জন্য বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ৪০ কর্মকর্তা ও নাবিককে শান্তিকালীন পদকে ভূষিত করা হয়েছে। এদের মধ্যে তিনজন নৌবাহিনী পদক (এনবিপি), পাঁচজন অসামান্য সেবা পদক (ওএসপি), পাঁচজন বিশিষ্ট সেবা পদক (বিএসপি), সাতজন নৌ গৌরব পদক (এনজিপি), ১০ জন নৌ উৎকর্ষ পদক (এনইউপি) এবং ১০ জন নৌ পারদর্শিতা পদক (এনপিপি) অর্জন করেন। গতকাল নৌসদরস্থ জুপিটার হলে শান্তিকালীন এ পদক প্রদান অনুষ্ঠিত হয়। পদকপ্রাপ্তদের মধ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল শাহীন ইকবাল তিনজন কর্মকর্তাকে নৌবাহিনী পদক (এনবিপি) পরিয়ে দেন। এরা হলেন ভাইস অ্যাডমিরাল এম আখতার হাবীব (অব.) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমআরএমইউ)-এর ভিসি রিয়ার অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ খালেদ ইকবাল এবং সহকারী নৌপ্রধান অপারেশন্স রিয়ার অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ আবু আশরাফ। এ ছাড়া নৌপ্রধান চারজনকে অসামান্য সেবা পদক, দুজনকে বিশিষ্ট সেবা পদক, চারজনকে নৌ গৌরব পদক, দুজনকে নৌ উৎকর্ষ পদক এবং একজনকে নৌ পারদর্শিতা পদক পরিয়ে দেন। এ সময় নৌসদরের অন্যান্য পিএসও ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পদকপ্রাপ্ত অন্যান্য কর্মকর্তা ও নাবিকদের ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনা নৌ অঞ্চলের নিজ নিজ নৌ প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ কর্তৃক পদক প্রদান করা হয়।


আপনার মন্তব্য