বৃহস্পতিবার, ২৬ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ টা

মা-ছেলেকে আটক করে মুক্তিপণ দাবি এএসপিসহ আটক ৩

নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর ও দিনাজপুর প্রতিনিধি

দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে মা ও ছেলেকে অপহরণের পর মুক্তিপণ আদায়ের চেষ্টার অভিযোগে সিআইডির রংপুর কার্যালয়ের এএসপিসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মঙ্গলবার বিকালে দিনাজপুর সদরের বাঁশেরহাট এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। পরে অপহৃত জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে গতকাল চিরিরবন্দর থানায় মামলা দায়ের করলে পুলিশ পাঁচজনকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করে। পাঁচ আসামির মধ্যে আদালতে একজন ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। পরে পাঁচজনকেই কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন আদালত।

চিরিরবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুব্রত কুমার সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আটক ব্যক্তিরা হলেন- রংপুর সিআইডির এএসপি সারোয়ার কবির, এএসআই হাসিনুর রহমান ও কনস্টেবল আহসানুল হক ফারুক, মাইক্রোবাস চালক হাবিব এবং এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ফসিউল আলম পলাশ।

এএসপি সরোয়ারের বাড়ি পঞ্চগড় জেলায়, এএসআই হাসিনুরের বাড়ি দিনাজপুরের বিরল উপজেলায় এবং কনস্টেবল আহসানুলের বাড়ি লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জ উপজেলায়। অন্য দুজনের ঠিকানা সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। রংপুর সিআইডি অফিসের এসপি আতাউর রহমান বলেন, তাদের অপকর্মের দায়ভার সিআইডি নেবে না। অনৈতিক কাজ করেছেন তারা। দিনাজপুর পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।

রংপুর সিআইডি, দিনাজপুর পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি মাসে রংপুর সিআইডির কাছে পলাশ নামের এক ব্যক্তি চিরিরবন্দর উপজেলার লুৎফর রহমানের বিরুদ্ধে ৫০ লাখ টাকা প্রতারণার অভিযোগ করেন। অভিযোগের বিষয়ে রংপুর অফিসকে না জানিয়ে একটি ভাড়া করা মাইক্রোবাসে সিআইডির এএসপিসহ তিনজন দিনাজপুরে যান। এর মধ্যে এএসআই হাসিনুর রহমান ও কনস্টেবল আহসানুল হক ছুটিতে ছিলেন। এএসপি সরোয়ার কবির দায়িত্বরত থাকলেও রংপুর অফিসকে অভিযানের বিষয়ে কোনো কিছু জানাননি। সম্পূর্ণ অনৈতিকভাবে তারা দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে গিয়ে এ ঘটনা ঘটিয়েছেন। এই অনৈতিক কর্মকান্ডের দায় কোনোভাবেই সিআইডি নিতে পারে না বলে জানিয়েছেন রংপুরের সিআইডি কর্মকর্তা।

জানা গেছে, সোমবার রাত সাড়ে ৯টায় লুৎফরের বাড়িতে যান এএসপি সারোয়ার কবিরসহ তিনজন। লুৎফরকে না পেয়ে তার স্ত্রী জহুরা খাতুন (৪২) ও ছেলে জাহাঙ্গীর আলমকে (২৫) একটি মাইক্রোবাসে উঠিয়ে সৈয়দপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে তাদের আটকে রাখেন। এএসপি সারোয়ার কবিরসহ আসামিরা পরিবারের লোকজনের কাছে ফোন করে ১৫ লাখ টাকা দাবি করেন। পরে এ ঘটনায় থানা পুলিশের কাছে যান ভুক্তভোগীর স্বজনরা। একপর্যায়ে মঙ্গলবার বিকালে ভুক্তভোগীর স্বজনরা সাড়ে ৮ লাখ টাকা নিয়ে তাদের সঙ্গে দেখা করতে চান। সিআইডির ওই তিনজন প্রথমে তাদের রানীরবন্দর আসতে বলেন। সেখানে এলে তাদের টাকা নিয়ে দশমাইল আসতে বলা হয়। আবার দশমাইল এলে বাঁশেরহাট আসতে বলেন তারা। পরে দিনাজপুর জেলা পুলিশ ও সিআইডি মিলে বাঁশেরহাট থেকে তাদের আটক করে। আটকের পর তাদের প্রথমে চিরিরবন্দর, পরে দিনাজপুর পুলিশ সুপার কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়।

মা-ছেলেকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় চেষ্টার অভিযোগে পুলিশ রংপুর সিআইডির এএসপি সারোয়ার কবীর, এএসআই হাসিনুর রহমান, কনস্টেবল আহসানুল হক ফারুক ও মাইক্রোবাস চালক হাবিব এবং এ ঘটনায় জড়িত থাকার দায়ে ফসিউল আলম পলাশ নামে আরও একজনকে আটক করে। পরে গতকাল এ বিষয়ে অপহৃত জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে চিরিরবন্দর থানায় মামলা দায়ের করলে পুলিশ ওই পাঁচজনকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করে। পাঁচ আসামির মধ্যে আদালতে একজন ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। পরে পাঁচজনকেই কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেয় আদালত। এ ছাড়া অপহরণের শিকার জোহরা খাতুন ও জাহাঙ্গীর আলমের জবানবন্দি আদালত রেকর্ড করে। গতকাল বিকালে গ্রেফতার পাঁচজনকে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শিশির কুমার বসুর আদালতে সোপর্দ করে পুলিশ। আসামি ফসিউল আলম পলাশের ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ড করেন বিচারক। পরে বিচারক পাঁচজনকেই কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন।

এই বিভাগের আরও খবর