শনিবার, ১০ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ টা

হাইতির প্রেসিডেন্টকে মেরেছে বিদেশি হিট স্কোয়াড

প্রতিদিন ডেস্ক

হাইতির প্রেসিডেন্ট জোভেনেল মইসিকে যে দলটি হত্যা করেছে তাদের বেশির ভাগই ছিল কলম্বিয়ার অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য। ওই হিট স্কোয়াডের সদস্যদের মধ্যে ২৬ জন কলম্বিয়ার ও দুজন হাইতিয়ান বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক বলে জানিয়েছেন হাইতির পুলিশ প্রধান লিওন চার্লস। বিবিসি, রয়টার্স।

পুলিশ প্রধান আরও জানান, এদের মধ্যে দুই মার্কিনিসহ ১৭ জনকে আটক করা হয়েছে ও আটজন পলাতক। দলটির বাকি সদস্যরা রাজধানী পোর্ট-অ-প্রিন্সে পুলিশের সঙ্গে গোলাগুলিতে নিহত হয়েছে।

আটকদের মধ্যে কয়েকজনকে গত বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমের সামনে হাজির করা হয়। এ সময় পুলিশ তাদের কাছ থেকে জব্দ করা অস্ত্রশস্ত্র এবং কলম্বিয়ার পাসপোর্ট দেখায়। পুলিশ প্রধান লিওন চার্লস বলেন, ‘এ বিদেশিরা প্রেসিডেন্টকে হত্যা করতে আমাদের দেশে আসে। আমরা তদন্ত ও পলাতক আট ভাড়াটে সেনাকে ধরতে অভিযান আরও জোরদার করব।’  উল্লেখ্য, গত বুধবার দিবাগত রাতে প্রেসিডেন্টের বাসভবনে হানা দিয়ে একদল বন্দুকধারী মইসি এবং তাঁর স্ত্রীর ওপর গুলি চালায়। কর্তৃপক্ষ পরে ঘটনাস্থল থেকে মইসির মৃতদেহ উদ্ধার করে। তাঁর গুলিবিদ্ধ স্ত্রী মার্টিনকে ফ্লোরিডায় নেওয়া হয়। মার্টিনের অবস্থা এখন স্থিতিশীল বলে জানানো হয়েছে। প্রেসিডেন্টের ওপর এই হামলার পরিকল্পনা কারা করেছে এবং তাদের উদ্দেশ্য কী, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী ক্লদ জোসেফ বলেছেন, হাইতির অভিজাত ধনীদের বিরুদ্ধে মইসির লড়াই-ই তাঁকে ‘টার্গেটে’ পরিণত করতে পারে। এদিকে হাইতির তদন্ত কার্যক্রমে সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছে কলম্বিয়া। আর যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হাইতিতে তাদের কোনো নাগরিক আটক হয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি তারা। প্রেসিডেন্টকে হত্যার এ ঘটনা সহিংসতা কবলিত দরিদ্র ক্যারিবীয় দেশটিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার পোর্ট-অ-প্রিন্সের বিভিন্ন সড়কে ক্ষব্ধ নাগরিকদের ভিড় দেখা গেছে। বেশ কয়েকটি গাড়ি পোড়ানোরও ঘটনা ঘটেছে। সন্দেহভাজনদের যে থানায় আটকে রাখা হয় তার বাইরেও বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষের ভিড় দেখা গেছে। দেশটিতে জরুরি অবস্থাও জারি আছে।

সর্বশেষ খবর