শিরোনাম
প্রকাশ : ১৯ মে, ২০২১ ১৩:০০
প্রিন্ট করুন printer

এশিয়ান আমেরিকান বিদ্বেষী হামলার বিল কংগ্রেসে পাশ

বিচার বিভাগে পৃথক দফতর ছাড়াও সর্বস্তরে চালু হবে হটলাইন

লাবলু আনসার, যুক্তরাষ্ট্র:

এশিয়ান আমেরিকান বিদ্বেষী হামলার বিল কংগ্রেসে পাশ
Google News

চীন থেকে ছড়ানো হয়েছে করোনাভাইরাস-শুরুতেই গত বছর এমন মন্তব্য করেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরপরই চায়নিজ এবং তাদের মত দেখতে লোকজন ক্রমাগতভাবে আক্রান্ত হতে থাকেন সারা আমেরিকায়। কখনো কখনো ট্রাম্প একে ‘চায়না-ভাইরাস’ বলেও অভিহিত করেন। এ নিয়ে গণমাধ্যমে টাম্পের জাতিগত বিদ্বেষের কঠোর সমালোচনা করা হলেও তিনি থামেননি। 

অধিকন্তু শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমসমূহে সরাসরি সম্প্রচারিত হোয়াইট হাউজের প্রেস কনফারেন্সকালেও চায়নিজদের মত দেখতে সাংবাদিকদেরকেও আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে কথা বলা থেকে বিরত থাকেননি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ক্ষুদ প্রেসিডেন্ট কর্তৃক এমন আচরণে আস্কারা পায় উগ্রপন্থি অনেকে। যার জের চলছে হোয়াইট হাউজ থেকে ট্রাম্পের বিদায়ের পরও। গত ১৬ মার্চ আটলান্টায়  ম্যাসেজ পার্লারে নির্বিচার গুলিতে ৬ এশিয়ানসহ ৮ নারীকে হত্যার ঘটনার পরই এশিয়ান-আমেরিকান বিদ্বেষী আচরণের বিরুদ্ধে হোয়াইট হাউজও সোচ্চার হয়। 

প্রেসিডেন্ট বাইডেন এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস আটলান্টায় গিয়ে এশিয়ান-আমেরিকানদের সাথে বৈঠকে মিলিত হয়ে তাদের নিরাপত্তায় যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের অঙ্গিকার করেন। প্রায় একইসময় অর্থাৎ ২০ মার্চ কংগ্রেসে একটি বিল উঠে। প্রতিনিধি পরিষদে সেটি উত্থাপন করেন নিউইয়র্কের এশিয়ান-আমেরিকান কংগ্রেসওম্যান গ্রেস মেং। তা পাশ হলেও সিনেটে ভিন্নভাবে আরেকটি বিল পাশ হওয়ায় সিনেট বিলের পরিপূরক বিলটি ১৮ মে মঙ্গলবার পাশ হলো প্রতিনিধি পরিষদে। সেটির রূপরেখাও তৈরী করেন গ্রেস মেং। ইউএস সিনেটে মাত্র একজন রিপাবলিকান বিপক্ষে (৯৪-১) ভোট দিলেও প্রতিনিধি পরিষদে সে সংখ্যা ৬২ হয়েছে। 

৩৬৪-৬২ ভোটে তা পাশ হবার পরই হোয়াইট হাউজে পাঠানো হয়েছে প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের জন্যে। ইতিপূর্বেই প্রেসিডেন্ট বাইডেন অঙ্গিকার করেছেন যে, তার কাছে পাঠানো মাত্র স্বাক্ষর করবেন বিলটিতে অর্থাৎ তা আইনে পরিণত হবে। 

এ বছরের প্রথম কোয়ার্টার অর্থাৎ জানুয়ারি থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত তিন মাসে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এশিয়ান-বিদ্বেষী আক্রমণের ঘটনা বেড়েছে ১৬৯%। সান বারনার্ডোতে অবস্থিত ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির ‘সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অব হেইট এ্যান্ড এক্সট্রিমিজম’র তথ্য অনুযায়ী বিদ্বেষী আক্রমণের সংখ্যা আরো বেশী হবে। কারণ, নানাবিধ কারণে অনেকেই পুলিশে রিপোর্ট করেননি। এই বিল উত্থাপনকারিরা অপর এক জরিপের উদ্ধৃতি দিয়ে সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদকে অবহিত করেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের ১৬টি সিটিতে গত বছর করোনাকালে হেইট ক্রাইম কমলেও এশিয়ান-আমেরিকানদের বিরুদ্ধে হেইট ক্রাইম বেড়েছে ১৪৫ শতাংশ। 

