শিরোনাম
প্রকাশ : রবিবার, ১৪ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ টা
আপলোড : ১৩ মার্চ, ২০২১ ২৩:৪৯

নিরস্ত্র জাতি ওই রাতে ঢুকে পড়ল সশস্ত্র প্রতিরোধ যুদ্ধে

হাসানুল হক ইনু

নিরস্ত্র জাতি ওই রাতে ঢুকে পড়ল সশস্ত্র প্রতিরোধ যুদ্ধে

বাংলাদেশের ইতিহাসে মার্চ ঐতিহাসিক ঘটনাবলি ও রাজনৈতিক পদক্ষেপের মাস। ১৯৭১ সালের ২ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বটতলায় স্বাধীন বাংলার পতাকা প্রদর্শন, ৩ মার্চ পল্টন ময়দানে স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ, ৭ মার্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণ, রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ও দিকনির্দেশনা প্রদান, ২৩ মার্চ সারা বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন- সব মিলিয়ে মার্চ মাসটা স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠাকে অনিবার্য করে তোলে। এই মাসের ৭ তারিখের পরে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ও কর্তৃত্বে স্বশাসিত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা লাভ করে। এই মার্চ মাসে বাংলাদেশ পতাকা পায়, জাতীয় সংগীত পায় এবং বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ও কর্তৃত্বে স্বশাসিত বাংলাদেশ পায়। এই মাসের ২৬ তারিখ বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণার মধ্য দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা লাভ করে। বাংলাদেশের কর্তৃত্বভার গ্রহণ করেন বঙ্গবন্ধু নিজে। মাসটি নিরস্ত্র বাঙালি জাতিকে সশস্ত্র হতে উদ্দীপ্ত করে। এ জন্য একাত্তরের মার্চ মাসটি বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। মার্চ মাস নাগাদ যারা দোদুল্যমান, নীরব, নিষ্ক্রিয় ছিলেন, এই মাসে এসে তারাও বঙ্গবন্ধুর স্বশাসিত বাংলাদেশের পক্ষে সমর্থন জ্ঞাপন করেন। ৯ মার্চ জনসভার মধ্য দিয়ে মওলানা ভাসানী, অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদের নেতৃত্বে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি, মণি সিংয়ের নেতৃত্বে কমিউনিস্ট পার্টি- সবাই বঙ্গবন্ধুকে সমর্থন দিয়ে বাংলাদেশের পক্ষে অবস্থান নেয়। তৎকালীন রাজনৈতিক অঙ্গনে কেবলমাত্র মুসলিম লীগ ও পাকিস্তানের হাতেগোনা দালাল ছাড়া সব রাজনৈতিক দল ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের পর বঙ্গবন্ধুর কর্তৃত্বে ও নেতৃত্বে স্বশাসিত বাংলাদেশের পক্ষে অবস্থান গ্রহণ করে। আমি তখন বুয়েটে পড়াশোনা শেষ করেছি। ’৬২ সাল থেকে ষাটের দশকে স্বাধীন বাংলা প্রতিষ্ঠার জন্য যে নিউক্লিয়াস কাজ করছিল, সেই নিউক্লিয়াসের একজন সদস্য হিসেবে কাজ করছিলাম আমিও। আমি সহযোদ্ধাদের সঙ্গে নিয়ে ঢাকায় অস্ত্র, গোলাবারুদ সংগ্রহের কাজে লিপ্ত ছিলাম। সশস্ত্র সংগ্রামের প্রস্তুতির কাজ করছিলাম। মার্চজুড়ে আমরা আমাদের উদ্ভাবিত  গ্রেনেডের পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাই। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে গ্রেনেড উৎপাদনের একটা প্রকল্প হাতে নিই। আমাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতেন প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা বিশিষ্ট সাংবাদিক মাসুদ আহমেদ রুমী, বাসদ নেতা মাহবুবুল হকসহ আরও অনেকে। ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানিরা আক্রমণ চালাল স্বাধীন বাংলাদেশ দখল করার জন্য। তখন বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা এল। একটা নিরস্ত্র জাতি সে রাতে ঢুকে পড়ল সশস্ত্র প্রতিরোধ যুদ্ধে।

লেখক : জাসদ সভাপতি, অনুলেখক : শামীম আহমেদ


আপনার মন্তব্য