এই বিলের পরিপ্রেক্ষিতে বিচার বিভাগে ‘এশিয়ান-আমেরিকান বিরোধী অপরাধের তথ্য সংরক্ষণ ও পর্যালোচনার পাশাপাশি এহেন অবস্থা প্রতিরোধে করণীয় কী’ তার রূপরেখা তৈরী ও বাজেট বরাদ্দ করা হবে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনীর জন্যে। এই বিল পাশের পরই ক্যাপিটল হিলের সংবাদ সম্মেলনে প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলসিসহ শীর্ষ কর্মকর্তাগণকে পাশে নিয়ে কংগ্রেসওম্যান গ্রেস মেং সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান। কারণ, এশিয়ান-আমেরিকানদের নিরাপত্তায় এমন কোন বিধি আগে কখনো হয়নি কংগ্রেসে। গ্রেস মেং বলেন, এই বিলের মাধ্যমে এটিও প্রমাণিত হলো যে, এশিয়ান-আমেরিকানরাও এই সমাজের অংশ অর্থাৎ তারা সেকেন্ড ক্লাস সিটিজেন নন এবং তাদের ওপর হামলার অর্থ হচ্ছে সকল আমেরিকান আক্রান্ত হওয়া। 

কংগ্রেসনাল এশিয়ান প্যাসিফিক আইল্যান্ডার্স ককাসের চেয়ার কংগ্রেসওম্যান (ক্যালিফোর্নিয়া-ডেমক্র্যাট) জুডি চু এ সময় বলেন, হেইট ক্রাইম বিরোধী এমন একটি বিধি তৈরীর দাবিটি অনেক পুরনো। এটি একটি ঐতিহাসিক পরিক্রমা সকল মানুষের নিরাপত্তা বিধানে। 

কংগ্রেসে দুই রিপাবলিকান এশিয়ান-আমেরিকানের একজন হলেন কংগ্রেসওম্যান মিশেল স্টিল (ক্যালিফোর্নিয়া)। তিনি বলেন, আমার অনেক সহকর্মীর সমর্থন লাভে সক্ষম না হলেও দুঃখ নেই। কারণ অধিকাংশই ভোট দিয়েছেন বিলের পক্ষে অর্থাৎ তারাও এশিয়ান-আমেরিকানদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষী হামলায় ক্ষুব্দ। এটি খুবই ইতিবাচক একটি দিক সম্প্রীতির বন্ধন জাগ্রত রাখার ক্ষেত্রে। বিলের অন্যতম স্পন্সর ভার্জিনিয়ার কংগ্রেসম্যান  (ডেমক্র্যাট) ডন বিয়ার বলেন, বছরের পর বছর ধরেই একটি কালচার চালু রয়েছে ধর্ম-বর্ণ-জাতিগত বিদ্বেষী হামলার তথ্য যতটা সম্ভব গোপন রাখার। এখন আর সেটি সম্ভব হবে না। সকলেই স্বাচ্ছন্দে তা আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনীর নিকট জানাতে পারবেন। 

কংগ্রেসওম্যান গ্রেস মেং এবং ইউএস সিনেটর (হাওয়াই) ম্যাজি হিরোনোর এই বিল দুটি আইনে পরিণত হওয়ায় বিচার বিভাগে পদস্থ এক কর্মকর্তা নিয়োগের পাশাপাশি স্বতন্ত্র একটি দফতর চালু এবং স্টেট পরিচালিত হটলাইন প্রতিষ্ঠা করা হবে। হেইট ক্রাইম চিহ্নিত করা যাবে-এমন বিশেষ প্রশিক্ষণ কোর্স চালু করা হবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনীর জন্য। জাতিগত বিদ্বেষ দূর করতে সক্ষম জনসচেতনতা বৃদ্ধির প্রকল্প হাতে নেয়া হবে।


বিডি প্রতিদিন/হিমেল

এই বিভাগের আরও খবর